৬ সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ দরে পৌঁছানোর বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম কিছুটা কমেছে। মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের লভ্যাংশ বাড়া এবং বিনিয়োগকারীদের মুনাফা তুলে নেওয়ার প্রবণতায় মূল্যবান এই ধাতুটির দামে নিম্নমুখিতা দেখা গেছে। একই সঙ্গে রেকর্ড ছোঁয়া রূপার দামও কমেছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুসারে, মঙ্গলবার (০২ ডিসেম্বর) সকাল ৯টা ১৭ মিনিটে (জিএমটি) স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম প্রতি আউন্সে ০ দশমিক ৭ শতাংশ কমে ৪ হাজার ২০৩ দশমিক ৫৫ ডলারে দাঁড়িয়েছে। যদিও গতকাল সেমাবার প্রতি আউন্স স্বর্ণ ৪ হাজার ২৫৫ দশমিক ৯৮ ডলারে পৌঁছায়, যা গত ২১ অক্টোবরের পর সর্বোচ্চ।
বিজ্ঞাপন
একই সময়ে ডিসেম্বর ডেলিভারির জন্য মার্কিন স্বর্ণের ফিউচার গোল্ডের দাম আউন্সপ্রতি ০ দশমিক ৯ শতাংশ কমে ৪ হাজার ২৩৪ দশমিক ৪০ ডলারে লেনদেন হয়েছে।
আরও পড়ুন
এরআগে গত ২০ অক্টোবর স্বণের দাম সর্বকালের সর্বোচ্চ ৪ হাজার ৩৮১ দশমিক ২১ ডলারে পৌঁছায়, এতে চলতি বছর মূলবান এই ধাতুর মূল্য ৫৩ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পায়। তবে মার্কিন ডলারের শক্তিশালী হওয়া ও যুক্তরাষ্ট্র–চীন বাণিজ্য উত্তেজনা কিছুটা প্রশমিত হওয়ায় কমতে থাকে স্বর্ণের দাম।
বিশ্লেষকরা বলছেন, গত দুই সপ্তাহে সুদের হার কমানোর প্রত্যাশায় যেকোনো মার্কিন অর্থনৈতিক তথ্য খুব সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে বিনিয়োগকারী। কারণ ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার নীতি কোনদিকে যাবে—তা বুঝতে চলতি সপ্তাহের গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক সূচকের অপেক্ষায় আছেন। সুদের হার কমলে স্বর্ণের মতো সুদবিহীন সম্পদের চাহিদা বাড়ে।
বিজ্ঞাপন
যদিও সাম্প্রতিক কয়েক সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কিছু দুর্বল অর্থনৈতিক ডেটা এবং ফেড কর্মকর্তাদের নরম মন্তব্যের পর ডিসেম্বরের সুদ কমানোর সম্ভাবনা আরও জোরালো হয়েছে।
সিএমই ফেডওয়াচ টুল অনুসারে, বিনিয়োগকারীরা এখন ডিসেম্বরে ফেডের সুদের হার কমানোর সম্ভাবনা ৮৭ শতাংশ হিসেবে দেখছেন, যা গত সপ্তাহে ছিল ৪০ শতাংশ।
এছাড়াও নভেম্বরের শুরু প্রকাশিত মার্কিন অর্থনৈতিক তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্রে চাকরির সংখ্যা হ্রাস পেয়েছে, বিশেষ করে সরকারি ও খুচরা খাতে। এছাড়া খরচ কমানো এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) প্রসারে চাকরি ছাঁটাই বেড়েছে। এছাড়াও দীর্ঘতম সরকারি শাটডাউন এর প্রভাবে ভোক্তা আস্থা প্রায় তিন-দেড় বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে।
অপরদিকে সোমবার স্পট সিলভার সর্বকালের সর্বোচ্চ— প্রতি আউন্স ৫৭ দশমিক ৮৬ ডলারে পৌঁছানোর পর আজ ১ দশমিক ৬ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৫৭ দশমিক ০১ ডলারে বিক্রি হচ্ছে। তবে চলতি বছর রুপার দাম সবমিলিয়ে ৯৭ শতাংশ বেড়েছে, যা বিনিয়োগকারীদের কাছে ক্রমবর্ধমানভাবে নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।
সূত্র: রয়টার্স
-এমএইচআর

