ভেনেজুয়েলার তেল পরিবহন ঠেকাতে এবং চাপ সৃষ্টি করতে দেশটির আরও একটি তেলবাহী জাহাজ জব্দ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ক্যারিবীয় সাগরে রাতের আঁধারে ‘ওলিনা’ নামের এই ট্যাংকারটি আটক করা হয়। অভিযানে অংশ নেয় যুক্তরাষ্ট্রের কোস্ট গার্ড ও জয়েন্ট টাস্ক ফোর্স সাউদার্ন স্পিয়ার।
মার্কিন সামরিক বাহিনী এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, পশ্চিম গোলার্ধে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অবৈধ কার্যক্রম বন্ধ করাই তাদের লক্ষ্য। যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারি ক্রিস্টি নোম বলেন, ‘ওলিনা’ তথাকথিত ‘ঘোস্ট ফ্লিট’-এর অংশ, যেসব জাহাজ নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ভেনেজুয়েলার তেল পরিবহন করে। তাঁর দাবি, জাহাজটি ভেনেজুয়েলা ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রের নজর এড়িয়ে পালানোর চেষ্টা করছিল।
বিজ্ঞাপন
নৌপরিবহন তথ্য বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান লয়েডস লিস্ট ইন্টেলিজেন্স জানিয়েছে, ‘ওলিনা’ জাহাজটি অবৈধভাবে ভাবে তিমুর-লেস্তের পতাকা ব্যবহার করছিল।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে এটি যুক্তরাষ্ট্রের জব্দ করা পঞ্চম তেলবাহী জাহাজ। এর আগে উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরে ‘বেলা ১’ নামে একটি রুশ পতাকাবাহী ট্যাংকার দখলে নেয় যুক্তরাষ্ট্র। ওই জাহাজটিকে ধরতে টানা এক সপ্তাহ ধাওয়া চলে। পাশাপাশি বুধবার ‘সোফিয়া’ নামের আরেকটি নিষেধাজ্ঞাভুক্ত ট্যাংকার জব্দের ঘোষণাও দেয় ওয়াশিংটন।
এদিকে রাশিয়া জানিয়েছে, ‘বেলা ১’ জাহাজের দুই রুশ নাবিককে মুক্তি দেওয়ার সিদ্ধান্তের জন্য তারা যুক্তরাষ্ট্রকে ধন্যবাদ জানিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও স্বীকার করেছেন, জাহাজটি রক্ষায় মস্কো একটি সাবমেরিন ও একটি ডেস্ট্রয়ার পাঠিয়েছিল, তবে যুক্তরাষ্ট্রের উপস্থিতিতে সেগুলো দ্রুত সরে যায়।
যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, ভেনেজুয়েলার উপকূলের কাছে সক্রিয় এসব ট্যাংকার আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে তেল পরিবহনে জড়িত। সে কারণেই ধারাবাহিকভাবে এসব জাহাজ জব্দ করা হচ্ছে।
বিজ্ঞাপন

