শুক্রবার, ২ জানুয়ারি, ২০২৬, ঢাকা

নববর্ষে ফিলিস্তিনের সমর্থনে ইস্তাম্বুলে ৫ লাখ মানুষের সমাবেশ

প্রকাশিত: ০১ জানুয়ারি ২০২৬, ০৬:৪৭ পিএম

শেয়ার করুন:

নববর্ষে ফিলিস্তিনের সমর্থনে ইস্তাম্বুলে ৫ লাখ মানুষের সমাবেশ

ফিলিস্তিনের প্রতি সংহতি জানিয়ে তুরস্কের ইস্তাম্বুল শহরের বিখ্যাত গালাতা সেতুতে বিশাল সমাবেশ করেছেন পাঁচ লাখ ২০ হাজোরেরও বেশি মানুষ। বৃহস্পতিবার (০১ জানুয়ারি) নববর্ষের প্রথম দিনে তুর্কি যুব ফাউন্ডেশনের (টিউজিভিএ) নেতৃত্বে ৪০০টির মানবাধিকার সংগঠনের জোট ‘ন্যাশনাল উইল প্ল্যাটফর্ম’ এ সমাবেশের আয়োজন করে।

‘আমরা ভয় পাবো না, আমরা চুপ করে থাকবো না, আমরা ফিলিস্তিনকে ভুলবো না’ এই স্লোগানের অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে অংশগ্রহণকারীরা গাজায় গণহত্যা বন্ধের আহ্বান জানান। 


বিজ্ঞাপন


তুর্কি বাতা সংস্থা আনাদোলু জানিয়েছে, শহরের ঐতিহাসিক মসজিদগুলো- যার মধ্যে রয়েছে আয়াসোফিয়া গ্র্যান্ড মসজিদ, সুলতানাহমেত, ফাতিহ, সুলেমানিয়ে এবং এমিনোনু নতুন মসজিদ থেকে ফজরের নামাজ পরে তুর্কি ও ফিলিস্তিনি পতাকা হাতে জড়ো হন বৃদ্ধ, নারী ও শিশুসহ লাখ লাখ মানুষ।

হিমশীতল তাপমাত্রা সত্ত্বেও পায়ে হেঁটে আইকনিক গোল্ডেন হর্নজুড়ে বিস্তৃত গালাতা সেতুর দিকে রওনা হন তারা। এসময় তাদের সঙ্গে ছিলেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ ত্যায়েফ এরদোয়ান সরকারের বেশ কয়েকজন মন্ত্রী, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং সরকারি প্রোটোকল অনুসারে তালিকাভুক্ত ব্যক্তিবর্গ।

স্থানীয় সময় সকাল ৮টা ৩০ মিনিটে আনুষ্ঠানিকভাবে সমাবেশটি শুরু হয়। সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে টিউজিভিএ-এর চেয়ারম্যান ইব্রাহিম বেসিনচি বলেন, এই সমাবেশে সাধারণ মানুষের উপস্থিতির এই পরিমাণ ফিলিস্তিনে চলমান সহিংসতার বিরুদ্ধে একটি সম্মিলিত নৈতিক অবস্থানের প্রতিফলন ঘটায়।

তিনি বলেন, ‘আজ, এখানে লাখ লাখ মানুষ আছে, যারা গাজায় গণহত্যার বিরুদ্ধে একটি সম্মানিত জাতি হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।’ 


বিজ্ঞাপন


গালাতা সেতুকে ‘বিবেকের শ্রদ্ধাঞ্জলি’ হিসেবে বর্ণনা করে বেসিনসি বলেন, এটি বিভিন্ন শহর, ভাষা এবং জীবনের বিভিন্ন স্তরের মানুষের জন্য একটি নৈতিক প্ল্যাটফর্মে রূপান্তরিত হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ‘এই সমাবেশের পক্ষ থেকে আমি আমার সমস্ত হৃদয় দিয়ে নিরীহ ও সাহসী ফিলিস্তিনি জনগণ, গাজার মহান সন্তান, পশ্চিম তীরের দৃঢ় হৃদয় এবং পূর্ব জেরুজালেমের প্রকৃত মালিকদের প্রতি সালাম জানাই।’ 

সমাবেশে ইলিম ইয়াইমা ফাউন্ডেশনের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান বিলাল এরদোগান গাজায় ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডের নিন্দা জানান। তিনি শিশু, শিশু, নারী, বৃদ্ধ, চিকিৎসক, সাংবাদিক ও ত্রাণকর্মীদের হত্যার পাশাপাশি স্কুল, মসজিদ ও গির্জায় ইসরায়েলের হত্যার কথা স্মরণ করেন।

তিনি বলেন, ‘সমাবেশের প্রতি বছর আগের বছরের তুলনায় অধিক মানুষের সমাগম দেখে আমরা অনুভব করি, একটি জাতি হিসেবে আমাদের সাধারণ ভিত্তি সত্যিই কতটা শক্তিশালী।’

এছাড়াও বেশ কয়েকজন তুর্কি নাগরিক, বিদেশি সংগঠনের সদস্য এবং মানবাধিকার কর্মীরা বক্তব্য দেন। পরে লেবানিজ-সুইডিশ গায়িকা মাহের জেইন, তুর্কি শিল্পী এসাত কাবাকলি এবং ব্যান্ড গ্রুপ ইউরুয়ুস-সহ আন্তর্জাতিকভাবে খ্যাতিসম্পন্ন শিল্পী ও সঙ্গীতজ্ঞদের পরিবেশনা উপভোগ করেন বিক্ষোভকারীরা।

উল্লেখ্য, গত বছরও নববর্ষের প্রথম দিনে গালাতা সেতুতে ফিলিস্তিনের সমর্থনে সমাবেশ করেছিলেন সাড়ে চার লাখেরও বেশি মানুষ।


সূত্র: আনাদোলু, টিআরটি

এমএইচআর

 

 

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর