মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ঢাকা

রাফাহ ক্রসিং খুলে দিয়েছে ইসরায়েল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৯:২০ পিএম

শেয়ার করুন:

রাফাহ ক্রসিং খুলে দিয়েছে ইসরায়েল

প্রায় দুই বছর বন্ধ থাকার পর ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকা ও মিসরের মধ্যকার রাফাহ সীমান্ত ক্রসিং পুনরায় খুলে দিয়েছে দখরদার ইসরায়েল। ইতোমধ্যেই বেশ কয়েকজন গুরুত্বর অসুস্থ ও আহত ফিলিস্তিনিরা এই সীমান্ত দিয়ে ‍মিসরে প্রবেশ করেছেন বলে জানা গেছে। 

ইসরায়েলি গণমাধ্যমগুলোর বরাতে বিবিসি জানিয়েছে, রাফাহ ক্রসিংটি খুলে দেওয়ার পর এটি ইউরোপীয় ইউনিয়নের তত্ত্বাবধায়ক ও স্থানীয় ফিলিস্তিনি কর্মীরা পরিচালনা করবেন। নিরাপত্তা যাচাই করবে ইসরায়েল, তবে সেটা দূর থেকে। প্রতিদিন সর্বোচ্চ ৫০ জন রোগী, তাদের সঙ্গে একজন বা দুজন স্বজনকে গাজা ছাড়ার অনুমতি দেওয়া হবে। একইসঙ্গে যুদ্ধের সময় যারা গাজা ছেড়ে গিয়েছিলেন, তাদের মধ্য থেকে প্রতিদিন ৫০ জনকে গাজায় ফেরার সুযোগ দেওয়া হবে।


বিজ্ঞাপন


২০২৪ সালের মে মাসে ইসরায়েলি বাহিনী গাজার নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর থেকে এই ক্রসিংটি মূলত বন্ধ ছিল। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবে গত অক্টোবরে শুরু হওয়া ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধবিরতির প্রথম ধাপেই সীমান্তটি খোলার কথা ছিল। কিন্তু গাজায় থাকা শেষ ইসরায়েলি জিম্মির মরদেহ ফেরত না দেওয়া পর্যন্ত ইসরায়েল তা বন্ধ রেখেছিল। সেই মরদেহটি গত সপ্তাহে ফেরত দেয় হামাস। পরে গত শনিবার রাফাহ সীমান্ত ক্রসিং পুনরায় চালু করার ঘোষনা দেয় ইসরায়েল। 

রাফাহ ক্রসিং পুনরায় খোলা অনেক ফিলিস্তিনির জন্য স্বস্তির খবর, কারণ তারা এটিকে বাইরের বিশ্বের সঙ্গে সংযোগের একটি জীবনরেখা হিসেবে দেখেন। তবে অনেকে গাজা ছাড়তে চাইলেও আবার ফিরে আসতে পারবেন কি না, তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।

এদিকে গাজার হাসপাতাল ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানায়, প্রায় ২০ হাজার অসুস্থ ও আহত ফিলিস্তিনি চিকিৎসার জন্য গাজা ছাড়ার অপেক্ষায় রয়েছেন। তবে খুব অল্পসংখ্যক মানুষকে যাতায়াতের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে এবং কোনো পণ্য পারাপার করতে দেওয়া হচ্ছে না। এতে জরুরি চিকিৎসার জন্য অপেক্ষারত ২০ হাজার ফিলিস্তিনি রোগীর গাজা ছেড়ে যেতে প্রায় এক বছর সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন গাজার চিকিৎসকরা।

রাফায় মাঠ পর্যায়ে কাজ করা জরুরি চিকিৎসক জেমস স্মিথ আল জাজিরাকে বলেন, ‘যতদিন ইসরায়েল গাজায় প্রবেশকারী সাহায্যের পরিমাণ সীমিত করে রাখবে, ততদিন আর উপলব্ধ নয় এমন চিকিৎসার জন্য গাজা ছেড়ে যেতে বাধ্য মানুষের সংখ্যাও বাড়তে থাকবে।’


বিজ্ঞাপন


তিনি আরও বলেন, চিকিৎসার জন্য অপেক্ষা করতে করতে ইতোমধ্যেই এক হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি মারা গেছেন।

অন্যদিকে গাজার সরকারি মিডিয়া অফিসের পরিচালক ইসমাইল আল–থাওয়াবতা বলেন, ইসরায়েলের যুদ্ধে গাজা ছেড়ে যাওয়া প্রায় ৮০ হাজার ফিলিস্তিনি এখন ফিরে আসতে চান। ইতোমধ্যে ৩০ হাজারের বেশি গাজাবাসী কায়রোতে ফিলিস্তিনি দূতাবাসে গাজায় ফেরার জন্য নিবন্ধন করেছেন। তবে অনেকে গাজা ছাড়তে চাইলেও আবার ফিরে আসতে পারবেন কি না, তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।

প্রসঙ্গত, গাজার ফিলিস্তিনিদের জন্য দীর্ঘদিন ধরেই বহির্বিশ্বের সঙ্গে একমাত্র সংযোগস্থল হলো রাফাহ ক্রসিং। এই ক্রসিং দিয়ে গাজার মানুষ প্রথমে মিসরে প্রবেশ করে অন্যান্য দেশে যেতে পারেন তারা। ২০২৪ সালের মে মাসে রাফা ক্রসিংয়ের গাজা প্রান্ত দখল করে ইসরায়েলি বাহিনী। এর মাধ্যমে মাধ্যমে গত ২০ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো গাজার সীমান্ত ক্রসিংয়ের সরাসরি নিয়ন্ত্রণ নেয়। একই সঙ্গে ক্রসিংয়ের ভবনসহ অন্যান্য জিনিসপত্র ধ্বংস এবং সবধরনের যাতায়াত বন্ধ করে দেয়। এরপর থেকে সেখান দিয়ে কেউ আর ঢুকতে বা বের হতে পারেননি। এতে করে গাজার মানুষের জন্য মানবিক বিপর্যয় তৈরি হয়। বিশেষ করে রোগীদের জন্য একটি গুরুতর মানবিক সংকট তৈরি করে।

সূত্র: বিবিসি, আলজাজিরা

এমএইচআর

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর