ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের অভিযান ‘আন্তর্জাতিক আইনের একটি মৌলিক নীতিকে অবজ্ঞা’ বলে মন্তব্য করেছে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক অফিস (ওএইচসিএইচআর)।
জেনেভায় এক সংবাদ সম্মেলনে জাতিসংঘের মানবাধিকার হাইকমিশনার কার্যালয়ের মুখপাত্র রাভিনা শামদাসানি বলেন, ‘কোনো রাষ্ট্রের আঞ্চলিক অখণ্ডতা বা রাজনৈতিক স্বাধীনতার বিরুদ্ধে হুমকি দেওয়া বা বলপ্রয়োগ করা উচিত নয় অন্য কোনো দেশের’।
বিজ্ঞাপন
জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠকের পর ওএইচসিএইচআর এই মন্তব্য করল, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি মিত্র দেশও ট্রাম্পের সামরিক অভিযানের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। তাদের মধ্যে সবচেয়ে স্পষ্ট অবস্থান নিয়েছে ফ্রান্স।
স্থানীয় সময় সোমবার (০৫ জানুয়ারি) সকালে নিউইয়র্কে জাতসংঘের সদর দফতরে কলম্বিয়ার অনুরোধে এই বৈঠকে জাতিসংঘে ফ্রান্সের স্থায়ী উপ-প্রতিনিধি জয় ধর্মাধিকারী বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের হাতে মাদুরোর আটক ‘বিরোধ নিষ্পত্তির শান্তিপূর্ণ নীতির পরিপন্থি এবং বলপ্রয়োগ না করার নীতিরও পরিপন্থি’।
গত অক্টোবর ও ডিসেম্বর মাসেও ভেনেজুয়েলা পরিস্থিতি নিয়ে নিরাপত্তা পরিষদ দুই দফা বৈঠক করলেও সাম্প্রতিক এই অভিযানের ফলে পরিস্থিতি এখন আরও জটিল আকার ধারণ করেছে।
এদিকে টানা চতুর্থ দিনের মতো ট্রাম্পের ‘বেপরোয়া’ পদক্ষেপের বিরোধিতা পুনর্ব্যক্ত করেছে চীন। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং বলেন, ‘চীন শান্তি ও স্থিতিশীলতা যৌথভাবে বজায় রাখতে….ওই অঞ্চলের দেশগুলোর সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত’।
বিজ্ঞাপন
এরআগে জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান ও প্রেসিডেন্ট মাদুরোকে তুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনার তীব্র সমালোচনা করেছেন।
এই ঘটনাকে আন্তর্জাতিক আইনের জন্য এক বিপজ্জনক দৃষ্টান্ত হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, কোনো সার্বভৌম রাষ্ট্রে এ ধরনের হস্তক্ষেপ জাতিসংঘ সনদের মৌলিক নীতির পরিপন্থী এবং এটি বৈশ্বিক স্থিতিশীলতাকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছে।
এদিকে মাদক ও অস্ত্র চোরাচালানের মামলায় মাদুরো ও তার স্ত্রীকে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের একটি ফেডারেল আদালতে হাজির করা হয়েছে।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্থানীয় সময় সকাল ৭টার কিছু পরে ব্রুকলিনের একটি আটক কেন্দ্র থেকে মাদুরো এবং তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে সশস্ত্র পাহারায় একটি হেলিকপ্টারে তোলা হয়। সেখান থেকে তাদের ম্যানহাটনের ফেডারেল আদালতে নিয়ে যাওয়া হয়। যেখানে স্থানীয় সময় দুপুরে তারা শুনানির মুখোমুখি হন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, নিকোলাস মাদুরো একটি আন্তর্জাতিক কোকেন পাচার নেটওয়ার্ক তদারকি করতেন। অভিযোগ অনুযায়ী, এই নেটওয়ার্কটি মেক্সিকোর কুখ্যাত সিনালোয়া ও জেতাস কার্টেল, কলম্বিয়ার ফার্ক বিদ্রোহী গোষ্ঠী এবং ভেনেজুয়েলার অপরাধী চক্র ‘ট্রেন ডি আরাগুয়া’র সঙ্গে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে পরিচালিত হতো।
তবে ৬৩ বছর বয়সি মাদুরো শুরু থেকেই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। তিনি দাবি করেছেন, ভেনেজুয়েলার তেল সম্পদের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই মার্কিন সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলো তার বিরুদ্ধে বানোয়াট অভিযোগ সাজিয়েছে।
এরআগে গত শনিবার মধ্যরাতে রাজধানী কারাকাসে একটি বিশাল সামরিক অভিযান চালিয়ে মাদুরো এবং তার স্ত্রীকে আটক করে মার্কিন সন্ত্রাসবিরোধী ইউনিট ডেল্টা ফোর্স। হেলিকপ্টারে করে তাদের প্রাসাদ থেকে প্রথমে ক্যারিবিয়ান অঞ্চল অবস্থারত মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ‘ইউএসএস ইও জিমা’তে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে নিউইয়র্কে, পরে ব্রুকলিনের মেট্রোপলিটন ডিটেনশন সেন্টার রাখা হয়।
সূত্র: বিবিসি
এমএইচআর

