বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২৬, ঢাকা

গৃহযুদ্ধের মধ্যে মিয়ানমারে বিতর্কিত ভোটগ্রহণ শুরু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৯:১৬ এএম

শেয়ার করুন:

গৃহযুদ্ধের মধ্যে মিয়ানমারে বিতর্কিত ভোটগ্রহণ শুরু

২০২১ সালে নোবেল বিজয়ী অং সান সুচির নির্বাচিত সরকারকে উৎখাতের পাঁচ বছর পর মিয়ানমারে প্রথম সাধারণ নির্বাচন শুরু হয়েছে। দেশজুড়ে চলমান গৃহযুদ্ধ এবং আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীর সংঘর্ষের মধ্যেই দেশটির কিছু অংশের ভোটাররা রোববার ভোট দিচ্ছেন।

নির্বাচনে ভোটগ্রহণ হবে তিন ধাপে। প্রথম ধাপের ভোটগ্রহণ হচ্ছে আজ। দ্বিতীয় ধাপ ১১ জানুয়ারি আর তৃতীয় ধাপ ২৫ জানুয়ারি। জানুয়ারির শেষে ফল ঘোষণা করা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


বিজ্ঞাপন


মিয়ানমারের মোট ৩৩০টি নির্বাচনী এলাকার মধ্যে ২৬৩ এলাকায় নির্বাচন হবে। শুধু সেনানিয়ন্ত্রিত এলাকায়গুলোতেই নির্বাচন হচ্ছে। অন্যান্য এলাকা সশস্ত্র বিদ্রোহীদের দখলে রয়েছে।

মিয়ানমারের সাধারণত বহু মানুষের মতো বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলো নির্বাচন চায় না। ২০২১ সালে নোবেলজয়ী অং সান সু চির দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসিকে ক্ষমতাচ্যুত করে জান্তা ক্ষমতায় এসেছিল। ওই দলটিও নির্বাচনে অংশ নিতে পারছে না। সরকারবিরোধী অনেক দলও নির্বাচনের মাঠে নেই। যে কটি দল নির্বাচন করছে, তার অনেকগুলোই সেনাসমর্থিত।

৬৫টি থানায় ভোটগ্রহণ বাতিল করা হয়েছে, যা দেশটির অন্তত ২০ শতাংশ মানুষের ভোটাধিকারের বাইরে থাকার সমতুল্য।

ইয়াঙ্গুনে ভোটকেন্দ্র সকাল ৬টায় খোলা হয়। সেখানে মধ্যবয়স্ক, যুবকদের ভোটের লাইনে অপেক্ষা করতে দেখা যায়নি। ব্যালটে খুব কম বিকল্প রয়েছে, বেশিরভাগই সেনা-সমর্থক দল।


বিজ্ঞাপন


জাতিসংঘ, পশ্চিমা দেশ ও মানবাধিকার সংস্থাগুলো নির্বাচনের সমালোচনা করেছে। বিরোধী দলগুলো অংশ নিতে পারছে না। দেশটির প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অং সান সুচি এখনো বন্দি, এবং তার দল ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডি) বিলুপ্ত।

সেনা সমর্থক ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি প্রাধান্য পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সেনা ভোটকে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পুনরায় শুরু হিসেবে দেখাচ্ছে। সিনিয়র জেনারেল মিন আং হ্লাইং এটিকে ‘শান্তি ও অর্থনীতি পুনর্গঠনের পথ’ হিসেবে তুলে ধরেছেন।

জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান ভোলকার তুর্ক বলেন, ‘দেশে স্বাধীন মতপ্রকাশ, সমিতি গঠন বা শান্তিপূর্ণ সমাবেশের কোনো পরিস্থিতি নেই, যা জনগণকে মুক্তভাবে অংশগ্রহণের সুযোগ দেবে না।’

২০২১ সালের সেনা অভ্যুত্থানের পর মিয়ানমারে গৃহযুদ্ধে প্রায় ৯০ হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন, ৩.৫ মিলিয়ন বাস্তুচ্যুত হয়েছে, আর প্রায় ২২ মিলিয়ন মানুষ মানবিক সহায়তার প্রয়োজনীয়তার মধ্যে রয়েছে।

অ্যাসিস্ট্যান্স অ্যাসোসিয়েশন ফর পলিটিকাল প্রিজনার্স জানিয়েছে, বর্তমানে ২২ হাজারের বেশি মানুষ রাজনৈতিক অপরাধে আটক।

ইয়াঙ্গুনে ভোটকেন্দ্র ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। এবার প্রথমবার ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন ব্যবহার হচ্ছে, যা লিখিত প্রার্থী বা অবৈধ ব্যালট গ্রহণ করবে না।

ভোটার ৪৫ বছর বয়সী সোয়ে মাও বলেন, ‘আন্তর্জাতিক সমালোচনা গুরুত্বের নয়।’ কিন্তু ৪০ বছর বয়সী মোয়ে মোয়ে মিয়িন্ট বলেছেন, ‘এই সেনা-পরিচালিত নির্বাচন কখনো মুক্ত ও ন্যায়সঙ্গত হতে পারে না। আমরা জঙ্গলে লুকিয়ে জীবনযাপন করছি।’

এমআর

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর