মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের মাধ্যমে ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। এই ঘটনাকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন এবং অশুভ ইঙ্গিত বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
জাতিসংঘের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস সার্বিক পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছেন। ডুজারিক বলেন, ‘মার্কিন সামরিক অভিযান আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন। এ ঘটনায় মহাসচিব গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। তিনি জাতিসংঘ সনদের প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।’
বিজ্ঞাপন
মার্কিন বাহিনীর অভিযানকে অবৈধ দাবি করে রাশিয়া ও চীনের সমর্থনে ভেনিজুয়েলা এবং কলম্বিয়া জাতিসংঘের ১৫ সদস্যের নিরাপত্তা পরিষদে জরুরি বৈঠকের আহ্বান জানিয়েছে।
জাতিসংঘে নিযুক্ত ভেনিজুয়েলার রাষ্ট্রদূত স্যামুয়েল মনকাডা নিরাপত্তা পরিষদকে দেওয়া এক চিঠিতে এই আক্রমণকে বিশ্বাসঘাতকতা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘শান্তিপূর্ণ একটি দেশের ওপর মার্কিন হামলা আঞ্চলিক এবং আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।’ তিনি অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র জাতিসংঘ সনদের আইন লঙ্ঘন করেছে।
এদিকে, জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ সামাজিক মাধ্যম এক পোস্টে সামারিক অভিযানের পক্ষে সাফাই গেয়েছেন। তিনি বলেন, ‘এটি কোনো শাসন পরিবর্তন অভিযান নয়, বরং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। মাদুরো একজন স্বৈরাচারী শাসক ছিলেন। যিনি মাদক-সন্ত্রাসবাদী সংগঠন পরিচালোনা করতেন এবং অসংখ্য মার্কিন নাগরিকের মৃত্যুর জন্য দায়ী ছিলেন।’
গত কয়েক মাস ধরে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন ভেনিজুয়েলা উপকূলে মাদক পাচার বিরোধী কঠোর অবস্থান নিয়েছিল। গত মাসেই ভেনিজুয়েলার অপরিশোধিত তেলবাহী দুটি ট্যাংকার আটক করে মার্কিন বাহিনী। যদিও যুক্তরাষ্ট্র অক্টোবর মাসেই তাদের এই পদক্ষেপকে জাতিসংঘ সনদের ৫১ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আত্মরক্ষা হিসেবে বর্ণনা করেছিল।

