গাজা সংকট নিয়ে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ফেরাউনের সঙ্গে তুলনা করেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান।
গাজায় মানবিক সহায়তা দেওয়া ৩৭টি আন্তর্জাতিক সংস্থার কার্যক্রম নিষিদ্ধের সমালোচনায় শুক্রবার (২ জানুয়ারি) ইস্তাম্বুলে জুমার নামাজের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি। খবর তুর্কি সংবাদমাধ্যম ডেইলি হুরিয়েতের।
বিজ্ঞাপন
চরম দুর্যোগের মধ্যে বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) গাজায় মানবিক সহায়তা দেয়া ৩৭টি আন্তর্জাতিক সংস্থার কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে ইসরায়েল। যার মধ্যে ডক্টর্স উইদাউট বর্ডারসও রয়েছে।
ইসরায়েলি সরকারের দাবি, এসব সংস্থা ফিলিস্তিনিদের সহায়তা করার আড়ালে হামাসের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে। যদিও এ বিষয়ে কোনো প্রমাণ দেখায়নি দেশটি।
নেতানিয়াহু সরকারের এই পদক্ষেপে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও মানবাধিকার সংস্থাগুলো। ৩৭টি আন্তর্জাতিক সংস্থার লাইসেন্স বাতিলের ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছে খোদ ইসরায়েলের ১৯টি মানবাধিকার সংস্থা।
বিজ্ঞাপন
এক যৌথ বিবৃতিতে এ ধরনের পদক্ষেপ থেকে সরে আসার আহ্বান জানিয়েছে আদালাহসহ অন্য সংস্থাগুলো।
ইসরায়েলের এই পদক্ষেপের সমালোচনা করেন এরদোগানও। তিনি বলেন, গাজায় শিশুদের কান্না ও দুর্দশা বিশ্বকে নাড়া দিচ্ছে। কিন্তু তারপরেও ইসরায়েল ত্রাণ প্রবেশে বাধা দিচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, কনকনে বাতাস, বৃষ্টি এবং কাদার মধ্যে বসবাসকারী শিশুদের কান্না করা ছাড়া উপায় নেই, কেননা তাদের কাছে তাঁবু নেই।
এরদোগান বলেন, আমরা কন্টেইনার পাঠাতে চাই, কিন্তু নেতানিয়াহুর যেতে দেয় না... আজ হোক কাল হোক, আল্লাহর ইচ্ছায়, আমরা এই নির্যাতিত মানুষকে এই কষ্ট থেকে উদ্ধার করব।
বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) ফিলিস্তিনের সমর্থনে ইস্তাম্বুলের গালাতা সেতুতে অনুষ্ঠিত বিশাল সমাবেশের প্রশংসা করে তিনি বলেন, এটি প্রমাণ করে ফিলিস্তিন একা নয়। তুরস্ক ও ইসলামী বিশ্ব তাদের সব শক্তি দিয়ে গাজার পাশে থাকবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।
গাজায় ইসরায়েলি সামরিক আগ্রাসন ও গণহত্যার তীব্র সমালোচনা করে আসছে তুরস্ক। সেই সঙ্গে ২০২৩ সালের অক্টোবরে সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে দেশটি ইসরায়েলের সঙ্গে বাণিজ্য কমানোর পদক্ষেপ নিয়েছে।
গত বছরের এপ্রিল মাসে আঙ্কারা ইসরায়েলের ১ হাজারটিরও বেশি পণ্য রফতানি নিষিদ্ধ করে। পরে সব বিভাগেরই রফতানি, আমদানি এবং ট্রানজিট বাণিজ্য সম্পূর্ণ স্থগিত করে।
-এমএমএস

