শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারি, ২০২৬, ঢাকা

গ্রিনল্যান্ড নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মুখোমুখি ইউরোপ, সেনা পাঠাচ্ছে ৭ দেশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৫ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:২২ পিএম

শেয়ার করুন:

গ্রিনল্যান্ড নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মুখোমুখি ইউরোপ, বাড়ছে সামরিক উপস্থিতি

আঞ্চলিক নিরাপত্তার অযুহাতে গ্রিনল্যান্ড দখলে অনড় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই পরিস্থিতিতে আর্কটিক দেশটিতে সামরিক উপস্থিতি জোরদার করতে শুরু করেছে ইউরোপের দেশগুলো। 

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, বুধবার সন্ধ্যায় ওয়াশিংটনে মার্কিন ভাইস-প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সঙ্গে ডেনমার্ক এবং গ্রিনল্যান্ডের কর্মকর্তাদের বৈঠকটি ‘মৌলিক মতবিরোধ’-এর সমাধান ছাড়াই শেষ হওয়ায় ডেনমার্কের অনুরোধে সুইডেন, নরওয়ে, জার্মানি, ফ্রান্স এবং যুক্তরাজ্য সামরিক বাহিনী মোতায়েনের ঘোষণা দেয়। এর অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার ফ্রান্স ও জার্মানির সেনা সদস্যরা গ্রিনল্যান্ডে পৌঁছেছেন।


বিজ্ঞাপন


জার্মান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার সকালে একটি বিমানে করে ১৩ সদস্যের একটি জার্মান নজরদারি দল গ্রিনল্যান্ডের রাজধানী নিউকে পৌঁছায়।

গ্রিনল্যান্ডে সেনা মোতায়েনে যুক্ত হয়েছে ফ্রান্সও। পোল্যান্ডে নিযুক্ত ফরাসি রাষ্ট্রদূত অলিভিয়ে পোয়াভো দাভো বলেন, ‘গ্রিনল্যান্ডে মোতায়েন করা ফরাসি দলে প্রায় ১৫ জন পর্বত বিশেষজ্ঞ রয়েছেন।’

ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাক্রোঁ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে জানান, ‘প্রাথমিক সেনাদলকে শিগগিরই স্থল, আকাশ এবং সমুদ্র শক্তি দিয়ে শক্তিশালী করা হবে।।’


বিজ্ঞাপন


তিনি আরও বলেন, ‘আমরা যুক্তরাষ্ট্রকে দেখাতে চাই—ন্যাটো এখানে উপস্থিত। ডেনমার্ক গ্রিনল্যান্ডে নজরদারি সক্ষমতা বাড়িয়েছে এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করছে।’

এর আগে বুধবার রাতে ড্যানিশ বিমান বাহিনীর একটি বিমান নিউক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। 

এছাড়া বেশ কয়েকটি ইউরোপীয় রাষ্ট্র গোয়েন্দা অভিযানের অংশ হিসেবে সেখানে সৈন্য পাঠাচ্ছে বলেও জানা গেছে। যার মধ্যে জার্মানি, সুইডেন, নরওয়ে, নেদারল্যান্ডস এবং যুক্তরাজ্যের সেনারাও থাকবেন।

প্রসঙ্গত, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বার বার বলে আসছেন, যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য গ্রিনল্যান্ড খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কোনো ধরনের প্রমাণ ছাড়াই তিনি দাবি করেন, ভূখণ্ডটি সব সময় রাশিয়া ও চীনের জাহাজ দিয়ে ঘেরাও থাকে।

গ্রিনল্যান্ডের উত্তর-পশ্চিম প্রান্তে অবস্থিত পিটুফিক ঘাঁটিতে ইতোমধ্যেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ১০০ জনেরও বেশি সামরিক কর্মী স্থায়ীভাবে মোতায়েন রয়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকেই এই ঘাঁটিটি যুক্তরাষ্ট্র পরিচালনা করে আসছে। ডেনমার্কের সঙ্গে বিদ্যমান চুক্তি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র যত খুশি তত সেনা গ্রিনল্যান্ডে মোতায়েন করতে পারবে। কিন্তু ওয়াশিংটনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, ইজারার চুক্তি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য যথেষ্ট নয়।

তিনি বলেন, ‘দেশগুলো ৯ বছরের, এমনকি ১০০ বছরের চুক্তিও করতে পারে না। তাদের মালিকানা থাকতে হবে। আমি চীনের জনগণকে ভালোবাসি। আমি রাশিয়ার জনগণকে ভালোবাসি। কিন্তু প্রতিবেশী হিসেবে আমি তাদের গ্রিনল্যান্ডে চাই না। এটা হতে পারে না। আর এটা ন্যাটোকে বুঝতে হবে।’

এদিকে, ডেনমার্কের ন্যাটো মিত্র ইউরোপীয় প্রধান প্রধান দেশগুলির পাশাপাশি কানাডা চলতি সপ্তাহে এক বিবৃতিতে দেশটির প্রতি তাদের সমর্থন জানিয়েছে। বিবৃতিতে তারা বলেছে, নিজেদের সম্পর্ক সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সিদ্ধান্ত কেবল ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডই নিতে পারে।

আর্কটিক নিরাপত্তার ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের মতোই আগ্রহী বলে জোর দিয়ে তারা বলেছে, এটি অবশ্যই ‘সম্মিলিতভাবে’ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সহ মিত্রদের নিয়েই অর্জন করা উচিত।

তারা সার্বভৌমত্ব, আঞ্চলিক অখণ্ডতা এবং সীমান্ত রেখার অলঙ্ঘন সহ জাতিসংঘ সনদের নীতিগুলি সমুন্নত রাখতেও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। তবে সম্প্রতি ভেনেজুয়েলায় চালানো মার্কিন সামরিক অভিযান এবং দেশটির প্রেসিডেন্টকে রাজধানী কারাকাস থেকে তুলে আনার পর গ্রিনল্যান্ড নিয়েও ডেনমার্কসহ ন্যাটোর ইউরোপীয় অন্য মিত্র দেশগুলোর মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

সূত্র: রয়টার্স

এমএইচআর

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর