যুদ্ধবিরতির মধ্যেও গাজায় থামছে না ইসরায়েলি হামলা। দখলদার দেশটির বিমান হামলায় আরো অন্তত ১০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্র ঘোষণা করেছে, হামাসের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি চুক্তির দ্বিতীয় ধাপ শুরু হয়েছে। এই ধাপে গাজার প্রশাসন পরিচালনা করবে একটি আন্তর্জাতিক তদারকিতে টেকনোক্র্যাট কমিটি।
ওয়াফা সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় দেইর এল-বালাহ কেন্দ্রীয় শহরে আল-হাওলি ও আল-জারউ পরিবারের বাড়ি ইসরায়েলি বিমান হামলার শিকার হয়। নিহতদের মধ্যে ১৬ বছরের এক কিশোরও রয়েছেন। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, নিহত মুহাম্মাদ আল-হাওলি হামাসের সশস্ত্র শাখা কাসাম ব্রিগেডসের কমান্ডার ছিলেন।
বিজ্ঞাপন
এই হামলা ইসরায়েলের বার্তা বহন করছে যে দ্বিতীয় ধাপ ‘নিজেদের শর্তে’ কার্যকর হবে। দ্বিতীয় ধাপে গাজার প্রশাসন পরিচালনা করবে একটি ১৫ সদস্যের টেকনোক্র্যাট কমিটি, যা আন্তর্জাতিক ‘বোর্ড অফ পিস’-এর তদারকিতে কাজ করবে।
গাজার বিভিন্ন স্থানে আরো প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। রাফাহ শহরের পশ্চিমে আল-আলম রাউন্ডঅ্যাবাউন্ডের কাছে একজনকে হত্যা করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। আল-নাবলুসি জংশনের কাছে পুলিশের একটি পোস্টে হামলায় একজন নিহত হয়েছে এবং নুসেইরাত শরণার্থী শিবিরে আল-খাতিব পরিবারের বাড়িতে বিমান হামলায় দুইজনের মৃত্যু হয়েছে।
হামাস আল-হাওলি পরিবারের ওপর হামলাকে ‘ঘৃণিত অপরাধ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। তবে তারা কমান্ডারের মৃত্যু স্বীকার করেনি।
যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ জানিয়েছেন, দ্বিতীয় ধাপের লক্ষ্য হলো ‘পুরোপুরি ডিমিলিটারাইজেশন, টেকনোক্র্যাট শাসন ও পুনর্গঠন।’ পরিকল্পনা অনুযায়ী গাজায় অবৈধ সশস্ত্র সদস্যদের নিষ্ক্রিয় করা হবে এবং আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী মোতায়েন করা হবে।
বিজ্ঞাপন
কমিটির নেতৃত্বে নিয়োজিত আলি শাথ জানিয়েছেন, কমিটি অস্ত্র নয়, মস্তিষ্কের ওপর নির্ভর করবে এবং সশস্ত্র গ্রুপের সঙ্গে কোনো সমন্বয় করবে না। হামাসের সিনিয়র নেতা বাসেম নাইম এই কমিটির গঠনকে ‘সঠিক পথে এক ধাপ’ হিসেবে স্বাগত জানিয়েছেন।
ইসরায়েলের হামলায় গাজায় প্রায় ৬ কোটি টন ধ্বংসাবশেষ জমে আছে, যার মধ্যে বিস্ফোরক, বিপজ্জনক বর্জ্য এবং মানবদেহের অংশ রয়েছে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে ইসরায়েলের হামলায় অন্তত ৭১ হাজার ৪৪১ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
এমআর

