কয়লা পাচার মামলার তদন্তে পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতাসীন দল তৃণমূল কংগ্রেসের নির্বাচনী পরামর্শদাতা হিসেবে কাজ করে প্রতিষ্ঠান— আইপ্যাক-এর অফিস এবং কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে অভিযান চালিয়েছে ভারতের এনফোর্সমেন্ট ডাইরেক্টরেট (ইডি)। তবে এই অভিযানে বাধা দেওয়া অভিযোগ উঠেছে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে।
জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকাল সাতটার দিকে আইপ্যাকের কর্ণধার প্রতীকের কলকাতার লাউডন স্ট্রিটের বাড়িতে অভিযান চালায় ইডি। অন্যদিকে সল্টলেকের সেক্টর ফাইভ-এর গোদরেজ ওয়াটারসাইড ভবনে ১২ তলায় আইপ্যাকের কলকাতার অফিসে যায় ইডির আর একটি দল। সকাল সাতটার পর থেকে সেখানেও শুরু হয় তল্লাশি।
বিজ্ঞাপন
মূলত, কয়লা পাচার মামলায় পশ্চিমবঙ্গ ও দিল্লিসহ ১০টি জায়গায় এদিন একযোগে তল্লাশি চালাচ্ছে ভারতের এই কেন্দ্রীয় সংস্থা। এর মধ্যে পশ্চিমবঙ্গে ছটি জায়গা ও চারটি স্থান রয়েছে।
তবে প্রতীকের বাড়িতে চার ঘণ্টা তল্লাশি চলার পরে এই ঘটনায় নাটকীয় মোড় তৈরি হয়। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কলকাতার পুলিশ কমিশনার মনোজ বর্মা লাউডন স্ট্রিটে স্ট্রিটে প্রতীকের বাড়িতে যান। তার মিনিট দশেকের মধ্যে সেখানে উপস্থিত হন মুখ্যমন্ত্রী মমতা। ২০-২৫ পরে বেরিয়ে আসেন তিনি। সেই সময়ে তার হাতে ছিল একটি সবুজ রঙের ফোল্ডার, যার ভিতরে একগুচ্ছ নথি। সেই সঙ্গে তার হাতে ছিল একটি ল্যাপটপ।
এখান থেকে সরাসরি সল্টলেকে চলে যান মমতা। দুপুর পৌনে একটা নাগাদ তিনি ঢোকেন আইপ্যাকের অফিসে। সেই তার সঙ্গে ছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী সুজিত বসু, বিধাননগর পুরসভার চেয়ারম্যান সব্যসাচী দত্ত।
প্রায় ৪৫ মিনিট পরে আইপ্যাকের অফিস থেকে নীচে নেমে বিজেপি ও কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ ঝাড়েন মমতা।
বিজ্ঞাপন
তিনি অভিযোগ করেন, ‘আমাদের আইটি অফিসে এসেছে যখন কেউ ছিলেন না। কম্পিউটার থেকে সব তথ্য বার করে নেওয়া হয়েছে। আমাদের দলের নীতি সংক্রান্ত নথি, প্রার্থী তালিকা, বুথ প্রেসিডেন্টদের তালিকা, আমাদের আগামী দিনের রণকৌশল সংক্রান্ত সব তথ্য ফরেনসিকের মাধ্যমে ট্রান্সফার করে নেওয়া হয়েছে। প্রতীকের বাড়িতে এবং আইপ্যাকের অফিস, দুটি জায়গাতেই এটা করা হয়েছে। এটা একটা অপরাধ। আমরা এফআইআর করব।’
মমতা আরও বলেন, ‘আইপ্যাক নিছক একটা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান নয়, তারা তৃণমূল কংগ্রেসের অথরাইজড টিম। সব তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থা বিভিন্ন কোম্পানির হয়ে কাজ করে। তার মানে কেন্দ্রীয় সংস্থা কি যে কোনো সময় যে কোনো তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থায় অভিযান চালিয়ে তথ্য বাজেয়াপ্ত করে নেবে? এটা কি অপরাধ নয়? এটা গণতন্ত্র ও স্বাধীনতার হত্যা।’
এদিকে, ইডি অভিযানের মধ্যে মুখ্যমন্ত্রী মমতার সেই জায়গায় যাওয়াকে সমালোচনা করেছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা ও পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির প্রধান শুভেন্দু অধিকারী। তার অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রী কেন্দ্রীয় সংস্থার কাজে হস্তক্ষেপ করেছেন।
শুভেন্দু বলেন, ‘মুখ্যমন্ত্রী যা করেছেন, সেটা সাংবিধানিক কাজে হস্তক্ষেপ এবং বাধাদান। এই কাজকে নিন্দা জানাই। তিনি একজন মুখ্যমন্ত্রী, তিনি শুধু রাজনৈতিক নেতানেত্রী নন, প্রশাসনিক কর্ত্রীও। ইডির উচিত তাদের ক্ষমতাবলে মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া। সিপি ও মুখ্যমন্ত্রীর যাওয়াকে অসাংবিধানিক ও অনৈতিক বলে মনে করি।’
অন্যদিকে বৃহস্পতিবারের ঘটনা সম্পর্কে বিবৃতি দিয়ে ইডি জানিয়েছে, রাজ্যে আসন্ন নির্বাচনের সঙ্গে এই অভিযানের কোনো সম্পর্ক নেই। পুরোনো মামলার তদন্তেই এই অভিযান। অভিযান চলাকালীন ফাইল ছিনিয়ে নেওয়া ‘ক্ষমতার অপব্যবহার’।
এছাড়াও আজকের ঘটনা নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে ইডি। বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ মামলার অনুমতি দিয়েছেন। শুক্রবার মামলার শুনানির সম্ভাবনা রয়েছে।
সূত্র: ডয়চে ভেলে
এমএইচআর

