শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারি, ২০২৬, ঢাকা

খামেনির সহযোগীসহ কয়েকজন ইরানি শীর্ষ কর্মকর্তার ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৬ জানুয়ারি ২০২৬, ০৫:৩১ এএম

শেয়ার করুন:

খামেনির সহযোগীসহ ইরানি কর্মকর্তাদের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা
ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের প্রধান আলি লারিজানি

ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনের অভিযোগে নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। সর্বশেষ এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়েছেন দেশটির শীর্ষ রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা কর্মকর্তারা। এমন পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হস্তক্ষেপের হুমকিও দিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয় জানায়, ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের (এসএনএসসি) সচিব আলি লারিজানিসহ কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। ওয়াশিংটনের অভিযোগ, এসব কর্মকর্তা বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে তেহরানের ‘নৃশংস’ দমননীতির মূল পরিকল্পনাকারী।


বিজ্ঞাপন


এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট বলেন, ‘স্বাধীনতা ও ন্যায়বিচারের দাবিতে ইরানের জনগণের পাশে যুক্তরাষ্ট্র দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়ে আছে।’

তিনি বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্দেশে ইরানি জনগণের বিরুদ্ধে নির্মম দমন-পীড়নের সঙ্গে জড়িত গুরুত্বপূর্ণ ইরানি নেতাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হচ্ছে। মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য দায়ীদের লক্ষ্য করতে ট্রেজারি বিভাগ সব ধরনের উপায় ব্যবহার করবে।’

এই নিষেধাজ্ঞার ফলে যুক্তরাষ্ট্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের যেকোনো সম্পদ জব্দ হবে এবং মার্কিন নাগরিকদের তাদের সঙ্গে ব্যবসা করা নিষিদ্ধ হবে।

ইরানের ওপর আগে থেকেই কঠোর নিষেধাজ্ঞা থাকায় নতুন এই পদক্ষেপগুলো অনেকটাই প্রতীকী হলেও, চলমান বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে তেহরানের ওপর ওয়াশিংটনের চাপ বাড়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। আলি লারিজানি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত।


বিজ্ঞাপন


এর আগে চলতি সপ্তাহে ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানিদের সরকারি প্রতিষ্ঠান দখলের আহ্বান জানিয়ে ‘খুনি ও নির্যাতনকারীদের নাম সংরক্ষণ করতে’ বলেন। এর জবাবে সামাজিক মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ইরানিদের হত্যার জন্য দায়ী করেন লারিজানি। তিনি লেখেন, ‘ইরানের জনগণের প্রধান খুনিদের নাম ঘোষণা করছি: ১. ট্রাম্প, ২. নেতানিয়াহু।’

অধিকারকর্মী বিভিন্ন সংগঠনের দাবি, বছরের শুরু থেকে ইরানে চলমান বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত হাজারো মানুষ নিহত হয়েছেন। তবে ইরানি সরকার এসব বিক্ষোভকারীকে ‘সশস্ত্র দাঙ্গাবাজ’ হিসেবে অভিহিত করে বলছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের উস্কানিতে তারা দেশজুড়ে বিশৃঙ্খলা ছড়াচ্ছে। সরকারের দাবি, বিক্ষোভ চলাকালে সশস্ত্র হামলায় ১০০ জনের বেশি নিরাপত্তা সদস্য নিহত হয়েছেন।

এদিকে মঙ্গলবার ইসরায়েলের নেতানিয়াহু-সমর্থিত টেলিভিশন চ্যানেল ১৪ দাবি করে, ‘বিদেশি শক্তি’ ইরানে বিক্ষোভকারীদের অস্ত্র সরবরাহ করছে, যাতে তারা সরকারি কর্মকর্তাদের লক্ষ্যবস্তু করতে পারে।

ট্রাম্প কয়েক দিন ধরে কড়া ভাষায় বক্তব্য দেওয়ার পর বুধবার রাতে যুক্তরাষ্ট্রের ইরানে হামলা আসন্ন বলে মনে হচ্ছিল। ইরান তার আকাশসীমা বন্ধ করে দেয়। ইসরায়েলের কয়েকটি শহরে বোমা আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয় এবং যুক্তরাষ্ট্র অঞ্চল থেকে কিছু কর্মী প্রত্যাহার করে নেয়। ইরানও যেকোনো মার্কিন হামলার কঠোর জবাব দেওয়ার হুমকি দেয়।

তবে শেষ পর্যন্ত ট্রাম্প তার অবস্থান কিছুটা নরম করেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, তাকে জানানো হয়েছে যে বিক্ষোভকারীদের হত্যাকাণ্ড বন্ধ হয়েছে।

ট্রাম্প বলেন, ‘তারা বলেছে, লোকজন তাদের দিকে গুলি করছিল, তাই তারা পাল্টা গুলি চালিয়েছে। কিন্তু আমাকে বলা হয়েছে, কোনো মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হবে না। আমি আশা করি এটা সত্যি।’

বৃহস্পতিবারও তিনি একই কথা পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, ইরানে বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুদণ্ড না দেওয়ার সিদ্ধান্ত ‘ভালো খবর’।

এর আগে বত বছরের জুন মাসে কোনো উস্কানি ছাড়াই ইসরায়েল ইরানে হামলা চালিয়ে শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা ও পরমাণু বিজ্ঞানীসহ বহু মানুষকে হত্যা করে। ওই হামলায় শতাধিক বেসামরিক নাগরিকও নিহত হন। ট্রাম্প দাবি করেন, ওই অভিযানে তিনি ‘পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে’ ছিলেন এবং শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ইরানের প্রধান পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে বোমা হামলা চালায়। পরে একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়।

ইরানে বিক্ষোভ শুরুর আগেই ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, ইরান যদি আবার পারমাণবিক বা ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি পুনর্গঠন করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র দেশটিতে পুনরায় হামলা চালাবে। সে সময় তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠক করছিলেন।

এদিকে তেহরানের তেল রফতানি বন্ধের লক্ষ্য নিয়ে ইরানের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরো জোরদার করছে যুক্তরাষ্ট্র। বৃহস্পতিবার মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ জানায়, ইরানের জ্বালানি রফতানির সঙ্গে জড়িত ১৮টি প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

এমআর

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর