বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ঢাকা

প্রজাতন্ত্র দিবসে ‘অপমানিত’ রাহুল গান্ধী, বসতে দেওয়া হয় তৃতীয় সারিতে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৬ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯:০৯ পিএম

শেয়ার করুন:

প্রজাতন্ত্র দিবসে ‘অপমানিত’ রাহুল গান্ধী, বসতে দেওয়া হয় তৃতীয় সারিতে

ভারতের ৭৭তম প্রজাতন্ত্র দিবস ছিল আজ। এ উপলক্ষে দিল্লির কর্তব্য পথে কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেই অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন দেশটির সংসদের বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী এবং কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে। তবে তাদের জন্য তৃতীয় সারিতে আসন বরাদ্দের মাধ্যমে অপমান করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে কংগ্রেস। 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল একাধিক ছবিতে দেখা যায়, দিল্লির কর্তব্য পথে কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে প্রথমসারিতে বেশ কয়েকজন বিজেপি নেতারা ও তাদের সঙ্গে আসা অতিথিরা বসে থাকলেও তৃতীয় সারিতে বসে আছেন রাহুল গান্ধী এবং মল্লিকার্জুন খাড়গে। 


বিজ্ঞাপন


এদিকে কংগ্রেস অভিযোগ, পরিকল্পনা করে রাহুল গান্ধিকে অপমান করার জন্যই এমন কাণ্ড ঘটিয়েছে বিজেপি সরকার৷ সবচেয়ে বড় বিরোধী দল হিসেবে বরাবরই কংগ্রেস সভাপতির জন্য সামনের সারিতেই আসন বরাদ্দ করা হয়। কংগ্রেস ক্ষমতায় থাকাকালীন বিরোধীদলীয় নেতারা সামনের সারিতেই বসতেন। তবে প্রোটোকল লঙ্ঘন করে কংগ্রেসের নেতৃত্বকে অপমান করার নতুন পথ বেছে নিয়েছে বিজেপি।

কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক রণদীপ সিং সুরজেওয়ালা বিজেপে সরকারের তীব্র সমালোচনা করে এক এক্স বার্তায় বলেন, ‘দেশের বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে এই ধরনের আচরণ কি কোনও ভদ্রতা? ঐতিহ্য এবং প্রোটোকলের মান পূরণ করে? এটি কেবল হীনমন্যতায় জর্জরিত সরকারের হতাশা প্রকাশ করে।’ 

কংগ্রেস সাংসদ মানিকম ঠাকুর এক এক্স বার্তায় অভিযোগ করেছেন, রাহুল গান্ধীকে ‘অপমান’ করার জন্য বিজেপি ইচ্ছাকৃতভাবে এটি করেছে। 


বিজ্ঞাপন


পোস্টে ২০১৪ সালের প্রজাতন্ত্র দিবসের একটি ছবি শেয়ার করে তিনি বিজেপি নেতা লালকৃষ্ণ আদভানির বসার দিকে ইঙ্গিত করে জিজ্ঞাসা করেছেন, ‘দেখুন লালকৃষ্ণ আদভানিজি তখন কোথায় বসেছিলেন? এখন কেন এই প্রোটোকল লঙ্ঘন? মোদী এবং শাহ কি খাড়গেজি এবং রাহুলজিকে অপমান করতে চান?’

২০১৪ সালে লালকৃষ্ণ আদভানি রাজ্যসভা বা লোকসভার বিরোধী দলনেতা ছিলেন না। তবে ছবিতে দেখা যায়, তৎকালীন রাজ্যসভার বিরোধী দলনেতা অরুণ জেটলি এবং লোকসভায় বিরোধী দলনেতা সুষমা স্বরাজের পাশেই বসেছিলেন তিনি। 

এদিকে কংগ্রেসের অভিযোগের বিষয়ে এখনো কোনো মম্তব্য করেনি সরকার। তবে রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানকে কংগ্রেসে ‘রাজনীতিকরণ’ করার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেছে বিজেপি।

প্রসঙ্গত, ভারতের এই ধরনের রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে আসন বন্টন দেশটির রাষ্ট্রপতির সচিবালয়ের জারি করা সারণী অনুসারে করা হয়। এতে রাষ্ট্রপতি, উপ-রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, রাজ্যপাল, সাবেক রাষ্ট্রপতি, উপ-প্রধানমন্ত্রী, প্রধান বিচারপতি, লোকসভার স্পিকার, মন্ত্রিপরিষদ মন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রী এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রীদের পরে অগ্রাধিকারের ক্রম অনুসারে বিরোধী দলের নেতারা সপ্তম স্থানে রয়েছেন। 

 
সূত্র: এনিডিটিভি


এমএইচআর

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর