শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ঢাকা

যুক্তরাষ্ট্র বিপদে পড়লে ন্যাটো পাশে দাঁড়াবে? প্রশ্ন ট্রাম্পের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৩ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:২৭ পিএম

শেয়ার করুন:

যুক্তরাষ্ট্র বিপদে পড়লে ন্যাটো পাশে দাঁড়াবে? প্রশ্ন ট্রাম্পের

আফগানিস্তান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ডাকে সাড়া দিয়ে ন্যাটো দেশগুলোর সৈন্যরা অংশ নিলেও তারা সামনের সারিতে না থেকে কিছুটা পেছনে অবস্থান করেছিল বলে অভিযোগ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র কখনো বিপদের মুখে পড়লে ন্যাটোভুক্ত দেশগুলো তাদের পাশে দাঁড়াবে কিনা?- এমন প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।  

বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) সুইজারল্যান্ডের দাভোসে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের ফাঁকে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি সব সময়ই বলে এসেছি, আমাদের কখনো দরকার হলে তারা  (ন্যাটো) কি থাকবে? এটাই চূড়ান্ত পরীক্ষা। আমি নিশ্চিত নই। আমি জানি, আমরা থাকতাম বা থাকব। কিন্তু তারা কি থাকবে?’


বিজ্ঞাপন


২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের সন্ত্রাসী হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রই প্রথম ন্যাটো সদস্য দেশ হিসেবে জোটের ৫ নম্বর ধারাটি প্রয়োগ করে, যেখানে বলা হয়েছে- জোটের একজন সদস্যের বিরুদ্ধে আক্রমণ সকলের ওপর আক্রমণ বলে গন্য হবে এবং সকলে মিলেই এর জবাব দেবে। এরই অংশ হিসেবে যুক্তরাজ্য, কানাডা, ডেনমার্ক, ইতালিসহ ন্যাটো মিত্ররা ২০ বছর ধরে আফগানিস্তানে মার্কিন বাহিনীর সঙ্গে মিলে লড়াই করেছে, কিন্তু ট্রাম্প বলছেন অন্য কথা। 

সাক্ষাৎকারে তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘আমাদের কখনোই তাদের (ন্যাটো) প্রয়োজন ছিল না। আমরা কখনোই তাদের কাছ থেকে কিছু চাইনি। তুমি জানো, তারা বলবে যে তারা আফগানিস্তানে কিছু সৈন্য পাঠিয়েছে, অথবা এই বা ঐটা। এবং তারা যা করেছে- তারা কিছুটা পিছনে থেকেছে, সামনের সারির থেকে অনেক দূরে।’

পরিসংখ্যানে দেখা যায়, আফগানিস্তানে ২০ বছর ধরে চলা এই যুদ্ধে ন্যাটোর ৩ হাজার ৪৮৬ জন সৈন্য নিহত হয়েছে, যার মধ্যে ২ হাজার ৪৬১ জনেই মার্কিন সেনা। এছাড়াও ৪৫৭ জন ব্রিটিশ সেনা এবং কানাডার ১৬৫ জন সেনা নিহত হয়েছে। 

এদিকে ট্রাম্পের মন্তব্যে প্রতিক্রিয়ায় যুক্তরাজ্যের সংসদ সদস্যদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কেয়ার স্টারমারও।


বিজ্ঞাপন


ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর মুখপাত্র এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘আমরা আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর জন্য অবিশ্বাস্যভাবে গর্বিত, এবং তাদের সেবা এবং ত্যাগ কখনও ভোলা যাবে না। 

যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টের পররাষ্ট্র বিষয়ক কমিটির সভাপতি এমিলি থর্নবেরি বিবিসিকে বলেন, ‘মার্কিন প্রেসিডেন্টের এমন বক্তব্য চরম অপমানের। এটি ৪৫৭টি পরিবারের প্রতি অপমান যারা আফগানিস্তানে তাদের প্রিয় কাউকে হারিয়েছে। সে (ট্রাম্প) কিভাবে সাহস করে বললো আমরা সামনের সারিতে ছিলাম না?’।

ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রী জন হিলি বলেন, ‘ন্যাটোর অনুচ্ছেদ ৫ মাত্র একবারই সক্রিয় হয়েছে, আর তখন যুক্তরাষ্ট্রের ডাকে যুক্তরাজ্যসহ মিত্ররা সাড়া দিয়েছিল। আফগানিস্তানে ৪৫০ জনের বেশি ব্রিটিশ সেনা প্রাণ হারিয়েছেন। তারা ছিলেন আমাদের জাতির জন্য জীবন উৎসর্গকারী বীর।’

অন্যদিকে দাভোসেই ট্রাম্পের বক্তব্যের জবাবে সরাসরি প্রতিক্রিয়া জানান ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটে। ট্রাম্পের পাশেই বসে তিনি বলেন, ‘আপনি বলেছেন ইউরোপীয়রা যুক্তরাষ্ট্র আক্রান্ত হলে পাশে দাঁড়াবে কি না? আপনি নিশ্চিত নন। আমি আপনাকে স্পষ্ট করে বলছি, তারা দাঁড়াবে এবং তারা আফগানিস্তানে দাঁড়িয়েছিল।’

রুটে আরও বলেন, ‘প্রতি দুইজন মার্কিন সেনার বিনিময়ে একজন করে অন্য ন্যাটো দেশের সেনা আর পরিবারের কাছে ফিরে আসেনি। এটা গুরুত্বপূর্ণ। আপনি যদি মনে করেন সেটি গুরুত্বহীন, তাহলে তা বেদনাদায়ক।’

প্রসঙ্গত,  ন্যাটো নিয়ে ট্রম্পের এই ধরনের মন্তব্য এমন এক সময়ে এলো যখন গ্রিণল্যান্ড ইস্যুতে ন্যাটো দেশগুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে সম্পর্কে টানাপোড়ন চলছে।  

সূত্র: এনডিটিভি

এমএইচআর

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর