মঙ্গলবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০২৫, ঢাকা

ফুরোচ্ছে খাবার, নেট নেই, বন্যায় ইন্দোনেশিয়ার লাখো মানুষ দিশেহারা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০২ ডিসেম্বর ২০২৫, ১০:৪০ এএম

শেয়ার করুন:

ফুরোচ্ছে খাবার, নেট নেই, বন্যায় ইন্দোনেশিয়ার লাখো মানুষ দিশেহারা

ভয়াবহ বন্যায় ইন্দোনেশিয়ার ১৪ লাখ মানুষ বিপর্যয়ের মুখে পড়েছেন। বন্যায় খাবার ফুরোচ্ছে, বিচ্ছিন্ন হয়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থা। ত্রাণ সহায়তার জন্য অপেক্ষায় আছেন লাখ লাখ মানুষ।

মালাক্কা প্রণালীতে সৃষ্ট বিরল ঘূর্ণিঝড় গত সপ্তাহে আচেহ, উত্তর ও পশ্চিম সুমাত্রায় আঘাত হানে, যার ফলে অন্তত ১৪ লাখ মানুষ প্রভাবিত হয় এবং মৃতের সংখ্যা ৫০০ ছাড়িয়েছে। কাঁদা রাস্তাঘাটের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় পৌঁছাতে লড়াই করছেন উদ্ধারকর্মীরা। উদ্ধারকর্মীদের জন্য অপেক্ষা করছেন লাখো মানুষ। শিশু, বয়স্ক ও অসহায়রা প্রতিটি মুহূর্তে ঝুঁকিতে এবং তাদের চোখে উদ্বেগ ও হতাশার গল্প ফুটে উঠছে প্রতিটি নিঃশ্বাসে।


বিজ্ঞাপন


এশিয়ার যেসব জায়গায় এবার প্রবল বর্ষণ ও ঝড় আঘাত করেছে ইন্দোনেশিয়া তার একটি। থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া ও শ্রীলঙ্কাতেও বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে।

ইন্দোনেশিয়ার আচেহ, উত্তর সুমাত্রা ও পশ্চিম সুমাত্রায় ক্ষয়ক্ষতি বেশি হয়েছে। হাজার হাজার মানুষ এখনো এসব এলাকায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন এবং জরুরি সরবরাহ থেকে বঞ্চিত রয়েছে।

আচেহ প্রদেশের অধিবাসী আমালিয়া বলেন, বন্যার পানি অনেকটা সুনামির মতো মনে হয়েছে। আমার দাদির মতে এটা তার জীবনে দেখা সবচেয়ে ভয়াবহ।

রাস্তাঘাট কাঁদা ও আবর্জনায় বন্ধ হয়ে থাকায় ত্রাণকর্মীরা পায়ে হেঁটে ও মোটরসাইকেলে করে মানুষের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন।


বিজ্ঞাপন


পশ্চিম সুমাত্রায় টুইন ব্রিজ ল্যান্ডমার্কে খননযন্ত্র দিয়ে রাস্তা পরিষ্কার করা দেখছিলেন মারিয়ানা নামে একজন। তার আশা যে তিনি তার পনের বছর বয়সী ছেলেসহ পরিবারের নিখোঁজ সদস্যদের খুঁজে পাবেন।

তিনি বলেন, ‘খননযন্ত্র দেখছি আর ভাবছি ওরা যখন আমার ছেলেকে খুঁজে পাবে তখন সে কেমন অবস্থায় থাকব। সে কি অক্ষত থাকবে? আমার মা...আমার দেবর ...সম্ভবত তাদের চেহারাটাও বোঝার মতো উপায় থাকবে না।’

বহু মানুষ এখনো খাদ্য সহায়তার জন্য অপেক্ষা করছে। অনেকেই বলেছেন তারা দু তিনদিন ধরে কিছু খাননি।

উত্তর সুমাত্রার সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর একটি হলো মধ্য তাপানুলি। সেখানকার অধিবাসী মায়াসানতি বলেন, তার এলাকায় ত্রাণকর্মীদের পৌঁছাতে বেগ পেতে হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘সবকিছু শেষ। খাবার শেষ হওয়ার পথে। এমনকি ইনস্ট্যান্ট নুডুলস নিয়ে মারামারি হচ্ছে। আমাদের খাদ্য ও চাল দরকার। আমাদের দিকে আসার পথ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন।’

মায়াসানতি আরও বলেন, ইন্টারনেট ও বিশুদ্ধ পানির মতো প্রয়োজনীয় জিনিস পেতে তাকে কয়েক কিলোমিটার হেঁটে যেতে হয়েছে।

মধ্য আচেহ এলাকায় কর্তৃপক্ষ স্টারলিংক ডিভাইস দিয়েছে। সেখানে মানুষের লম্বা সারি দেখা গেছে। তারা তাদের প্রিয়জনদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছিলেন বা মোবাইল ফোনে চার্জ দিচ্ছিলেন।

‘পাঁচদিন ধরে সিগন্যাল নেই। নেটওয়ার্কের জন্য গতকাল থেকে অপেক্ষা করছি। আমার মাকে ফোন দিতে চেয়েছিলাম। কিন্তু এখনো পারিনি।-বলেন মার নামে সেখানেকার এক অধিবাসী।

উদ্ধার তৎপরতা বাড়ছে কিন্তু একই সঙ্গে সরকারের দুর্যোগ মোকাবিলা নিয়ে অসন্তোষও বাড়ছে।

সমালোচকরা বলছেন, বন্যা মোকাবিলায় প্রস্তুতিকে দুর্বল ছিল। খাদ্য সাহায্য বিতরণে আমলাতান্ত্রিক দীর্ঘসূত্রিতার বিষয়টিও সামনে আসছে।

সোমবার দেশটির প্রেসিডেন্ট ক্ষতিগ্রস্ত উত্তর সুমাত্রা পরিদর্শন করেছেন। তিনি স্বীকার করেছেন যে কিছু সড়ক এখনো বিচ্ছিন্ন অবস্থায় আছে। তবে সংকট কাটিয়ে উঠতে সবকিছু করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আমরা দৃঢ়তা ও সংহতি নিয়ে দুর্যোগ মোকাবেলা করছি। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে জাতি হিসেবে আমরা এখন শক্তিশালী।’

পুরো দক্ষিণ ও দক্ষিণ পূর্ব এশিয়াজুড়ে গত সপ্তাহের বন্যা ও ভূমিধ্বসে ১১০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে শ্রীলঙ্কায় মারা গেছে ৩৫৫ জন। অন্যদিকে থাইল্যান্ডে মৃতের সংখ্যা ১৭৬ ছাড়িয়েছে।

তবে এই বন্যার জন্য আবহাওয়ার একক কোনো বিষয় দায়ী নয়। বরং বলা হচ্ছে, আবহাওয়াজনিত বিভিন্ন কারণ এই বন্যার জন্য দায়ী।

এমআর

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর