অভিবাসীদের সুইডিশ সমাজে সঠিকভাবে অন্তর্ভুক্ত করতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে স্টকহোম। বিশেষ করে, সুইডেনে সদ্য আসা অভিবাসীদের শহরটির শ্রমবাজারে অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করতে এই উদ্যোগটি নেয়া হয়েছে। এজন্য স্থানীয় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, নাগরিক সমাজ ও সরকারি খাতকে একটি উন্মুক্ত নেটওয়ার্কে যুক্ত করেছে স্টকহোম কর্তৃপক্ষ।
ইউরোপীয় কমিশন মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য শিক্ষা, কর্মসংস্থান, দক্ষতা উন্নয়ন ও বৈচিত্র্য নিশ্চিত করা, যাতে সমাজ অন্তর্ভুক্তিমূলক হয় এবং দক্ষ কর্মশক্তি গড়ে তোলা যায়। এই পরিকল্পনায় সাম্প্রতিক সময়ে ইউক্রেন থেকে আসা বাস্তুচ্যুত মানুষের চাহিদাকেও মাথায় রাখা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
সুইডিশ সরকার জানিয়েছে, যারা স্বেচ্ছায় নিজ নিজ দেশে ফিরে যেতে চান তাদের জন্য প্রত্যাবাসন অনুদান অর্থাৎ আর্থিক সহায়তার পরিমাণও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হচ্ছে। এই সুযোগ নিতে পারবেন দেশটিতে বৈধভাবে বসবাসরত তৃতীয় দেশের নাগরিকেরা, শরণার্থীরা এবং সহায়ক সুরক্ষা মর্যাদা পাওয়া ব্যক্তিরাও।
সুইডিশ অভিবাসন সংস্থা জানিয়েছে, নতুন এই অনুদান কর্মসূচি নতুন বছরের প্রথম দিন থেকেই কার্যকর করা হয়েছে। সুইডেনে বসবাস করেও যারা সুইডিশ সমাজের সঙ্গে নিজেদের খাপ খাইয়ে নিতে পারছেন না, এমন অভিবাসীরা এই সুযোগটি নিতে পারবেন।
স্বেচ্ছায় প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় সহায়তা জোরদারের লক্ষ্য স্থানীয় পৌরসভাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করার জন্য একজন জাতীয় সমন্বয়কারী নিয়োগ দিয়েছে স্টকহোম।
অভিবাসন ও অন্তর্ভুক্তি নীতির পরিবর্তন
সুইডিশ সরকারের একটি কমিটি তাদের তদন্ত শেষে অভিবাসন নীতিতে কিছু পরিবর্তন আনার প্রস্তাব দিয়েছে। শরণার্থী ও সহায়ক সুরক্ষা পাওয়া ব্যক্তিদের স্থায়ী বসবাসের অনুমতি বাতিল করে দেয়ার প্রস্তাব দিয়েছে ওই কমিটি। শুধু তাই নয়, যারা ইতিমধ্যে দীর্ঘমেয়াদে দেশটিতে বসবাস করছেন বা বসবাসের অনুমতি পেয়েছেন তাদের স্থায়ী বসবাসের অনুমতি বাতিলেরও সুপারিশ করেছেন তারা।
দেশটির অভিবাসনমন্ত্রী ইয়োহান ফোরসেল জানিয়েছেন, এর মধ্য দিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের সুইডিশ নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে উৎসাহিত করা হবে। চলতি বছরই এ সংক্রান্ত একটি আইনগত প্রস্তাব আসার কথা রয়েছে বলেও জানান তিনি।
গত বছর সুইডেন জানিয়েছিল, দেশটির বসবাসরত অভিবাসীদের ‘সৎ জীবপযাপন’ করতে হবে। না হলে, তাদের নিজ নিজ দেশ ফেরত পাঠানো হতে পারে।
নর্ডিক মন্ত্রিপরিষদের অধীনে পরিচালিত আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘নর্ডরেজিও’-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সুইডেনসহ অন্যান্য নর্ডিক দেশগুলো সম্প্রতি তাদের অভিবাসন ও অন্তর্ভুক্তিকরণ নীতি কঠোর করেছে। এতে বলা হয়েছে, অধিকারভিত্তিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে সরে এসে এখন অভিবাসীদের কর্তব্য ও ব্যক্তিগত দায়িত্বের ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে এসব দেশ।
নর্ডিক মন্ত্রিপরিষদ সমর্থিত ওইসিডি-এর এক নতুন প্রতিবেদনে ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড, নরওয়ে ও সুইডেনে অভিবাসীদের অন্তর্ভুক্তিকরণ পরিস্থিতি মূল্যায়ন করা হয়েছে। এই প্রতিবেদনটিও নর্ডিক দেশগুলোতে বিরাজমান বৈষম্য দূর করা এবং দক্ষতা মূল্যায়নে অসামঞ্জস্যতা ঠেকাতে অব্যাহত প্রচেষ্টার আহ্বান জানিয়েছে।
সূত্র: ইনফোমাইগ্রেন্টস
এমএইচআর

