মিনেসোটা রাজ্যের মিনিয়াপোলিসে মার্কিন সরকারের অভিবাসনবিরোধী অভিযানের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া বিক্ষোভ চরম আকার ধারণ করেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আলাস্কাভিত্তিক সেনাবাহিনীর ১১তম এয়ারবোর্ন ডিভিশনের দুটি পদাতিক ব্যাটালিয়নকে ‘প্রিপেয়ার-টু-ডিপ্লয়’ বা মোতায়েনের জন্য প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর আগে গত বৃহস্পতিবার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ১৮০৭ সালের বিতর্কিত ‘ইনসারেকশন অ্যাক্ট’ (বিদ্রোহ দমন আইন) প্রয়োগ করে সেনা পাঠানোর হুমকি দিয়েছিলেন। পেন্টাগনের এই পদক্ষেপ তারই প্রতিফলন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মিনিয়াপোলিসে উত্তেজনা চরমে ওঠে ৭ জানুয়ারি। ওই দিন রেনি নিকোল গুড (৩৭) নামের তিন সন্তানের এক জননীকে তার গাড়ির ভেতরে গুলি করে হত্যা করেন আইসিই এজেন্ট জোনাথন রস। মার্কিন নাগরিক ও কবি রেনি গুডের পরিবারের দাবি, তিনি বিক্ষোভকারী ছিলেন না। সন্তানকে স্কুলে নামিয়ে দিয়ে বাড়ি ফেরার পথে আইসিইর অভিযানের মুখে পড়েন। এই হত্যাকাণ্ডের ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে পুরো মিনিয়াপোলিস বিক্ষোভে ফেটে পড়ে।
বিজ্ঞাপন
এদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই বিক্ষোভকারীদের ‘পেশাদার আন্দোলনকারী’ ও ‘বিদ্রোহী’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, মিনেসোটার দুর্নীতিবাজ রাজনীতিবিদেরা আইন মানতে ব্যর্থ হলে তিনি সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপ করবেন। বিশেষ করে সোমালি অভিবাসী সম্প্রদায়কে এই অস্থিরতার জন্য দায়ী করছেন তিনি।
তবে মিনিয়াপোলিসের মেয়র জেকব ফ্রে সেনা মোতায়েনের তীব্র বিরোধিতা করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘এটি হবে একটি ভয়াবহ পদক্ষেপ। আমাদের নাগরিকদের সুরক্ষার জন্য অতিরিক্ত ফেডারেল এজেন্টের প্রয়োজন নেই। সেনা মোতায়েন কেবল উত্তেজনা বাড়াবে।’
মিনেসোটার গভর্নর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ইতোমধ্যে রাজ্যে ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েন করেছেন।
পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পার্নেল জানিয়েছেন, কমান্ডার ইন চিফের আদেশ পালনে সেনাবাহিনী সব সময় প্রস্তুত। আলাস্কা থেকে নির্বাচিত এই ১ হাজার ৫০০ সেনাসদস্য তীব্র শীতে ও প্রতিকূল পরিবেশে অভিযান চালাতে পারদর্শী।
বিজ্ঞাপন
প্রসঙ্গত, মিনিয়াপোলিসে ইতোমধ্যে ৩ হাজার ফেডারেল এজেন্ট মোতায়েন রয়েছে। তা সত্ত্বেও নতুন করে সেনা মোতায়েনের এই প্রস্তুতি যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। বিরোধীরা একে ট্রাম্পের ‘কর্তৃত্ববাদী’ আচরণ হিসেবে দেখছেন, অন্যদিকে হোয়াইট হাউস একে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার অপরিহার্য পদক্ষেপ বলে দাবি করেছে।
এফএ

