শনিবার, ১৪ মার্চ, ২০২৬, ঢাকা

এপস্টেইনের সঙ্গে কাটানো প্রতিটি মুহূর্তের জন্য ক্ষমা চাইলেন বিল গেটস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৪:৩২ পিএম

শেয়ার করুন:

এপস্টেইনের সঙ্গে কাটানো প্রতিটি মুহূর্তের জন্য ক্ষমা চাইলেন বিল গেটস

কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইন সম্পর্কিত ৩০ লাখের বেশি নথি প্রকাশ করে মার্কিন বিচার বিভাগ (ডিওজে)। এসব নথিতে বিশ্বজুড়ে প্রভাবশালী বহু ব্যক্তির মতো মাইক্রোসফটের সহপ্রতিষ্ঠাতা বিল গেটসের নাম থাকা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে। এবার এ বিষয়ে মুখ খুললেন বিল গেটস।

ডিওজে-এর প্রকাশিত নথিতে দেখা যায়, একটি ড্রাফট ইমেইল এপস্টেইন লিখেছেন, বিল গেটস বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়েছেন। এমনকি এক রুশ নারীর সঙ্গে শয্যাসঙ্গী হওয়ার পর যৌনরোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন তিনি। সুস্থ হতে তাকে ওষুধও দেন এপস্টেইন। এছাড়াও গোপনে স্ত্রী মিলিন্দা গেটসকে অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়াতে চেয়েছিলেন গেটস।


বিজ্ঞাপন


তবে বুধবার অস্ট্রেলিয়ার নাইন নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বিল গেটস বলেন, ‘আমি তার (এপস্টেইনের) সঙ্গে যতটা সময় কাটিয়েছি, তার প্রতিটা মিনিটের জন্য আমি অনুতপ্ত। আমি ক্ষমা চাই।’

ই-মেইলের তথ্য মিথ্যা দাবি করে তিনি বলেন, ‘ওই ই-মেইল কখনো পাঠানো হয়নি। ই-মেইলের তথ্যগুলো মিথ্যা। আমি জানি না তার চিন্তাভাবনা কী ছিল। তিনি কোনোভাবে আমাকে আক্রমণের চেষ্টা করেছিলেন কি না, জানি না।’

বিল গেটস আরও জানান, এপস্টেইনের ২০১১ সালে প্রথম যোগাযোগ হয় তার। এরপর পরের তিন বছর একাধিকবার এপস্টেইনের সঙ্গে ডিনারে অংশ নেন তিনি। কিন্তু কখনো ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে অবস্থিত তার সেই দ্বীপে যাননি এবং কোনো নারীর সঙ্গে সম্পর্কও ছিল না।  

তিনি বলেন, ‘পুরো বিষয়টি ছিল এমন, তিনি (এপস্টেইন) অনেক ধনী ব্যক্তিকে চিনতেন এবং দাবি করতেন যে, তিনি তাঁদের দিয়ে বৈশ্বিক স্বাস্থ্য খাতে অর্থ দিতে পারবেন। এখন পেছনে ফিরে তাকালে মনে হয়, সেটি ছিল একটি ভুল পথ।’


বিজ্ঞাপন


তবে বিল গেটসের সাবেক স্ত্রী মেলিন্ডা গুরুতর দাবি করেছেন। তিনি বলেছেন, দণ্ডপ্রাপ্ত এপস্টেইনের সঙ্গে সম্পর্ক ও সময় কাটানো নিয়ে মাইক্রোসফটের সহপ্রতিষ্ঠাতার এখনো অনেক প্রশ্নের উত্তর দেওয়া বাকি আছে।  

প্রসঙ্গত, গত ৩০ জানুয়ারি কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টেইনের বিরুদ্ধে মানি-লন্ডারিং ও যৌন অপরাধের তদন্তের সঙ্গে যুক্ত ৩০ লাখের বেশি পৃষ্ঠার নথি প্রকাশ করে মার্কিন বিচার বিভাগ। এসব নথিতে বিশ্বজুড়ে প্রভাবশালী বহু ব্যক্তি, সাবেক ও বর্তমান বিশ্বনেতা, শিল্পপতি ও কূটনীতিকদের যোগাযোগ, ই-মেইল ও ব্যক্তিগত তথ্য রয়েছে। এরমধ্যে ব্রিটিশ রাজপরিবারের প্রিন্স অ্যান্ড্রু, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন, বিশ্বের শীর্ষ ধনী ইলন মাস্ক, মাইক্রোসফটের প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নামও নথিতে এসেছে। 

জেফরি এপস্টেইন ছিলেন একজন প্রভাবশালী মার্কিন অর্থদাতা। ২০০৫ সালে এক নাবালিকাকে শ্লীলতাহানির অভিযোগের ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে প্রথম তদন্ত শুরু হয়। ২০০৮ সালে তিনি নাবালিকাকে দেহব্যবসায় বাধ্য করার দায়ে দোষী সাব্যস্ত হন। তবে সে সময় তিনি প্রভাব খাটিয়ে প্রসিকিউটরদের সঙ্গে একটি আপিল চুক্তির মাধ্যমে বড় সাজা থেকে বেঁচে যান এবং ১৮ মাসের জেল খাটেন।

পরবর্তীতে ১১ বছর পর ২০১৯ সালে তার বিরুদ্ধে আবার নারী-কিশোরী পাচারের অভিযোগ আনা হয় এবং তাকে গ্রেফতার করা হয়। ওই বছরই নিউইয়র্কের একটি কারাগারে বন্দী অবস্থায় তিনি আত্মহত্যা করেন বলে জানায় জেল কর্তৃপক্ষ। 

সূত্র: এনডিটিভি

এমএইচআর

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর