ভারতের সামরিক বাহিনীতে বিশেষ অবদানের জন্য এবার রাষ্ট্রপতির পদক পাচ্ছেন পাকিস্তানের বিরুদ্ধে পরিচালিত সেনা অভিযান ‘অপারেশন সিঁদুর’-এ নেতৃস্থানীয় ভূমিকা পালন করা কর্নেল সোফিয়া কুরেশি। বিশিষ্ট সেবা পদক দেওয়া হচ্ছে তাকে।
সেমাবার ভারতের ৭৭তম প্রজাতন্ত্র দিবসের প্রাক্কালে সামরিক বাহিনীতে বিশেষ অবদানের জন্য পদকপ্রাপকদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। এতে কর্নেল কুরেশি-সহ মোট ১৩৫ জনকে এ বছর বিশিষ্ট সেবা পদকে ভূষিত করা হচ্ছে। পাশাপাশি ৩০ জনকে পরম বিশিষ্ট সেবা পদক, চার জনকে উত্তম যুদ্ধ সেবা পদক, ৫৬ জনকে অতি বিশিষ্ট সেবা পদক, ৯ জনকে যুদ্ধ সেবা পদক, ৪৩ জনকে সেনা পদক, আট জনকে নৌসেনা পদক এবং ১৪ জনকে বায়ুসেনা পদক দেওয়া হচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
কর্নেল সোফিয়া কুরেশি ভারতীয় সেনাবাহিনীর একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা। সামরিক বাহিনীর যোগাযোগ ও ইলেকট্রনিক্স অভিযান সহায়ক শাখা সিগন্যাল কর্পসের অন্যতম শীর্ষ কর্মকর্তা তিনি। তবে গত বছর পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর সময় তিনি সংবাদ সম্মেলন করে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে আলোচনায় আসেন। পাকিস্তানের মাটিতে ভারতের প্রত্যাঘাতের প্রতিটি খুঁটিনাটির বর্ণনা তুলে ধরেন তিনি। সিঁদুর অভিযানের প্রতিটি পদক্ষেপ কী ভাবে করা হয়েছে, কেন করা হয়েছে— তা সাংবাদিক বৈঠকে ব্যাখ্যা করেন কর্নেল সোফিয়া।
এরআগে ২০১৬ সালে তিনি প্রথম খবরের শিরোনামে উঠে এসেছিলেন। ওই বছর ১৮টি দেশের সামনে ভারতের সামরিক মহড়ায় নেতৃত্ব দিয়েছিলেন সোফিয়া। প্রথম মহিলা হিসাবে এই কৃতিত্ব তিনি অর্জন করেন।
সেসময়ে সোফিয়া ছিলেন লেফ্টেন্যান্ট কর্নেল। পুণের ওই সামরিক মহড়া ছিল ভারতে আয়োজিত সবচেয়ে বড় বিদেশি সামরিক মহড়া। ২ থেকে ৮ মার্চের মহড়ায় যোগ দিয়েছিল জাপান, চীন, আমেরিকা ও রাশিয়ার মতো প্রভাবশারী দেশ। ভারত ছাড়া আর কোনো দেশের মহড়ার নেতৃত্বে নারী ছিলেন না।
বিজ্ঞাপন
৪০ সদস্যের ভারতীয় সেনাদলকে মহড়ায় নেতৃত্ব দিয়েছিলেন সোফিয়া। মহড়ার লক্ষ্য ছিল শান্তিরক্ষার অভিযান। এই মহড়ায় নিজের যোগ্যতার ভিত্তিতে তিনি নেতৃত্ব অর্জন করেছিলেন। সম্মানজনক এই কাজের জন্য দেশের বেশ কয়েক জন শান্তিরক্ষী প্রশিক্ষকের মধ্যে থেকে সুফিয়াকে নির্বাচিত করা হয়েছিল। শান্তিরক্ষা সংক্রান্ত কাজে সুফিয়ার অভিজ্ঞতাও অনেক। ২০০৬ সালে কঙ্গোয় রাষ্ট্রপুঞ্জের শান্তিরক্ষা অভিযানে সামরিক পর্যবেক্ষক হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন তিনি।
১৯৭৪ সালে গুজরাটের বড়োদরায় জন্ম সোফিয়ার। ১৯৯৭ সালে জৈবরসায়ন নিয়ে স্নাতোকত্তর করেন সোফিয়া। এরপর যোগ দেন সেনাবাহিনীতে। সুফিয়ার পরিবারেও সেনাবাহিনীর ইতিহাস রয়েছে। তার দাদাও ভারতীয় সেনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। সেনার পরিবারেই তার বিয়ে হয়েছে।
সূত্র: এনডিটিভি
এমএইচআর

