পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় বেলুচিস্তান প্রদেশে চলমান অভিযানের সময় দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী আরও ২২ জন সন্ত্রাসীকে হত্যা করেছে। এনিয়ে গত ৪৮ ঘণ্টায় নিহত সন্ত্রাসীর সংখ্যা বেড়ে ১৭৭ জনে দাঁড়িয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, গত শনিবার বেলুচিস্তান প্রদেশে প্রায় ১২টি স্থানে একযোগে বন্দুক ও বোমা হামলা চালিয়ে ৩১ জন বেসামরিক নাগরিক এবং ১৭ জন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যকে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা। পাকিস্তানের নিষিদ্ধ বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী বেলুচ লিবারেশন আর্মি (বিএলএ) এই হামলার দায় স্বীকার করে। এরপরই প্রদেশজুড়ে ব্যাপক অভিযান শুরু করে নিরাপত্তা বাহিনী।
বিজ্ঞাপন
সোমবার পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি এক বিবৃতিতে বলেছেন, বেলুচিস্তানের বিভিন্ন এলাকায় রাতে রোববার আরও ২২ জন ‘ফিতনা আল-হিন্দুস্তান’- এর সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে। ফলে তিন দিনের লড়াইয়ে এখন পর্যন্ত ১৭৭ জন সন্ত্রাসীকে হত্যা করা হয়েছে।
পাকিস্তানজুড়ে সন্ত্রাসবাদ ও অস্থিতিশীলতায় ভারতের সমর্থন রয়েছে উল্লেখ করে বেলুচিস্তান-ভিত্তিক সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোকে ‘ফিতনা-আল-হিন্দুস্তান’ নামে অভিহিত করে পাকিস্তান সরকার।
মহসিন নাকভি আরও বলেন, ‘নিরাপত্তা বাহিনী, পুলিশ এবং গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সময়োপযোগী এবং কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে সন্ত্রাসীদের ঘৃণ্য উদ্দেশ্য ব্যর্থ করেছে। ভারতীয় এজেন্ট এবং তাদের সহায়তাকারীদের সম্পূর্ণরূপে নির্মূল করা হবে।’
এদিতে পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনীর একটি সূত্র জানিয়েছে, নিরাপত্তা বাহিনীর এখানো বিভিন্ন স্থানে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছে। এতে আরও কয়েকজন সন্ত্রাসীরা হতাহত হওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
প্রসঙ্গত, শনিবারের সহিংসতাকে বেলুচিস্তানের সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম রক্তক্ষয়ী দিন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। দীর্ঘদিন ধরেই নিয়মিতভাবে পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্য করে এবং চীনা নাগরিকসহ বেসামরিক নাগরিকদের ওপর আক্রমণ চালিয়ে আসছে বিএলএ।
পাকিস্তান সরকার অভিযোগ করেছে, ভারতের সমর্থনে বিএলএ জঙ্গিরা প্রতিবেশী আফগানিস্তানের ভেতর থেকে তাদের তৎপরতা চালায়, যেখানে তারা যোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ দেয় এবং হামলার পরিকল্পনা করে। তবে কাবুলের তালেবান সরকার ও নয়াদিল্লি এই অভিযোগ বারবারই অস্বীকার করেছে।
সূত্র: রয়টার্স, ডন
এমএইচআর

