ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান ও প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে তুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় জরুরি এই বৈঠকে বসেছে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ।
স্থানীয় সময় সোমবার (০৫ জানুয়ারি) সকালে নিউইয়র্কে জাতসংঘের সদর দফতরে এই বৈঠকটি শুরু হয়। কলম্বিয়ার অনুরোধে এই বৈঠক ডাকা হয়। এতে সমর্থন জানিয়েছে রাশিয়া ও চীন।
বিজ্ঞাপন
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, জাতিসংঘের সর্বোচ্চ ক্ষমতাধর ১৫ সদস্যবিশিষ্ট এই পরিষদের আলোচনায় মাদুরোকে গ্রেফতারে যুক্তরাষ্ট্রের চালানো অভিযানের বৈধতা খতিয়ে দেখা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এরআগে জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান ও প্রেসিডেন্ট মাদুরোকে তুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনার তীব্র সমালোচনা করেছেন।
এই ঘটনাকে আন্তর্জাতিক আইনের জন্য এক বিপজ্জনক দৃষ্টান্ত হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, কোনো সার্বভৌম রাষ্ট্রে এ ধরনের হস্তক্ষেপ জাতিসংঘ সনদের মৌলিক নীতির পরিপন্থী এবং এটি বৈশ্বিক স্থিতিশীলতাকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছে।
গত অক্টোবর ও ডিসেম্বর মাসেও ভেনেজুয়েলা পরিস্থিতি নিয়ে নিরাপত্তা পরিষদ দুই দফা বৈঠক করলেও সাম্প্রতিক এই অভিযানের ফলে পরিস্থিতি এখন আরও জটিল আকার ধারণ করেছে।
বিজ্ঞাপন
এদিকে মাদক ও অস্ত্র চোরাচালানের মামলায় মাদুরো ও তার স্ত্রীকে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের একটি ফেডারেল আদালতে হাজির করা হয়েছে।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্থানীয় সময় সকাল ৭টার কিছু পরে ব্রুকলিনের একটি আটক কেন্দ্র থেকে মাদুরো এবং তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে সশস্ত্র পাহারায় একটি হেলিকপ্টারে তোলা হয়। সেখান থেকে তাদের ম্যানহাটনের ফেডারেল আদালতে নিয়ে যাওয়া হয়। যেখানে স্থানীয় সময় দুপুরে তাদের শুনানির মুখোমুখি হতে হবে।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, নিকোলাস মাদুরো একটি আন্তর্জাতিক কোকেন পাচার নেটওয়ার্ক তদারকি করতেন। অভিযোগ অনুযায়ী, এই নেটওয়ার্কটি মেক্সিকোর কুখ্যাত সিনালোয়া ও জেতাস কার্টেল, কলম্বিয়ার ফার্ক বিদ্রোহী গোষ্ঠী এবং ভেনেজুয়েলার অপরাধী চক্র ‘ট্রেন ডি আরাগুয়া’র সঙ্গে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে পরিচালিত হতো।
তবে ৬৩ বছর বয়সি মাদুরো শুরু থেকেই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। তিনি দাবি করেছেন, ভেনেজুয়েলার তেল সম্পদের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই মার্কিন সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলো তার বিরুদ্ধে বানোয়াট অভিযোগ সাজিয়েছে।
এরআগে গত শনিবার মধ্যরাতে রাজধানী কারাকাসে একটি বিশাল সামরিক অভিযান চালিয়ে মাদুরো এবং তার স্ত্রীকে আটক করে মার্কিন সন্ত্রাসবিরোধী ইউনিট ডেল্টা ফোর্স। হেলিকপ্টারে করে তাদের প্রাসাদ থেকে প্রথমে ক্যারিবিয়ান অঞ্চল অবস্থারত মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ‘ইউএসএস ইও জিমা’তে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে নিউইয়র্কে, পরে ব্রুকলিনের মেট্রোপলিটন ডিটেনশন সেন্টার রাখা হয়।
সূত্র: বিবিসি
এমএইচআর

