সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ঢাকা

ইরানে মার্কিন হামলা হলে আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নেবে: খামেনি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৯:১১ পিএম

শেয়ার করুন:

Ayatollah Ali Khamenei
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ আলি খামেনি। ছবি- সংগৃহীত

সরকারবিরোধী বিক্ষোভে যখন সংকটে ইরান, তখন বারবার হামলার হুঁশিয়ারি দিয়ে আসছে যুক্তরাষ্ট্র। এমনকি ইরানের আশপাশে সামরিক শক্তি জোরদারও করছে মার্কিনীরা। এমন প্রেক্ষাপটে পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ আলি খামেনি। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, ইরানে মার্কিন বাহিনীর কোনো হামলা হলে তা ‘আঞ্চলিক যুদ্ধে’ রূপ নেবে। ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিমের বরাত দিয়ে এমনটাই জানিয়েছে বিবিসি বাংলা।

আয়াতোল্লাহ আলি খামেনি বলেছেন, ‘আমেরিকানদের জানা উচিত, তারা যদি যুদ্ধ শুরু করে, তাহলে এবার তা হবে একটি আঞ্চলিক যুদ্ধ।’


বিজ্ঞাপন


তবে এরআগে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ইরান বর্তমানে ‘গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা’ চালাচ্ছে এবং তিনি আশা করছেন, সেগুলো ‘গ্রহণযোগ্য সমাধানে’ পৌঁছাবে।

একই সঙ্গে ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলি লারিজানিও বলেছেন, ‘আলোচনা ধীরে ধীরে এগোচ্ছে।’

তবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং সরকারবিরোধী বিক্ষোভে প্রাণঘাতী দমন-পীড়নের ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র সামরিক হস্তক্ষেপের হুঁমকি দিয়েই আসছে।


বিজ্ঞাপন


আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোর খবর অনুযায়ী, সামরিক প্রস্তুতির অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র তাদের যুদ্ধবিমানবাহী জাহাজ ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে পাঠিয়েছে। গত সপ্তাহের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড জানায়, ‘জাহাজটি আরব সাগরে কার্যক্রম চালাচ্ছে।’

তবে এ প্রসঙ্গে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা খামেনি বলেছেন, ‘(ট্রাম্প) প্রায়ই বলেন যে তিনি জাহাজ মোতায়েন করেছেন। এসব বলে ইরানি জাতিকে ভয় দেখাতে পারবে না।’

আজ রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) থেকে ইরানের হরমুজ প্রণালিতে দুই দিনব্যাপী সরাসরি গোলাবর্ষণ মহড়া শুরু করার কথা রয়েছে। বিশ্বে বাণিজ্যিকভাবে পরিবাহিত মোট তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালি দিয়ে যায়। ইরান ও ওমানের মধ্যবর্তী এই প্রণালির সবচেয়ে সংকীর্ণ অংশের প্রস্থ প্রায় ৩৩ কিলোমিটার (২১ মাইল)।

তবে অতীতে ইরানে হামলা হলে এই প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার হুঁমকিও দিয়েছিল তেহরান। যদিও যুক্তরাষ্ট্র এরই মধ্যে এই এলাকায় নিজেদের বাহিনীর আশপাশে কোনো ‘অনিরাপদ ও অপেশাদার আচরণ’ না করার জন্য ইরানকে সতর্ক করেছে।

জবাবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচিও হুঁশিয়ারি  করেছেন। বলেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী এখন আমাদের শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনী কীভাবে নিজেদের এলাকায় মহড়া চালাবে, তা নির্ধারণ করতে চাইছে।’

ইরানে গত ডিসেম্বরের শেষ দিকে বিক্ষোভ শুরুর পর থেকে অন্তত ‘ছয় হাজার ৩০০ জনের’ মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে বলে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস অ্যাকটিভিস্টস নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে। সংস্থাটি আরও ‘১৭ হাজার মৃত্যুর’ খবর যাচাই করছে বলেও জানায়। অন্যদিকে, নরওয়েভিত্তিক আরেক সংস্থা ইরান হিউম্যান রাইটস (আইএইচআর) সতর্ক করেছে, নিহতের প্রকৃত সংখ্যা ‘২৫ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে’।

তবে এমন পরিস্থিতির মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি নিয়ে বিশ্বজুড়ে আলোচনা-সমালোচনা তুঙ্গে থাকলেও নীরব ইসরায়েলি নেতারা। যদিও তাদের এই নীরবতা কোনো নিষ্ক্রিয়তা নয়, বরং এর পেছনে রয়েছে ‘এক গভীর কৌশল’ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

তাদের মতে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বর্তমান সময়কে একটি সুবর্ণ সুযোগ হিসেবে দেখছেন। তিনি চাইছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মাধ্যমে ইরানে খামেনির শাসনের পতন ঘটাতে।

বিবিসি’র এক প্রতিবেদন বলছে, সাধারণত ইরানের যেকোনো ইস্যুতে সোচ্চার থাকলেও এবার জনসমক্ষেও খুব কম কথা বলছেন নেতানিয়াহু।

ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থার সাবেক কর্মকর্তা ড্যানি সিট্রিনোভিচ বিবিসিকে বলেন, ‘এই নীরবতা থেকেই বোঝা যায়, নেতানিয়াহু এই মুহূর্তটিকে কতটা গুরুত্ব দিচ্ছেন।’

‘নেতানিয়াহু মনে করেন, পারস্য উপসাগরে বিপুল মার্কিন সেনা উপস্থিতি এবং ট্রাম্পের আক্রমণাত্মক মনোভাব ইরানের শাসনব্যবস্থা ভাঙার এক বিরাট সুযোগ তৈরি করেছে’, যোগ করেন ইসরায়েলের সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা।

এরআগে ইরানের বিরুদ্ধে গত বছরের জুনে যুদ্ধ শুরু করেছিল দখলদার ইসরায়েল। ওই যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছিল যুক্তরাষ্ট্রও। তবে ১২দিনই ওই যুদ্ধ সমাপ্তি ঘটে।

এএম

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর