জাপান সাগরের দিকে একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে উত্তর কোরিয়া। পিয়ংইয়ংয়ের বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পরিবর্তনের জন্য ওয়াশিংটন ও সিউলের মধ্যে আলোচনার মধ্যেই মঙ্গলবার সম্ভবত স্বল্প-পাল্লার প্রজেক্টাইলগুলো ছোঁড়া হয় বলে জানিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপান।
দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ জানিয়েছেন, স্থানীয় সময় বিকেল ৩টা ৫০ মিনিটে উত্তর কোরিয়ার রাজধানী পিয়ংইয়ংয়ের কাছের একটি এলাকা থেকে পূর্ব উপকূলের সমুদ্রের দিকে ক্ষেপণাস্ত্রগুলো উৎক্ষেপণ করা হয়েছিল। ক্ষেপণাস্ত্রগুলো প্রায় ৩৫০ কিলোমিটার (২১৭ মাইল) উড়েছিল।
বিজ্ঞাপন
পৃথকভাবে জাপানের কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, উত্তর কোরিয়ার ছোড়া ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করা হয়েছে, যেগুলো কয়েক মিনিট পর জাপান সাগরে পড়েছে।
জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি বলেছেন, উত্তর কোরিয়ার ছোড়া ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র জাপানের ওপর কোনও প্রভাব ফেলবে না।
জাপানের মতে, ক্ষেপণাস্ত্রগুলো সর্বোচ্চ ৮০ কিলোমিটার উচ্চতায় পৌঁছেছিল।
প্রসঙ্গত, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা বাড়িয়েছে উত্তর কোরিয়া। বিশ্লেষকরা ধারণা করছেন, এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য হলো নিখুঁত আঘাত হানার সক্ষমতা বাড়ানো, যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়াকে চ্যালেঞ্জ করা এবং সম্ভাব্যভাবে রাশিয়ায় রফতানির আগে অস্ত্রগুলো পরীক্ষা করা। চলতি মাসে এটি পিয়ংইয়ংয়ের দ্বিতীয় ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা। এর আগে, দক্ষিণ কোরিয়ার নেতা চীনে একটি শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে রওনা হওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগে উত্তর কোরিয়া একযোগে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছিল।
বিজ্ঞাপন
দক্ষিণ কোরিয়ার জাতীয় নিরাপত্তা দফতর উত্তর কোরিয়াকে অবিলম্বে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে, এগুলোকে উস্কানিমূলক কার্যকলাপ এবং জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব লঙ্ঘন বলে নিন্দা জানিয়েছে। আর জাপান বলেছে, ‘উত্তর কোরিয়ার বারবার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ...আমাদের দেশ, অঞ্চল এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ’।
সূত্র: রয়টার্স
এমএইচআর

