ভূমধ্যসাগর উপকূলীয় উত্তর আফ্রিকার দেশ লিবিয়ার পূর্ব প্রান্তে একটি খামারে আরও একটি গণকবরের খোঁজ মিলেছে। ওই গণকবর থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ২১ জন অভিবাসীর মরদেহ।
দেশটির নিরাপত্তা বিভাগের দু’টি সূত্রের বরাতে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, গত বুধবার লিবিয়ার নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে, ওই খামারের একটি আটককেন্দ্র থেকে উদ্ধার করা হয়েছে শিশু, নারীসহ ১০ জন অভিবাসীকে। তাদের উদ্ধারের পর হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। তাদের প্রত্যেকের শরীরের নির্যাতনের চিহ্ন রয়েছে।
বিজ্ঞাপন
পরিচয় গোপন রাখার শর্তে সূত্রগুলো জানিয়েছে, সাব-সাহারান আফ্রিকা বিভিন্ন দেশ থেকে আসা অভিবাসীদের আজদাবিয়া শহরের একটি খামারে আটক রাখা হয়েছে বলে জানতে পারে লিবিয়ার নিরাপত্তা বিভাগের কর্মকর্তারা। এরপরই ওই খামারটিতে অভিযান চালানো হয়।
🚨 BREAKING NEWS | LIBYA 🚨
— Refugees In Libya (@RefugeesinLibya) January 14, 2026
Mass graves have been discovered in Ajdabiya, eastern Libya.
At least 21 people — refugees, migrants, and stateless persons of different African nationalities — were found buried after being detained, shot, and killed in cold blood.
Survivors report… pic.twitter.com/hMOdHzPDdc
নিরাপত্তা বাহিনীর একটি সূত্র বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানায়, ‘আমরা সেখানে নারী, পুরুষ, শিশুসহ বিভিন্ন বয়সের অভিবাসীদের পেয়েছি। তাদের প্রত্যেকের শরীরে নির্যাতনের চিহ্ন ছিল। উদ্ধারের পর তাদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতালে পৌঁছে অভিবাসীরা জানান, তাদের সঙ্গে আরো অভিবাসীরা ছিলেন। কিন্তু তাদের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।’
অভিবাসীদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে অন্যদের খোঁজ করতে গিয়েই খামারটিতে গণকবরের সন্ধান পায় নিরাপত্তা বাহিনীর কর্মকর্তারা। আজদাবিয়া শহর থেকে দক্ষিণ-পূর্ব দিকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে পাওয়া গেছে এই গণকবরটি। গণকবর থেকে লিবিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর বেনগাজির দূরত্ব প্রায় ১৬০ কিলোমিটার।
বিজ্ঞাপন
সূত্রগুলো জানিয়েছে, ওই খামারের মালিককে গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনি তার জমিতে গণকবর থাকার বিষয়টি স্বীকার করেছেন।
লিবিয়ার টেলিভিশন চ্যানেল আল-মাসার-এর খবরে বলা হয়েছে, লিবিয়ার পূর্বাঞ্চলের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থা জানিয়েছে, তারা ‘বিভিন্ন আফ্রিকান জাতীয়তার ২১ জনের মরদেহসহ একটি গণকবরের সন্ধান পেয়েছে।’
جهاز الأمن الداخلي #اجدابيا يعلن العثور على مقبرة جماعية تضم 21 جثمانًا لأشخاص من جنسيات أفريقية مختلفة pic.twitter.com/bhijd5NZ85
— تلفزيون المسار - Almasar TV (@almasartvlibya) January 14, 2026
দেশটির স্বাধীন সংবাদমাধ্যম আল-ওয়াসাত জানিয়েছে, ওই ব্যক্তি খামারে অভিবাসীদের বন্দি করে রেখেছিল। ইন্টারনেটে প্রকাশিত কিছু ছবিতে দেখা গেছে (যদিও ছবিগুলো যাচাই করা সম্ভব হয়নি), ওই খামারের গণকবরে পাওয়া মরদেহগুলো কালো প্লাস্টিক ব্যাগে ভরে নিচ্ছেন নিরাপত্তা কর্মী ও রেড ক্রিসেন্টের স্বেচ্ছাসেবীরা।
অভিবাসীরা কীভাবে মারা গেছেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, এ বিষয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন নিরাপত্তা বিভাগের একটি সূত্র।
অস্থির লিবিয়া
ভৌগোলিকভাবে ইউরোপের কাছাকাছি হওয়ায় এবং দীর্ঘ ভূমধ্যসাগরীয় উপকূলের কারণে লিবিয়া দীর্ঘদিন ধরে অনিয়মিত অভিবাসীদের জন্য একটি প্রধান ট্রানজিট পয়েন্ট। এশিয়া, আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের সংঘাত ও দারিদ্র্য থেকে পালিয়ে ইউরোপ পৌঁছাতে চাওয়া অভিবাসীরা জীবনের ঝুঁকি জেনেও লিবিয়ায় ভিড় করেন।
২০১১ সালে ন্যাটো-সমর্থিত আন্দোলনে দেশটির দীর্ঘদিনের শাসক মুয়াম্মার গাদ্দাফির পতনের পর থেকে অস্থিরতা বিরাজ করছে লিবিয়ায়। দেশটিতে পূর্ব ও পশ্চিমে দুটি প্রশাসন সক্রিয় রয়েছে। ত্রিপোলি ভিত্তিক পশ্চিমের সরকারকে স্বীকৃতি দিয়েছে জাতিসংঘ। কিন্তু দুর্বল সীমান্ত-ব্যবস্থা ও অস্থিরতার সুযোগ নিয়ে মানবপাচারকারী চক্রগুলো বেশ সক্রিয় দেশটিতে।
অভিযোগ রয়েছে দেশটিতে আসার পর পাচারকারী চক্রগুলো অভিবাসীদের আটক করে এবং অত্যাচার, নির্যাতনের পাশাপাশি জোরপূর্বক শ্রমে বাধ্য করে। অভিবাসীদের অপহরণ করে তাদের পরিবারের কাছ থেকে মুক্তিপণ আদায়ের মতো ঘটনাও ঘটে। দেশটিতে অভিবাসীদের গণকবর দেওয়ার মতো ঘটনারও প্রমাণ পাওয়া গেছে। জাতিসংঘ ও বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার প্রতিবেদনে এসব ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করা হয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স, ইনফোমাইগ্রেন্টস
এমএইচআর

