শনিবার, ১৪ মার্চ, ২০২৬, ঢাকা

দাবি মমতার

‘বিজেপের সঙ্গ ত্যাগ করতে চেয়েছিলেন অজিত পাওয়ার, তারপরই দুর্ঘটনা’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৮ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:৩০ পিএম

শেয়ার করুন:

‘বিজেপের সঙ্গ ত্যাগ করতে চেয়েছিলেন অজিত পাওয়ার, তারপরই দুর্ঘটনা’

বিমান দুর্ঘটনায় ভারতের পশ্চিমী রাজ্য মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ারের মৃত্যুর পেছনে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র থাকতে পারে বলে অভিযোগ করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি দাবি করেন, দু’দিন আগেই অজিত পাওয়ার বিজেপির সঙ্গ ত্যাগ করতে চেয়েছিলেন, তারআগেই বিমান দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন তিনি। এই ঘটনার পেছনে যড়যন্ত্র থাকতে পারে। 

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এই রাজ্যে একজন সাধারণ মানুষের তো বটেই, নেতানেত্রীরা সুরক্ষিত নন। আমি জানি না, এই দুর্ঘটনার পেছনে আসল কারণ কী। দুদিন আগে আমি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানতে পারি, অন্য এক দলের নেতা বিবৃতিতে দিয়েছেন, অজিত পাওয়ার বিজেপি সঙ্গ ত্যাগ করতে চাইছেন। আর তারপরই আজ এই দুর্ঘটনা ঘটলো। আমি এর পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চাই।’


বিজ্ঞাপন


এর আগে মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ারের বিমান দুর্ঘটনা নিয়ে তদন্তের দাবি তোলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী এবং তার সহযাত্রীরা আজ সকালে বারামতিতে এক ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন। অজিত পাওয়ারের আকস্মিক মৃত্যুতে আমি গভীরভাবে মর্মাহত, হতবাক এবং গভীর শূন্যতা অনুভব করছি। তার পরিবারের প্রতি, তার চাচা শরদ পাওয়ারসহ সকল বন্ধুবান্ধব এবং অনুসারীদের প্রতি আমার সমবেদনা। এই ঘটনার যথাযথ তদন্ত প্রয়োজন।’

মমতা আরও বলেন, ‘আমি সুপ্রিম কোর্টের তত্ত্বাবধানে সঠিক তদন্তের দাবি জানাচ্ছি। আমাদের কেবল সুপ্রিম কোর্টের ওপর আস্থা আছে, অন্য কোনও সংস্থার উপর নয়। সমস্ত সংস্থা সম্পূর্ণরূপে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে’।


বিজ্ঞাপন


ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, বুধবার সকালে একটি চার্টার্ড বিমানে চেপে রাজধানী মুম্বাই থেকে বারামতির উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন মহারাষ্ট্রের উপ-মুখ্যমন্ত্রী এবং দেশটির রাজনৈতিক দল ন্যাশনাল কংগ্রেস পার্টি (এনসিপি)-এর নেতা অজিত পাওয়ার। বিমানটিতে দু’জন পাইলট, অজিত পাওয়ার এবং তার ৩ জন দেহরক্ষী ছিলেন। বারামতি বিমানবন্দরে অবতরণের সময় বিস্ফোরণ ঘটে উড়োজাহাজটিতে। এতে অজিতসহ বিমানটিতে থাকা সবাই এতে নিহত হয়েছেন। 

এদিকে জানা গেছে, দুর্ঘটনার কবলে পড়া বিমানটি ছিল লিয়ারজেট ৪৫। ২০০৩ সালে এই বিমানের উড়ান নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। এই বিমানে যান্ত্রিক ত্রুটি ধরা পড়েছিল। এয়ার প্রেসার থেকে উইন্ড শিল্ড নানা ক্ষেত্রে সমস্যা ছিল এই বিমানে। এই সব যান্ত্রিক ক্রুটির জন্য দীর্ঘ সময় এই বিমানের চলাচল বন্ধ ছিল। পরবর্তীতে রিমডেলিং করে এই বিমানটি চালু করা হয়।

এছাড়াও দুর্ঘটনার সময় বারামতিতে দৃশ্যমানতা কম ছিল। এই পরিস্থিতিতে এটিসি কেন বিমানটিকে অবতরণের অনুমতি দিয়েছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া, হিন্দুস্তান টাইমস  

এমএইচআর

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর