বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ঢাকা

ভারতের ওপর থেকে ২৫ শতাংশ শুল্ক প্রত্যাহারের ইঙ্গিত যুক্তরাষ্ট্রের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৪ জানুয়ারি ২০২৬, ০৬:১৫ পিএম

শেয়ার করুন:

ভারতের ওপর থেকে ২৫ শতাংশ শুল্ক প্রত্যাহারের ইঙ্গিত যুক্তরাষ্ট্রের

রাশিয়া থেকে তেল কেনার জন্য ভারতীয় পণ্যের ওপর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত মোট ৫০ শতাংশ শুল্কের চাপে বড়সড় ধাক্কা খেয়েছে ভারতের অর্থনীতি। এনিয়ে ওয়াশিংটন ও নয়াদিল্লির মধ্যে টানাপোড়েন চলছে। এরমধ্যেই ভারত রাশিয়ার থেকে তেল কেনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দিয়েছে দাবি করে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন, মস্কো থেকে তেল কেনার দায়ে নয়াদিল্লির ওপর আরোপিত অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক প্রত্যাহার করা হতে পারে। 

শুক্রবার (স্থানীয় সময়) সুইজারল্যান্ডের দাভোসে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের ফাঁকে মার্কিন সংবাদমাধ্যম পলিটিকোকে দেওয়া এক সাক্ষাতকারে তিনি এই মন্তব্য করেন।


বিজ্ঞাপন


বেসেন্ট পলিটিকোকে বলেন, ‘আমরা রাশিয়ান তেল কেনার জন্য ভারতের ওপর অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছি, এতে ভারতীয় শোধনাগারগুলো রুশ তেল ক্রয় উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। এটি একটি আমাদের বিশাল সাফল্য। যদিও শুল্ক এখনও বহাল রয়েছে। তবে আমি মনে করি এখন এই শুল্ক প্রত্যাহারের পথ খুলে গেছে।’

মার্কিন কংগ্রেসে রাশিয়ান তেল কেনার জন্য ভারতের ওপর ৫০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের প্রস্তাবিত বিল নিয়ে আলোচনার মধ্যেই মার্কিন অর্থমন্ত্রীর এই মন্তব্য এসেছে। ট্রাম্প প্রশাসন বার বার দাবি করছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির পর রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ করে দিয়েছে ভারত। সেই দাবিতে আবারও জোর দিলেন মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট। 

এদিকে দাভোসে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে তার ‘ঘনিষ্ঠ বন্ধু’ বলে উল্লেখ করেন। 


বিজ্ঞাপন


তিনি বলেন, ‘শুল্ক নিয়ে টানাপোড়েন থাকা সত্ত্বেও ভারত ও আমেরিকার মধ্যে একটি বাণিজ্য চুক্তি হওয়া নিশ্চিত, আপনাদের প্রধানমন্ত্রী একজন অসাধারণ মানুষ। তার প্রতি আমার গভীর শ্রদ্ধা রয়েছে।’

তবে একই সঙ্গে ট্রাম্প সতর্ক করে দেন, রাশিয়ান জ্বালানি আমদানির প্রশ্নে যদি ভারত ওয়াশিংটনের অবস্থানের সঙ্গে একমত না হয়, তাহলে তাৎক্ষণিক বাণিজ্যিক পরিণতি হতে পারে। তিনি বলেন, ‘আমরা চাইলে খুব দ্রুত শুল্ক বাড়াতে পারি, এবং তা ভারতের জন্য ভালো হবে না।’ 

অন্যদিকে মার্কিন কংগ্রেসে একটি প্রস্তাবিত বিল সম্পর্কে ভারত অবগত রয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ‘আমরা প্রস্তাবিত বিল সম্পর্কে জানি এবং বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি।’

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের আগস্টে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের জ্বালানি সম্পর্কের উল্লেখ করে ভারতীয় পণ্যের উপর মোট শুল্ক বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করেছিলেন, যার মধ্যে ২৫ শতাংশ ছিল রাশিয়ান তেল সংক্রান্ত শুল্ক। তবে ভারত স্পষ্ট করে জানিয়েছে, ওয়াশিংটনের চাপ সত্ত্বেও ভারত তার ‘ভারত প্রথম’ জ্বালানি নীতিতে অনড় রয়েছে। নয়াদিল্লির দাবি, ১৪০ কোটি নাগরিকের জন্য সাশ্রয়ী মূল্যের জ্বালানি নিশ্চিত করাই সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।

যদিও পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা ও মার্কিন চাপের ফলে ভারতীয় তেল শোধনাগারগুলো বিকল্প উৎসের দিকে ঝুঁকছে। দেশটির সর্ববৃহৎ তেল আমদানিকারক রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ জানুয়ারি মাসে রাশিয়া থেকে তেল আমদানি বন্ধ করে দিয়েছে। বর্তমানে ভারত মধ্যপ্রাচ্য, পশ্চিম আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকা থেকে তেল আমদানির দিকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে, যদিও এই উৎসগুলোর খরচ তুলনামূলকভাবে বেশি।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, ডিসেম্বরে ভারতের অপরিশোধিত তেল আমদানি কমে দৈনিক ৯ লাখ ২৯ হাজার ব্যারেলে নেমেছে, যা ২০২২ সালের পর সর্বনিম্ন। বিশেষজ্ঞদের মতে, চলতি মাসের শেষের দিকে ভারতের অপরিশোধিত তেল আমদানির চিত্র আরও স্পষ্ট হয়ে উঠবে।

সূত্র: এনডিটিভি, ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস


এমএইচআর

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর