ফিলিস্তিনের গাজায় যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়ন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষা বাহিনীতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী অংশগ্রহণ করতে পারে বলে আলোচনা চলছে। তবে গাজায় পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর উপস্থিতি চায় না ইসরায়েল।
শুত্রবার ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিকে দেওয়া সাক্ষাতকারে এমনই ইঙ্গিত দিয়েছেন ভারতে নিযুক্ত ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত রিউভেন আজার।
বিজ্ঞাপন
তিনি বলেন, গাজার জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পে প্রস্তাবিত সম্ভাব্য আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী— ইন্টারন্যাশনাল স্টেবিলাইজেশন ফোর্সে (আইএসএফ) পাকিস্তানসহ বেশ কয়েকটি দেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র যোগাযোগ করেছে। তবে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর অংশগ্রহণে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছে না ইসেরায়েল।
ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, ‘এখন এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি করার চেষ্টা চলছে যেখানে আমরা এগিয়ে যেতে পারি, কিন্তু তার জন্য হামাসকে ভেঙে ফেলতে হবে। এর বাইরে যাওয়ার কোন উপায় নেই।’
তিনি বলেন, অনেক দেশ ইতিমধ্যেই ইঙ্গিত দিয়েছে তারা সেনা পাঠাতে অনিচ্ছুক কারণ তারা হামাসের বিরুদ্ধে লড়াই করার ইচ্ছা পোষণ করে না, যা বর্তমান পরিস্থিতিতে স্থিতিশীল বাহিনীর ধারণাকে অর্থহীন করে তুলেছে।
বিজ্ঞাপন
এনডিটিভি বলছে, উগ্র সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোর সঙ্গে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর যোগসূত্রের কারণে গাজায় পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ভূমিকায় ইসরায়েল কি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করবে জানতে চাইলে রাষ্ট্রদূত দৃঢ়ভাবে "না" উত্তর দেন, যা ইঙ্গিত দেয় গাজায় পাকিস্তান সেনাবাহিনীর যেকোনো ভূমিকার প্রতি ইসরায়েলের অসম্মতি।
পাকিস্তানের সম্ভাব্য ভূমিকা সম্পর্কে রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘যেকোনো দেশ সাধারণত কেবল তাদেরকেই সহযোগিতা করে যাদের তারা বিশ্বাস করে এবং যাদের সাথে তাদের যথাযথ কূটনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। এখন পরিস্থিতি এমন নয়’।
এনডিটিভির দাবি, ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূতের এই মন্তব্য করে স্পষ্ট করে যে, গাজা স্থিতিশীলকরণ ব্যবস্থায় ইসরায়েল পাকিস্তানকে বিশ্বাসযোগ্য বা গ্রহণযোগ্য অংশীদার হিসেবে দেখে না।
প্রসঙ্গত, যুক্তরাষ্ট্রের তত্ত্বাবধানে গত অক্টোবরে শুরু হওয়া গাজা যুদ্ধবিরতি চুক্তির ২০ দফা পরিকল্পনার অন্যতম প্রধান দিক হলো মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোর সেনা নিয়ে গঠিত এই আন্তর্জাতিক বাহিনী।
ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্সে (আইএসএফ) নামে বাহিনীর দায়িত্বের মধ্যে গাজার অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বজায় রাখা, হামাসকে নিরস্ত্র করা, সীমান্ত পারাপার নিয়ন্ত্রণ করা এবং একটি অন্তর্বর্তীকালীন ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে মানবিক ত্রাণ ও পুনর্গঠন কার্যক্রম পরিচালনা করার মতো বিষয়গুলো থাকবে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন গাজায় মার্কিন সেনা না পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিলেও পাকিস্তান, ইন্দোনেশিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মিসর, কাতার, তুরস্ক ও আজারবাইজানসহ কয়েকটি দেশের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। যাতে তারা এই বহুজাতিক বাহিনীতে অংশ নেয়।
সূত্র: এনডিটিভি
এমএইচআর

