বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এসে ঢাকায় সাক্ষাৎ করেছেন পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের স্পিকার আয়াজ সাদিক এবং ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। চলতি বছরের মে মাসে পাকিস্তান ও ভারত চার দিনে তীব্র সংঘর্ষে পর এই প্রথম শীর্ষ পর্যায়ের নেতৃবৃন্দের মধ্যে এই ধরনের সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হলো।
খালেদা জিয়ার জানাজা-দাফন শেষে পাকিস্তানে ফিরে জয়শঙ্করের সঙ্গে ঢাকায় সাক্ষাৎ ও আলাপচারিতা সম্পর্কে পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম জিও টিভির এক টকশোতে কথা বলেছেন আয়াজ আজিজ।
বিজ্ঞাপন
বুধবার জিও টিভির টকশো ‘আজ শাহজাইব খানজাদা কে সাথ’ অনুষ্ঠানে পাকিস্তানের স্পিকার বলেছেন, ‘বিএনপি চেয়ারপারসনের জানাজা উপলক্ষে আমরা যারা পাকিস্তান, ভারত, নেপাল, ভুটান, মালদ্বীপ থেকে বাংলাদেশে গিয়েছিলাম, ঢাকায় পৌঁছানোর পর প্রথম দিকে আমরা সবাই জড়ো হয়েছিলাম বাংলাদেশের পার্লামেন্ট ভবনের অভ্যর্থনা কক্ষে। সেখানেই এস. জয়শঙ্কর এবং তার নেতৃত্বাধীন ভারতীয় প্রতিনিধি দলের সঙ্গে সাক্ষাৎ ঘটে আমাদের।”
আয়াজ আজিজ বলেন, “অভ্যর্থনা কক্ষে আমি বাংলাদেশে নিযুক্ত পাকিস্তানি হাইকমিশনারের সঙ্গে কথা বলছিলাম, সে সময় জয়শঙ্কর এগিয়ে এলেন, স্বাগত জানালেন এবং নিজের পরিচয় দিলেন। এর পর আমি যখন নিজের পরিচয় দিতে গেলাম, তিনি বলেন, ‘আমি আপনাকে চিনি জনাব, পরিচয় দেওয়ার প্রয়োজন নেই’।”
সাক্ষাৎকারে সরদার আয়াজ জানান, যখন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তার সঙ্গে হাত মেলানোর জন্য এগিয়ে আসেন— সে সময় বিভিন্ন দেশি-বিদেশি সংবাদমাধ্যমের ক্যামেরা ও সাংবাদিকরা ব্যাপকমাত্রায় ‘সচেতন’ হয়ে ওঠেন জয়শঙ্কর এ ব্যাপারে সম্পূর্ণ ওয়াকিবহাল ছিলেন বলে তার মনে হয়েছে।
পাকিস্তানের স্পিকারের কথায়, ‘তিনি (জয়শঙ্কর) খুব ভালোভাবেই জানতেন যে তিনি যা যা করছেন, সবই মিডিয়ার লোকজন রেকর্ড করছে। তিনি সেভাবেই আমার সঙ্গে কথা বলেছেন।’
বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশে উষ্ণ অভ্যর্থনা
বাংলাদেশ সফরের সময় তিনি উৎসাহী ও উষ্ণ অভ্যর্থনা পেয়েছিলেন বলেও জানান সাদিক। তিনি বলেন, তাকে দেখে বাংলাদেশে জনগণ ‘পাকিস্তান জিন্দাবাদ’ এবং ‘আমি পাকিস্তানকে ভালোবাসি স্লোগান দিয়েছিল।
সরদার আয়াজ বলেন, তিনি যে গাড়িতে ভ্রমণ করছিলেন তাতে পাকিস্তানের পতাকা ছিল, যার ফলে পথের দাঁড়িয়ে থাকা লোকজন পতাকাটি চিনতে পেরে হাত নাড়ান। এসময় অনেকেই তাকে হাত মেলানোর এবং অভিবাদন জানানোর চেষ্টা করেছিলেন, যদিও তারা তাকে ব্যক্তিগতভাবে চিনতেন না, কিন্তু তারা জানতেন যে তিনি পাকিস্তানের প্রতিনিধিত্ব করছেন।
বাংলাদেশে জনগণের এই সংবর্ধনাকে ‘অসাধারণভাবে উৎসাহী’ বলে অভিহিত করেছেন তিনি।
সূত্র: জিও টিভি
এমএইচআর

