বুধবার, ১৪ জানুয়ারি, ২০২৬, ঢাকা

‘পুরো অঞ্চলে আগুন লাগাতে প্রস্তুত ইরান’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৪ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯:৪৩ পিএম

শেয়ার করুন:

‘পুরো অঞ্চলে আগুন লাগাতে প্রস্তুত ইরান’

যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হামলার মুখে বর্তমানে ‘সর্বোচ্চ প্রতিরক্ষামূলক প্রস্তুতি’ গ্রহণ করেছে ইরানের সামরিক বাহিনী। এই পরিস্থিতিতে পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে উত্তেজনা আরও বাড়ার ঝুঁকি তৈরি করছে।

ইরানি কর্মকর্তারা বলছেন, মার্কিন হামলার ক্ষেত্রে ইরান বিভিন্ন ধরণের পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত রয়েছে।


বিজ্ঞাপন


এরমধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন মিত্রদের হুঁশিয়ারি দিয়ে ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালালে ইরান এই অঞ্চলে আগুন ধরিয়ে দেবে।’ 

তিনি উল্লেখ্য করেন, মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন জাহাজ এবং সামরিক ঘাঁটি এবং ইসরায়েলি ভূখণ্ড ইরানের বৈধ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবে। 

এদিকে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) বিমান বাহিনীর কমান্ডার সরদার মুসাভি বলেছেন, ইরানের সামরিক বাহিনী বর্তমানে প্রতিরক্ষামূলক প্রস্তুতির সর্বোচ্চ পর্যায়ে আছে। যেকোনো আগ্রাসন মোকাবিলায় তারা প্রস্তুত। 

ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, মুসাভি আরও বলেছেন- ইসরায়েলের সঙ্গে গত জুনের ১২ দিনের যুদ্ধের আগের সময়ের তুলনায় বর্তমানে ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত বৃদ্ধি করা হয়েছে। ওই সময় যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল, তা মেরামত করা হয়েছে। ফলে আমাদের বাহিনী বর্তমানে সর্বোচ্চ প্রস্তুত অবস্থায় রয়েছে।

এছাড়াও ইরানে হামলা চালানো হলে শত্রুপক্ষের জন্য ‘অনেক চমক’ অপেক্ষা করছে বলে সতর্কবার্তা দিয়েছেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী আজিজ নাসিরজাদেহ।

রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন প্রেস টিভি জানিয়েছে, বুধবার এক নিরাপত্তা বৈঠকে নাসিরজাদেহ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের হুমকি যদি বাস্তবে রূপ নেয়, তাহলে শেষ রক্তবিন্দু ও পূর্ণ শক্তি দিয়ে দেশ রক্ষা করা হবে। হামলায় যেসব দেশ সহায়তা দেবে তারাও বৈধ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবে।

প্রতিরক্ষামন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, গত বছরের জুনে ইসরায়েলের সঙ্গে ১২ দিনের সংঘাতে যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল, তা মেরামত করা হয়েছে। একই সঙ্গে ক্ষেপণাস্ত্রসহ সামরিক উৎপাদন সক্ষমতাও বৃদ্ধি করা হয়েছে। 

এদিকে তীব্র উত্তেজনার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। এতে ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার শঙ্কা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। 

বুধবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ও যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের মধ্যে যোগাযোগ স্থগিত করা হয়েছে। 

যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালালে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত দেশগুলোতে থাকা মার্কিন সেনা ঘাঁটিতে হামলা চালানোর জানিয়ে ওই ইরানি কর্মকর্তা আরও বলেছেন, ‘তেহরান সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে শুরু করে তুরস্ক পর্যন্ত আঞ্চলিক দেশগুলোকে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়, তাহলে ওই দেশগুলোর মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে আক্রমণ করা হবে।’

এমন হুমকির মধ্যেই মধ্যপ্রচ্যে সবচেয়ে বড় ঘাঁটি— কাতারে অবস্থিত আল উদেইদ ঘাঁটি থেকে বেশ কিছু সেনা সদস্যদের সরিয়ে নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।

একজন মার্কিন কূটনীতিক রয়টার্সকে জানিয়েছেন, বুধবার সন্ধ্যা মধ্যে তাদের আল উদেইদ সেনা ঘাঁটি ছেড়ে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বলা হয়েছে। তবে তিনি এই পরিবর্তনের কারণ সম্পর্কে জানেন না বলেও উল্লেখ করেছেন।

অপরদিকে  আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধি এবং সম্ভাব্য মার্কিন হামলার আশঙ্কায় নিজেদের নাগরিকদের ইরান ত্যাগ করার নির্দেশ দিয়েছে ভারত। 

বুধবার তেহরানে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক বিবৃতিতে বলেছে, ইরানে অবস্থানরত শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, তীর্থযাত্রী এবং পর্যটকসহ সকল ভারতীয় নাগরিককে ‘ক্রমবর্ধমান পরিস্থিতির’ কারণে বাণিজ্যিক বিমানসহ উপলব্ধ পরিবহনের মাধ্যমে ইরান ত্যাগ করার আহ্বান জানানো হচ্ছে।

এরআগে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে সহিংসতা বৃদ্ধির আশঙ্কায় যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং অস্ট্রেলিয়াসহ বেশ কয়েকটি দেশ তাদের নাগরিকদের ইরান ত্যাগ করার নির্দেশ দেয়। 

সূত্র: আলজাজিরা 

এমএইচআর

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর