শুক্রবার, ২ জানুয়ারি, ২০২৬, ঢাকা

মার্কিন নাগরিকদের ভিসা নিষেধাজ্ঞা দিচ্ছে আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০১ জানুয়ারি ২০২৬, ০৮:৩৫ পিএম

শেয়ার করুন:

মার্কিন নাগরিকদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দিচ্ছে আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ!

মার্কিন নাগরিকদের জন্য সম্পূর্ণ ভিসা নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দিয়েছে পশ্চিম আফ্রিকার দুই দেশ মালি ও বুরকিনা ফাসো। চলতি মাসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দেশগুলোর নাগরিকদের ওপর ভিসা নিষেধাজ্ঞা পাল্ট প্রতিক্রিয়া হিসেবে এমন পদক্ষেপ নিল দেশগুলো। 

মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সর্বশেষ ‘পাল্টাপাল্টি’ ভিসা নিষেধাজ্ঞা জারি করা আফ্রিকান দেশের তালিকায় যুক্ত হয়েছে দেশ দুটি।


বিজ্ঞাপন


মালির পররাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বিষয়ক মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, পারস্পরিকতার নীতির সঙ্গে সঙ্গতি রেখে পররাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা মন্ত্রণালয় জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে জানাচ্ছে, মালি প্রজাতন্ত্র সরকার তাৎক্ষণিকভাবে মার্কিন নাগরিকদের ওপর একই শর্ত ও বিধান প্রয়োগ করবে, যা মালির নাগরিকদের ওপর আরোপ করা হয়েছে।

বুরকিনা ফাসোর পররাষ্ট্রমন্ত্রী কারামোকো জ্যাঁ-মারি ত্রাওরে পৃথক এক বিবৃতিতে দেশটির নাগরিকদের ওপর আরোপিত মার্কিন ভিসা নিষেধাজ্ঞার জবাবে একই পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। 

মূলত, গত ১৬ ডিসেম্বরের মাঝামাঝি যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি বিবেচনায় আফ্রিকা, এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য ও লাতিন আমেরিকার ৩৯টি দেশের ওপর ভিসা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন ভিসা নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। ওই তালিকায় মালি ও বুরকিনা ফাসোররাগরিকদেরও নাম রয়েছে। 

যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের জন্য ভিসা নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে কোন কোন দেশ?

গত ১৬ ডিসেম্বর জারি করা যুক্তরাষ্ট্রের নির্দেশনায় মালি ও বুরকিনা ফাসোর বাইরে আরও পাঁচটি দেশের নাগরিকদের ওপর পূর্ণ ভিসা নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। তালিকায় রয়েছে— লাওস, নাইজার, সিয়েরা লিওন, দক্ষিণ সুদান ও সিরিয়া। এছাড়াও ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের ইস্যু করা ভ্রমণ নথিধারীদেরও যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। 

ওয়াশিংটন বলেছে, সংশ্লিষ্ট সব দেশের দুর্বল তল্লাশি ও যাচাই ব্যবস্থা, তথ্য আদান-প্রদানের সীমিত নীতি, ভিসার মেয়াদ অতিক্রমের উচ্চ হার ও বহিষ্কৃত নাগরিকদের ফিরিয়ে নিতে অস্বীকৃতি জানানোর কারণে এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

ট্রাম্পের আদেশে বলা হয়েছে, কোনও দেশে ‌‌উল্লেখযোগ্য সন্ত্রাসী উপস্থিতি রয়েছে কি না, নিষেধাজ্ঞা আরোপের ক্ষেত্রে সেটিও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। 

২০২৬ সালের প্রথম দিন অথাৎ আজ বৃহস্পতিবার থেকেই কার্যকর হচ্ছে এই মার্কিন নিষেধাজ্ঞা।

মালি, বুরকিনা ফাসো ও প্রতিবেশী নাইজার বহু বছর ধরে আল-কায়েদা ও আইএসের অনুসারী সংশ্লিষ্ট সশস্ত্র বিভিন্ন গোষ্ঠীর সহিংসতায় জর্জরিত। সহিংসতায় এসব দেশে লাখ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।

