মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারি, ২০২৬, ঢাকা

‘কোটিপতি ভিক্ষুক’ মাঙ্গিলাল, আছে ৩ বাড়ি-সুজুকি গাড়ি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৯ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:০৮ পিএম

শেয়ার করুন:

‘কোটিপতি ভিক্ষুক’ মাঙ্গিলাল, আছে ৩ বাড়ি-সুজুকি গাড়ি

ভারতের ইন্দোরে এক কোটিপতি ভিক্ষুকের সন্ধান মিলেছে। চলাফেরা করেন বল-বিয়ারিং লাগানো চাকার একটি লোহার ঠেলাগাড়িতে বসে। কাঁধে একটি ব্যাগ, আর জুতার ভেতরে হাত ঢুকিয়ে নিজেকে ঠেলে নিয়ে যান। পথচারীদের কাছে তিনি ভিক্ষা চান না; বরং এমন ভঙ্গিতে বসে থাকেন যাতে মানুষ স্বেচ্ছায় দরিদ্র মানুষটিকে সাহায্য করতে এগিয়ে আসেন। শারীরিক প্রতিবন্ধী এই কোটিপতির আছে তিনটি বাড়ি, যার একটি তার নামে বরাদ্দপ্রাপ্ত সরকারি ঘর, তিনটি অটোরিকশা এবং একটি মারুতি সুজুকি ডিজায়ার গাড়ি।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি বলছে, ইন্দোরের ব্যস্ত সারাফা বাজারের ভেতরে ভিক্ষ করা এই ব্যক্তির নাম মাঙ্গিলাল। ইন্দোরকে ভিক্ষুকমুক্ত করার চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে স্থানীয় নারী ও শিশু উন্নয়ন দফতরের ভিক্ষাবিরোধী অভিযানের সময় মাঙ্গিলালের তথ্য সামনে আসে। 


বিজ্ঞাপন


গত শনিবার গভীর রাতে সারাফা এলাকায় নিয়মিত ভিক্ষা করা এক কুষ্ঠরোগী ব্যক্তির খবর পেয়ে উদ্ধারকারী দল মাঙ্গিলালকে তুলে আনার পর তারা এটিকে একটি সাধারণ ঘটনা বলে মনে করেছিল। কিন্তু তদন্তে উঠে আসে চমকপ্রদ তথ্য।
 
এনডিটিভি বলছে, দীর্ঘদিন ধরে ‘নীরব ভিক্ষার’ কৌশল রপ্ত করেছিলেন মাঙ্গিলাল। তিনি কখনো কারো কাছে ভিক্ষা চাইতেন না। বরং নিজের লোহার গাড়িতে বসে থাকতেন। বাকি কাজ করত মানুষের সহানুভূতি। মানুষ স্বেচ্ছায় দান করত। শুধু ভিক্ষা থেকেই তার দৈনিক আয় ছিল প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ রুপি।
 
তবে তদন্তকারীদের মতে, আসল ‘ব্যবসা’ শুরু হতো রাত নামার পর।
 
জিজ্ঞাসাবাদে মাঙ্গিলাল স্বীকার করেন, ভিক্ষা থেকে পাওয়া টাকা তিনি নিজের জীবিকা নির্বাহে খরচ করতেন না; বরং সেই অর্থ আবার সারাফা বাজারেই বিনিয়োগ করতেন। তিনি স্থানীয় ব্যবসায়ীদের একদিন বা এক সপ্তাহের জন্য নগদ টাকা ধার দিতেন এবং প্রতিদিন সন্ধ্যায় নিজে গিয়ে সুদ আদায় করতেন। 
 
কর্মকর্তাদের ধারণা, তিনি ৪ থেকে ৫ লাখ রুপি পর্যন্ত ঋণ দিয়েছেন এবং সুদসহ প্রতিদিন ১ হাজার থেকে ২ হাজার রুপি আয় করতেন।
 
প্রতিবেদন অনুসারে, যাকে এতদিন নিঃস্ব বলে মনে করা হতো, সেই ব্যক্তি আসলে ইন্দোরের অভিজাত এলাকায় অবস্থিত তিনটি বাড়ির মালিক, যার মধ্যে একটি তিনতলা ভবন। তার তিনটি অটোরিকশা আছে যেগুলো প্রতিদিন ভাড়া দেওয়া হয়। এছাড়া একটি মারুতি সুজুকি ডিজায়ার গাড়িও আছে, সেটিও নিজে ব্যবহার না করে ভাড়ায় খাটান।

এতসব সম্পদ থাকা সত্ত্বেও শারীরিক প্রতিবন্ধিতার কারণে ‘প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা’— সরকারি প্রকল্পের আওতায় একটি এক বেডরুম, হল ও রান্নাঘরবিশিষ্ট ফ্ল্যাটও বাগিয়ে নেন মাঙ্গিলাল। 

উদ্ধার অভিযানে অংশ নেওয়া রাজ্যের নারী ও শিশু উন্নয়ন দপ্তরের কর্মকর্তা দীনেশ মিশ্র বলেন, মাঙ্গিলালকে বর্তমানে উজ্জয়িনীর সেবাধাম আশ্রমে পাঠানো হয়েছে। তার ব্যাংক হিসাব ও সম্পত্তির তদন্ত চলছে। যারা তার কাছ থেকে টাকা ধার নিয়েছেন, সেই ব্যবসায়ীদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
 
২০২১ বা ২০২২ সাল থেকে ভিক্ষা করে আসা মাঙ্গিলালকে বর্তমানে একটি আশ্রয়কেন্দ্রে রাখা হয়েছে। তার বিষয়ে আরও তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রস্তুত করে কালেক্টরের কাছে জমা দেয়া হয়েছে।
 
সূত্র: এনডিটিভি


এমএইচআর


বিজ্ঞাপন


 

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর