রোববার, ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ঢাকা

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি-ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার বন্ধের প্রস্তাব ৩ দেশের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৫:৩১ পিএম

শেয়ার করুন:

ইরানের পারমানবিক কর্মসূচি-ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার বন্ধের প্রস্তাব ৩ দেশের

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা কমানোর লক্ষ্যে আগামীকাল শুক্রবার ওমানে বৈঠকে বসতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। এরআগেই গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার জন্য একটি কাঠামো উপস্থাপন করেছে মধ্যস্থতাকারীরা তিন দেশ— কাতার, তুরস্ক ও মিসর। 

আলোচনার সাথে পরিচিত দুটি সূত্রে বরাতে সেই কাঠামো প্রস্তাব তুলে ধরেছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা। 


বিজ্ঞাপন


নাম প্রকাশ না করার শর্তে দুজন সূত্র জানিয়েছেন, প্রস্তাবিত কাঠামোর মূল বিষয়গুলির মধ্যে রয়েছে- ইরানকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বহুলাংশে হ্রাস করতে হবে এবং দেশটির ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের ক্ষেত্রেও বিধিনিষেধ থাকবে। একই সঙ্গে হিজবুল্লাহ ও হুতির মতো এই অঞ্চলে ইরানের মিত্র গোষ্ঠীদের অস্ত্র সরবরাহ বন্ধ করতে হবে।

এক ইরানি সূত্র আল জাজিরাকে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি যে আলোচনায় অংশ নেওয়ার কথা, সেটি তুরস্কের পরিবর্তে ওমানে অনুষ্ঠিত হবে। 

এই কূটনৈতিক উদ্যোগ এমন এক সময়ে শুরু হচ্ছে, যখন ইরানের ওপর সম্ভাব্য মার্কিন হামলার আশঙ্কায় পুরো অঞ্চল উদ্বিগ্ন। গত মাসে ইরানে বিক্ষোভকারীদের ওপর সহিংস দমন-পীড়নের পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আরব সাগরে মার্কিন সামরিক শক্তি জড়ো করার নির্দেশ দেন।

প্রস্তাবিত কাঠামোতে যা আছে

প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী, ইরান প্রথম তিন বছর ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ পুরোপুরি বন্ধ রাখবে। এরপর তারা ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ১ দশমিক ৫ শতাংশের নিচে সীমিত রাখতে সম্মত হবে। 

এছাড়াও ইরানের বর্তমান উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত, যার মধ্যে প্রায় ৪৪০ কেজি ইউরেনিয়াম রয়েছে যা ৬০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ করা, তা তৃতীয় কোনো দেশে স্থানান্তর করতে হবে।

মধ্যস্থতাকারীরা আরও প্রস্তাব দিয়েছেন, ইরান যেন অঞ্চলের তার অ-রাষ্ট্রীয় মিত্রদের কাছে অস্ত্র ও প্রযুক্তি হস্তান্তর না করে। এছাড়া এই কাঠামোর আওতায় ইরান প্রতিশ্রুতি দেবে যে তারা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের সূচনা করবে না। তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের সেই দাবির চেয়ে কম, যেখানে ওয়াশিংটন চেয়েছিল ইরান তাদের ক্ষেপণাস্ত্রের সংখ্যা ও পাল্লা সীমিত করুক।

তিন মধ্যস্থতাকারীর প্রস্তাবনায় তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে একটি ‘অ-আগ্রাসন চুক্তি’ করার কথাও রয়েছে বলে একটি সূত্র জানিয়েছে। এই প্রস্তাবিত কাঠামোর বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র বা ইরান কী প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে—তা এখনো জানা যায়নি।

তবে ইরান আগেই জানিয়েছে, তাদের ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি আলোচনার ‘লাল রেখা’ এবং এ বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।

রয়টার্স জানিয়েছে, ইসরায়েলের সঙ্গে সাম্প্রতিক সংঘাতের পর ইরান দাবি করেছে– তারা আবার ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত করছে। এমনকি নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়লে তা ব্যবহারেও দ্বিধা করবে না।

এক আঞ্চলিক কর্মকর্তার বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, শুক্রবার হতে যাওয়া আলোচনাকে শুধু পারমাণবিক কর্মসূচির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতেই ভেন্যু পরিবর্তনের অনুরোধ করে তেহরান। তেহরানের আশঙ্কা ছিল, অন্য ভেন্যুতে আলোচনায় ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রসহ অতিরিক্ত ইস্যু যুক্ত হতে পারে। ফলে বৈঠকটি তুরস্কে হওয়ার কথা থাকলেও ইরান তা সরানোর অনুরোধ জানায়।

ওই কর্মকর্তা জানান, ইরান চেয়েছিল বৈঠকটি ওমানে অনুষ্ঠিত হোক, যাতে দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আগের দফার আলোচনার ধারাবাহিকতা বজায় থাকে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র আলোচ্যসূচিতে আরও বিষয় যুক্ত করতে আগ্রহী ছিল। ওয়াশিংটন স্পষ্ট করে জানিয়েছে, যেকোনো চুক্তিতে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, ক্ষেপণাস্ত্র এবং তাদের সহযোগী গোষ্ঠীগুলোর ওপর নিয়ন্ত্রণ থাকতে হবে।

২০১৫ সালে তারা যুক্তরাষ্ট্রসহ কয়েকটি দেশের সঙ্গে যৌথ ব্যাপক কর্মপরিকল্পনা বা জেসিপিওএ চুক্তিতে সই করেছিল। ওই চুক্তির আওতায় নিষেধাজ্ঞা শিথিলের বিনিময়ে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ সীমিত করার কথা ছিল। কিন্তু তিন বছর পর ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রকে ওই চুক্তি থেকে বের করে নেন।

সূত্র: আলজাজিরা, রয়টার্স

এমএইচআর

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর