ইরানের সরকারবিরোধী আন্দোলনে যোগ দিয়ে গ্রেফতার ও ফাঁসির সাজাপ্রাপ্ত তরুণ বিক্ষোভকারী এরফান সোলতানিকে জামিন দিয়েছে দেশটির একটি আদালত।
সেলাতানির আইনজীবী আমির মুসাখানি বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, গতকাল শনিবার এরফান সোলতানিকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে এবং তিনি তার মোবাইল ফোনসহ সমস্ত জিনিসপত্রও ফেরত পেয়েছেন।’
বিজ্ঞাপন
তিনি আরও জানান, সোলতানির মুক্তির জন্য দুই বিলিয়ন তোমান (১ তোমান = ১০ ইরানি রিয়াল) বা প্রায় ১২ হাজার ৬০০ ডলার জামিন দেওয়া হয়েছে।
ইরানি রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভিও এক প্রতিবেদনে সোলতানির মুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
যদিও মার্কিন পররাষ্ট্র দফতার তাদের ফার্সি ভাষার এক্স অ্যাকাউন্টে বলেছিল, তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তবে ইরানের বিচার বিভাগ তা অস্বীকার করে বলেছে, সোলতানির মামলা এখনও তদন্তাধীন এবং তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়নি।
২৬ বছর বয়সী তরুণ এরফান সোলতানি পেশায় দোকানব্যবসায়ী। রাজধানী তেহরানের শহরতলী এলাকা কারাজের বাসিন্দা তিনি। গত ডিসেম্বরে অর্থনৈতিক মন্দার প্রতিবাদে শুরু হওয়া সরকারবিরোধী বিক্ষোভে যোগ দেওয়ার অভিযোগে গত ৮ জানুয়ারি কারাজে নিজ বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করে ইরানি আইনশৃঙ্গলা বাহিনী। তারপর মাত্র তিন দিনের বিচারের ভিত্তিতে তাকে ফাঁসির দণ্ড দেওয়া হয়।
বিজ্ঞাপন
তবে ইরান সরকার বিক্ষোভকারীদের ফাঁসি কার্যকর করলে যুক্তরাষ্ট্র ‘অত্যন্ত কঠোর ব্যবস্থা’ নেবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘যখন তারা হাজার হাজার মানুষ হত্যা করতে শুরু করে...আর এখন আপনারা ফাঁসির কথাও বলছেন। দেখা যাক, শেষ পর্যন্ত বিষয়টি তাদের জন্য কী পরিণতি ডেকে আনে।’
এরপরই ইরান সরকার এরফান সোলতানিসহ বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুদণ্ড স্থগিত করে। পরে ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সতর্কবার্তা আমলে নিয়ে বিক্ষোভকারীদের হত্যা কিংবা মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা বন্ধ করেছে ইরানের সরকারি প্রশাসন।
উল্লেখ্য, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও ইরানি রিয়ালের রেকর্ড দরপতনের প্রতিবাদে গত ২৮ ডিসেম্বর ধর্মঘটের ডাক দেন রাজধানী তেহরানের বিভিন্ন বাজারের পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীরা। সেই ধর্মঘট থেকেই বিক্ষোভের সূত্রপাত। এরপর মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে ইরানের ৩১টি প্রদেশের প্রায় সবগুলো শহর-গ্রামে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে বিক্ষোভ এবং দিনকে দিন বিক্ষোভের তীব্রতা বাড়তে থাকে।
বিক্ষোভ দমনে ইতোমধ্যে ইন্টারনেট-মোবাইল নেটওয়ার্ক বন্ধ করেছে ইরান, সেই সঙ্গে দেশজুড়ে মোতায়েন পুলিশ-নিরাপত্তা বাহিনীর পাশাপাশি মোতায়েন করেছে সেনাবাহিনী। জনগণ ও সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে সংঘাতে ইতোমধ্যে ৬ হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। সেই সঙ্গে গ্রেফতার হয়েছেন আরও হাজার হাজার বিক্ষোভকারী। এরপর থেকে ধীরে ধীরে বিক্ষোভ কমে যায়।
সূত্র: এএফপি/এনডিটিভি
এমএইচআর

