রোববার, ১১ জানুয়ারি, ২০২৬, ঢাকা

এসডিএফের শেষ যোদ্ধাদের বিদায়, আলেপ্পো এখন শান্ত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১১ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯:১৮ এএম

শেয়ার করুন:

শেষ এসডিএফ যোদ্ধাদের বিদায়, আলেপ্পো এখন শান্ত
এসডিএফ যোদ্ধাদের চলে যাওয়ার পর সিরিয়ার আলেপ্পো শহরের শেইখ মাকসুদ এলাকায় আনন্দে মেতেছেন দেশটির মানুষ। ছবি সংগৃহীত।

সিরিয়ার আলেপ্পো শহর থেকে কুর্দি নেতৃত্বাধীন সিরিয়ান ডেমোক্র্যাটিক ফোর্সেসের (এসডিএফ) শেষ যোদ্ধারাও বেরিয়ে গেছেন।

কর্মকর্তাদের বরাতে জানা গেছে, কয়েকদিন ধরে চলা সংঘর্ষের পর অস্ত্রবিরতির চুক্তির ভিত্তিতে নিরাপদভাবে তাদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। খবর আল জাজিরার।


বিজ্ঞাপন


কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যমটিকে আলেপ্পোর গভর্নর আজজাম আল-গবারিব বলেন, ‘শনিবার রাতে সরকারি বাহিনী সমন্বয় করে যোদ্ধাদের শহর থেকে বাসে সরিয়ে নিয়েছে। এখন আলেপ্পো এসডিএফ যোদ্ধাদের থেকে খালি।’

এসডিএফ কমান্ডার মজলুম আবদি জানান, আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতার মাধ্যমে অস্ত্রবিরতি এবং যোদ্ধা ও নাগরিকদের নিরাপদ সরানোর বিষয়ে বোঝাপড়া হয়েছে।

সামাজিক মাধ্যমে এক পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘আমরা এমন একটি বোঝাপড়ায় পৌঁছেছি যা অস্ত্রবিরতি নিশ্চিত করে এবং আশরাফিয়াহ ও শেইখ মাকসুদ এলাকার মৃত, আহত, আটক নাগরিক ও যোদ্ধাদের উত্তরের ও পূর্বের সিরিয়ার দিকে সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করে।

‘আমরা মধ্যস্থতাকারীদের আহ্বান জানাই, তারা প্রতিশ্রুতিতে স্থির থাকুক, লঙ্ঘন বন্ধ করুক এবং বাস্তুচ্যুতদের নিরাপদে ফেরার ব্যবস্থা নিশ্চিত করুক।’


বিজ্ঞাপন


এ ঘটনা ঘটে কয়েকদিন ধরে চলা সংঘর্ষের পর। সংঘর্ষের শুরু হয়েছিল শেইখ মাকসুদ এলাকা দখলের সময়, যখন এসডিএফকে জাতীয় সেনায় অন্তর্ভুক্ত করার আলোচনা ব্যর্থ হয়।

উত্তরপূর্ব সিরিয়ার বেশিরভাগ এলাকার নিয়ন্ত্রণ যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত এসডিএফের হাতে। মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংগঠন ইসলামিক স্টেটবিরোধী লড়াইয়ে তারাই দেশটিতে ওয়াশিংটনের মূল সহায়ক শক্তি।

সিরিয়ায় ১৪ বছর ধরে চলা গৃহযুদ্ধে উত্তরপূর্ব সিরিয়ার বেশিরভাগ এলাকা ও আলেপ্পোর কিছু অংশে তারা কুর্দি নেতৃত্বাধীন একটি আধা-স্বায়ত্তশাসিত শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত করেছে। ২০২৪ সালের শেষদিকে বাশার আল-আসাদকে উৎখাত করে দামেস্কে ইসলামপন্থি গোষ্ঠী ক্ষমতা নেওয়ার পর তাদের সঙ্গে একীভূত হতে চাপও তারা অনেকখানিই অগ্রাহ্য করে আসছে।

গত বছর দামেস্ক এসডিএফের সঙ্গে একটি সমঝোতায় পৌঁছেছিল, যার আওতায় ২০২৫ এর শেষ নাগাদ কুর্দি নেতৃত্বাধীন বাহিনীর সিরিয়ার কেন্দ্রীয় বাহিনীতে পুরোপুরি একীভূত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এ বিষয়ে খুব একটা অগ্রগতি দেখা যায়নি, এজন্য দুই পক্ষই একে অপরকে দায়ী করে আসছে।

যুক্তরাষ্ট্র উভয় পক্ষের মধ্যে মধ্যস্থতার চেষ্টা চালিয়ে আসে। এ নিয়ে সর্বশেষ গত রবিবারেও বৈঠক হয়।

কূটনীতিকরা সতর্ক করে বলছেন, এসডিএফকে সিরীয় সেনাবাহিনীতে একীভূত করা না গেলে সামনে আরো সংঘাত দেখা যেতে পারে। এমনকী এই সংঘাতে তুরস্কও জড়িয়ে পড়তে পারে।

কুর্দি বাহিনীগুলোকে ‘সন্ত্রাসী’ বিবেচনা করা আঙ্কারা দীর্ঘদিন ধরেই কুর্দি যোদ্ধাদের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার হুমকি দিয়ে আসছে।

এমআর

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর