জাপানের বর্তমান পার্লামেন্ট ভেঙে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি। একটি সঙ্গে আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি দেশটিতে জাতীয় নির্বাচনের ডাক দিয়েছেন তিনি, যাতে জাপানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ত্বরান্বিত করার জন্য ব্যয় বৃদ্ধি, কর হ্রাস এবং একটি নতুন নিরাপত্তা কৌশলের জন্য ভোটারদের সমর্থন আদায় করা যায়।
সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে তাকাইচি জানান, আগামী শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) পার্লামেন্ট ভেঙে দেবেন তিনি এবং আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি জাপানের ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে পরিচিত নিম্নকক্ষ বা হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসের ৪৬৫টি আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
বিজ্ঞাপন
তিনি বলেন, ‘এই নির্বাচনের ওপর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমি আমার নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ বাজি ধরছি। আমি চাই জনগণ সরাসরি সিদ্ধান্ত নেবে যে তারা আমাকে জাতির ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব দেবে কিনা।’
গত অক্টোবর মাসে দেশটির প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের অনুসারী এবং মার্গারেট থ্যাচারের ভক্ত হিসেবে পরিচিত রক্ষণশীল নেত্রী সানায়ে তাকাইচি।
বর্তমানে তার দল লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) বর্তমানে প্রতিনিধি পরিষদে ১৯৯টি আসন নিয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রেখেছে। তবে তাকাইচি চাইছেন এই নির্বাচনের মাধ্যমে নিজের শাসনব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে।
তাকাইচি খাদ্যের ওপর ৮ শতাংশ ভোগ কর দুই বছরের জন্য বন্ধ রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন এবং বলেছেন যে তার ব্যয় পরিকল্পনা কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে, পারিবারিক ব্যয় বৃদ্ধি করবে এবং অন্যান্য কর রাজস্ব বাড়াবে। যদিও এই ধরনের কর কর্তনের ফলে দেশটির বার্ষিক রাজস্ব ৫ ট্রিলিয়ন ইয়েন (৩২ বিলিয়ন ডলার) কমিয়ে দেবে।
বিজ্ঞাপন
এছাড়াও গত ডিসেম্বরে তাকাইচির মন্ত্রিসভা রেকর্ড ৯ ট্রিলিয়ন ইয়েনের (৫৭ বিলিয়ন ডলার) প্রতিরক্ষা বাজেট অনুমোদন করেছে। চীনের ক্রমবর্ধমান সামরিক তৎপরতাকে জাপানের জন্য ‘বৃহত্তম কৌশলগত চ্যালেঞ্জ’ হিসেবে বর্ণনা করে এই বিশাল সামরিক ব্যয় বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।
সূত্র: রয়টার্স, বিবিসি
এমএইচআর

