পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ খাইবার পাখতুনখোয়ার ডেরা ইসমাইল খানে পুলিশের গাড়ি লক্ষ্য করে ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (আইইডি) বিস্ফোরণে একজন সহকারী সাব-ইন্সপেক্টরসহ (এএসআই) তিন পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছেন।
জেলা পুলিশের মুখপাত্র ইয়াকুব জুলকারনাইন বলেন, শহীদ নবাব খান থানার আওতাধীন পানিয়ালা এলাকায় এই বিস্ফোরণ ঘটে। এতে এএসআই গুল আলম, কনস্টেবল রফিক এবং মোবাইল ভ্যানের চালক সখি জান এই ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন। তাদের সাথে থাকা আরেক কনস্টেবল আজাদ শাহ সামান্য আহত রয়েছেন।
বিজ্ঞাপন
তিনি আরও বলেন, ঘটনাস্থলটি ঘিরে ফেলা হয়েছে এবং তল্লাশি অভিযান শুরু করা হয়েছে। ঘটনার পর পানিয়ালার ডেপুটি সুপারিনটেনডেন্ট অফ পুলিশ এবং স্টেশন হাউস অফিসার, সেইসাথে জেলা পুলিশ কর্মকর্তা (ডিপিও)ও বিস্ফোরণস্থলে পৌঁছেছেন।
পৃথকভাবে ডেরা ইসমাইল খানের ডিপিও সাজ্জাদ আহমেদ সাহেবজাদার কার্যালয় থেকে জারি করা এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘অজ্ঞাত সন্ত্রাসীরা’ এই কাপুরুষোচিত হামলা চালিয়েছে। এই ধরনের কর্মকাণ্ড পুলিশের মনোবলকে দুর্বল করতে পারে না।
দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম এপিপি জানিয়েছে, খাইবার পাখতুনখোয়ার মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদি এই বিস্ফোরণের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং হামলায় তিন পুলিশ সদস্যের শহীদ হওয়ার জন্য গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন।
রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারক রেডিও পাকিস্তান জানিয়েছে, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফও এই হামলার নিন্দা জানিয়েছেন এবং তিন পুলিশ সদস্যের শহীদ হওয়ার জন্য ‘গভীর দুঃখ ও শোক’ প্রকাশ করেছেন।
বিজ্ঞাপন
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী শহীদদের জন্য প্রার্থনা করেছেন এবং তাদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে এই ঘটনার জন্য দায়ীদের চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনার নির্দেশ দিয়েছেন।
প্রসঙ্গত, আফগান তালেবানের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত পাকিস্তানি ইসলামপন্থী জঙ্গি গোষ্ঠী তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি)-এর বিরুদ্ধে ব্যাপক অভিযান শুরু করেছে পাকিস্তানের সরকার। ২০২২ সালের শেষের দিকে টিটিপি পাকিস্তান সরকারের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি প্রত্যাহার করার পর থেকে হামলা আরও তীব্র হয়েছে। বিশেষ করে খাইবার-পাখতুনখোয়া এবং বেলুচিস্তানে তাদের সন্ত্রাসী কার্যকলাপ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং পুলিশ ও সামরিক বাহিনী সদস্যরা তাদের ধারাবাহিক হামলার শিকার হয়েছে।
সবশেষ গত ২০ নভেম্বর ডেরা ইসমাইল খানে একটি পুলিশের টহল গাড়িতে কোমা হামলার ঘটনায় দুই পুলিশ সদস্য নিহত এবং চারজন আহত হন। এরআগে গত অক্টোবরে, সন্ত্রাসীরা ডেরা ইসমাইল খানের পুলিশ ট্রেনিং স্কুলেও আক্রমণ করে। সন্ত্রাসী হামলায় প্রশিক্ষণার্থীসহ ছয় পুলিশ সদস্য শহীদ হন এবং ১২ জন পুলিশ সদস্য এবং একজন বেসামরিক নাগরিকসহ ১৩ জন আহত হন।
সূত্র: ডন
এমএইচআর

