মার্কিন বিচার বিভাগ (ডিওজে) দেশটির কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইন সম্পর্কিত ৩০ লাখের বেশি নথি প্রকাশ করে। এসব নথিতে যেমন বিশ্বজুড়ে প্রভাবশালী বহু ব্যক্তির যোগাযোগ, ই-মেইল ও ব্যক্তিগত তথ্য রয়েছে। তেমনি শত শত ভুক্তভোগীদের ছবি ও ব্যক্তিগত তথ্য, যার মাধ্যমে ভুক্তভোগীর নাম ও পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব। এতে নথিতে থাকা অন্তত ১০০ জন ভুক্তভোগী বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েন। এই পরিস্থিতিতে হাজার হাজার নথি তাদের ওয়েবসাইট থেকে সরিয়ে নিয়েছে ডিওজে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, ভুক্তভোগীদের দু’জন আইনজীবী ব্রিটানি হেন্ডারসন ও ব্র্যাড এডওয়ার্ডস নিউইয়র্কের একটি ফেডারেল বিচারকের কাছে ব্যক্তিগত নথি সরানোর জন্য আবেদন করেন। যেখানে বলা হয়, গত শুক্রবার প্রকাশিত নথিতে তথ্য গোপন রাখার ক্ষেত্রে বা ‘রিডাকশন’-এ গুরুতর ত্রুটি ছিল। এতে প্রায় ১০০ জন ভুক্তভোগীর জীবন ‘উলটপালট’ হয়ে গেছে। নথিগুলোতে ইমেইল ঠিকানা, ব্যক্তিগত তথ্য এমনকি নগ্ন ছবিও ছিল, যার মাধ্যমে সম্ভাব্য ভুক্তভোগীদের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
এক যৌথ বিবৃতিতে ভুক্তভোগীরা এই ঘটনাকে ‘জঘন্য’ আখ্যা দিয়ে বলেন, তাদের নাম প্রকাশ, যাচাই-বাছাই বা নতুন করে ট্রমার মুখে ঠেলে দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
নারী অধিকার আইনজীবী গ্লোরিয়া অলরেড করেন, বিচার বিভাগ তিনটি শর্ত লঙ্ঘন করেছে, যার মধ্যে রয়েছে অনেক নথি এখনও প্রকাশ না করা, প্রকাশের নির্ধারিত সময় পার হয়ে যাওয়া এবং বেঁচে যাওয়া ভুক্তভোগীদের নাম জনসম্মুখে প্রকাশ করা। কিছু ক্ষেত্রে নামের ওপর একটি রেখা দেয়া হলেও এটি পড়া যায়। এমন অনেক ভুক্তভোগীর ছবিও প্রকাশ করা হয়েছে, যারা কখনো প্রকাশ্যে পরিচয় প্রকাশ করেননি।
আবেদনের প্রেক্ষিতে ডিওজে জানিয়েছে, চিহ্নিত করা সব ফাইল ওয়েবসাইট থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং এই ঘটনার পেছনে ‘কারিগরি বা মানবিক ত্রুটি’ দায়ী।
বিজ্ঞাপন
সোমবার এক ফেডারেল বিচারককে পাঠানো চিঠিতে সংস্থাটি জানায়, ভুক্তভোগী ও তাদের আইনজীবীদের অনুরোধে সব নথি আরও সম্পাদনার জন্য প্রত্যাহার করা হয়েছে। যাচাই বাছাই শেষে আরও কিছু নথি সরানো হতে পারে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ।
প্রসঙ্গত, গত ৩০ জানুয়ারি কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টেইনের বিরুদ্ধে মানি-লন্ডারিং ও যৌন অপরাধের তদন্তের সঙ্গে যুক্ত ৩০ লাখের বেশি পৃষ্ঠার নথি প্রকাশ করে মার্কিন বিচার বিভাগ। এসব নথিতে বিশ্বজুড়ে প্রভাবশালী বহু ব্যক্তি, সাবেক ও বর্তমান বিশ্বনেতা, শিল্পপতি ও কূটনীতিকদের যোগাযোগ, ই-মেইল ও ব্যক্তিগত তথ্য রয়েছে। এরমধ্যে ব্রিটিশ রাজপরিবারের প্রিন্স অ্যান্ড্রু, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন, বিশ্বের শীর্ষ ধনী ইলন মাস্ক, মাইক্রোসফটের প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নামও নথিতে এসেছে।
জেফরি এপস্টেইন ছিলেন একজন প্রভাবশালী মার্কিন অর্থদাতা। ২০০৫ সালে এক নাবালিকাকে শ্লীলতাহানির অভিযোগের ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে প্রথম তদন্ত শুরু হয়। ২০০৮ সালে তিনি নাবালিকাকে দেহব্যবসায় বাধ্য করার দায়ে দোষী সাব্যস্ত হন। তবে সে সময় তিনি প্রভাব খাটিয়ে প্রসিকিউটরদের সঙ্গে একটি আপিল চুক্তির মাধ্যমে বড় সাজা থেকে বেঁচে যান এবং ১৮ মাসের জেল খাটেন।
পরবর্তীতে ১১ বছর পর ২০১৯ সালে তার বিরুদ্ধে আবার নারী-কিশোরী পাচারের অভিযোগ আনা হয় এবং তাকে গ্রেফতার করা হয়। ওই বছরই নিউইয়র্কের একটি কারাগারে বন্দী অবস্থায় তিনি আত্মহত্যা করেন বলে জানায় জেল কর্তৃপক্ষ।
সূত্র: বিবিসি
এমএইচআর

