ভেনেজুয়েলায় প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে নাটকীয়ভাবে আটক করার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রকে নিজেদের কর্মকাণ্ডের যৌক্তিকতা ব্যাখ্যা করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার।
তিনি বলেছেন, পরিস্থিতিটি ‘জটিল’ এবং এটিকে আন্তর্জাতিক আইনের আলোকে বিচার করা প্রয়োজন। খবর সামা টিভির।
বিজ্ঞাপন
সোমবার (৫ জানুয়ালি) সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে স্টারমার ভেনেজুয়েলা নিয়ে যুক্তরাজ্যের দীর্ঘদিনের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন।
তিনি বলেন, ‘ভেনেজুয়েলায় আমাদের প্রয়োজন শান্তিপূর্ণভাবে গণতন্ত্রে রূপান্তর। সপ্তাহান্তের ঘটনার আগেও আমাদের অবস্থান এটি ছিল এবং এখনও সেটাই আছে।’
স্টারমার জোর দিয়ে বলেন, ‘সরকারগুলোর কর্মকাণ্ড বিচার করার মানদণ্ড হওয়া উচিত আন্তর্জাতিক আইন।’
তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক আইনই সেই কাঠামো, ভিত্তি বা মানদণ্ড, যার আলোকে আমরা সব সরকারের কর্মকাণ্ড মূল্যায়ন করি। আর যুক্তরাষ্ট্র যে পদক্ষেপ নিয়েছে, তার যৌক্তিকতা দেখানো যুক্তরাষ্ট্রেরই দায়িত্ব।
বিজ্ঞাপন
তিনি আরও বলেন, পরিস্থিতি এখনও পরিবর্তনশীল এবং এটি জটিল; সামনে আরও নতুন ঘটনার উদ্ভব হতে পারে। তবে, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর ভেনেজুয়েলায় মার্কিন অভিযানের সঙ্গে ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের তুলনা টানার বিরোধিতা করেছে।
প্রধানমন্ত্রীর এক মুখপাত্র বলেন, এই দুটি পরিস্থিতির মধ্যে কোনো তুলনা চলে না। তিনি রাশিয়ার পদক্ষেপকে ‘একটি সার্বভৌম ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের ওপর উসকানিবিহীন পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন’ হিসেবে বর্ণনা করেন।
যুক্তরাজ্য বারবার রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ইউক্রেন আক্রমণকে ‘অবৈধ’ বলে অভিহিত করেছে এবং রাশিয়ার ওপর নিজেদের ইতিহাসের সবচেয়ে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে বলেও জানিয়েছে।
মার্কিন পদক্ষেপের আইনি পর্যালোচনার কথা বললেও ভেনেজুয়েলায় মাদুরোর বৈধতা নিয়ে নিজেদের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে ব্রিটিশ সরকার।
স্টারমারের মুখপাত্র বলেন,‘আমরা সবসময়ই স্পষ্ট করেছি যে ভেনেজুয়েলায় মাদুরোর শাসন প্রতারণামূলক।’ তিনি দক্ষিণ আমেরিকার দেশটিতে গণতান্ত্রিক পরিবর্তনের পক্ষে যুক্তরাজ্যের সমর্থনের কথাও পুনরায় উল্লেখ করেন।
-এমএমএস