এদিকে গত শুক্রবার পশ্চিম আফ্রিকার দেশ নাইজারও তাদের নাগরিকদের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার কথা উল্লেখ করে মার্কিন নাগরিকদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছে। দেশটি মালির ও বুরকিনা ফাসোর মতোই সামরিক শাসনের অধীনে রয়েছে। তিন দেশ মিলে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে নিরাপত্তা সমস্যা মোকাবিলা ও বাণিজ্য সম্পর্ক উন্নয়নের লক্ষ্যে ‘অ্যালায়েন্স অব সাহেল স্টেটস’ গঠন করে।

এরআগে গত ৬ জুন থেকে মার্কিন নাগরিকদের ভিসা দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে মধ্য আফ্রিকার স্থলবেষ্টিত দেশ চাদ। যদিও মার্কিন কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে ছাড় রেখেছে দেশটি। গত বছরের ৯ জুনের আগে যেসব মার্কিন নাগরিক ভিসা পেয়েছিলেন, কেবল তারাই এখন চাদে প্রবেশ করতে পারবেন।

চাদ ছিল ১২টি দেশের প্রাথমিক তালিকায়, যাদের নাগরিকদের ওপর ট্রাম্প প্রশাসন গত ৯ জুন থেকে পূর্ণ ভিসা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নিষেধাজ্ঞায় কোন কোন দেশ প্রভাবিত?

যুক্তরাষ্ট্র-ভিত্তিক থিঙ্কট্যাংক প্রতিষ্ঠান কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনসের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ৩৯টি দেশের নাগরিক যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে পূর্ণ কিংবা আংশিক নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে।

যাদের ওপর পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা রয়েছে: আফগানিস্তান, বুরকিনা ফাসো, চাদ, ইকুয়েটোরিয়াল গিনি, ইরিত্রিয়া, হাইতি, ইরান, লাওস, লিবিয়া, মালি, মিয়ানমার, নাইজার, কঙ্গো প্রজাতন্ত্র, সিয়েরা লিওন, সোমালিয়া, দক্ষিণ সুদান, সুদান, সিরিয়া, ইয়েমেন এবং ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের ইস্যু করা ভ্রমণ নথির অধিকারীরাও পুরোপুরি নিষিদ্ধ।

যাদের ওপর আংশিক নিষেধাজ্ঞা রয়েছে: অ্যাঙ্গোলা, অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডা, বেনিন, বুরুন্ডি, কিউবা, ডোমিনিকা, গ্যাবন, গাম্বিয়া, আইভরি কোস্ট, মালাউই, মৌরিতানিয়া, নাইজেরিয়া, সেনেগাল, তানজানিয়া, টোগো, টোঙ্গা, তুর্কমেনিস্তান, ভেনেজুয়েলা, জাম্বিয়া, জিম্বাবুয়ে। 

ট্রাম্প কি নির্দিষ্টভাবে আফ্রিকান দেশগুলোর ওপর ভিসা নিষেধাজ্ঞা দিচ্ছেন?

মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসা ডোনাল্ড ট্রাম্পের আফ্রিকার প্রতি ভিসা সংক্রান্ত দৃষ্টিভঙ্গি অনেকটাই তার প্রথম প্রশাসনের মতো। সে সময় তিনি মুসলিমদের ওপর ভিসা নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিলেন, যার আওতায় সোমালিয়া, সুদান ও লিবিয়ার পাশাপাশি ইয়েমেন, সিরিয়া, ইরাক ও ইরানও ছিল।

পরবর্তীতে এই তালিকায় সংশোধনী আনে ওয়াশিংটন। ওই সময় সুদানকে তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হলেও চাদকে যুক্ত করা হয়।

দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর থেকে যেসব দেশের ওপর যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপ হয়েছে, তার অধিকাংশই আফ্রিকার। নতুন ভিসা নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়া ৩৯টি দেশের মধ্যে ২৬টিই আফ্রিকান।

সূত্র: আল জাজিরা

এমএইচআর

 

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর