মঙ্গলবার, ৩ মার্চ, ২০২৬, ঢাকা

৪২ বছর পর ‘আসাম সহিংসতার’ রিপোর্ট প্রকাশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৫ নভেম্বর ২০২৫, ০৭:৩০ পিএম

শেয়ার করুন:

৪২ বছর পর ‘আসাম সহিংসতার’ রিপোর্ট প্রকাশ

ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য আসামে ১৯৮৩ সালের ব্যাপক অস্থিরতা, সহিংসতা ও ধ্বংসের কারণ অনুসন্ধান করার জন্য তিওয়ারি কমিশন গঠন করা হয়েছিল। ৪২ বছর পর সেই কমিশনের রিপোর্ট প্রকাশ্যে আনলো আসাম সরকার।  

রিপোর্টে বলা হয়েছে, নেলি গণহত্যাসহ আসামজুড়ে অস্থিরতায় দুই হাজার ৩২১ জন মারা গেছিলেন, দুই লাখ ২০ হাজার মানুষ গৃহহীন হন, ২২ হাজার ৪৩৬টি বাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হয়।


বিজ্ঞাপন


মোট ৫৪৮ পাতার মূল রিপোর্টে প্রতিটি বিষয় নিয়ে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হয়েছে। তারপর তিওয়ারি কমিশন উপসংহারে এসে, তাদের সুপারিশের কথা জানিয়েছে।

সেখানে বলা হয়েছে, ১৯৮৩ সালের সহিংসতার জন্য আসামে নির্বাচনের সিদ্ধান্তকে দায়ী করা ঠিক হবে না। ১৯৫০ থেকে ১৯৮২ পর্যন্ত ১১ বার গুরুতর সহিংসতা হয়েছে। এর সঙ্গে নির্বাচনের কোনো যোগ ছিল না।  

রিপোর্টে বলা হয়েছে, আসু ও এএজিএসপি আন্দোলন সংগঠিত করার জন্য ও তার প্রতিক্রিয়ার জন্য দায়ী। বনধ ও পিকেটিং পূর্বপর্কল্পিত ছিল এবং বিশাল আকারে করা হয়েছিল, যার ফলে রেললাইনে অন্তর্ঘাত, রাস্তা, সেতু, বাড়ির মতো সরকারি সম্পত্তি ধ্বংস হয়েছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে য়ায় এবং প্রচুর মানুষ মারা যান, সম্পত্তির ক্ষতি হয়। এখানে আবার প্রমাণিত হয়েছে, সহিংসতা দিয়ে কোনো লাভ হয় না, আলোচনার টেবিলে বসেই স মস্যার সমাধান হয়। 

রিপোর্টে বলা হয়েছে, ঘটনাগুলিকে পুরোপুরি সাম্প্রদায়িক, জাতিগত বা ভাষাগত রূপ দেওয়া ঠিক নয়।কিছু ক্ষেত্রে আক্রমণকারীরা অসমীয়া এবং ক্ষতিগ্রস্তরা বাংলাভাষী হিন্দু ও মুসলিম, কিছু ক্ষেত্রে আক্রমণকারীরা মুসলিম এবং ক্ষতিগ্রস্তরা অসমীয়া। এখানে নেলির ঘটনা যেমন ঘটেছে, তেমনই চামারিয়া ও নলবাড়ির মতো ঘটনাও ঘটেছে। চওলখোয়াতে সংখ্যালঘুদের একাংশ অভিবাসীদের আক্রমণ করেছে। 


বিজ্ঞাপন


রিপোর্ট অনুসারে, জমির সমস্যা খুব বড় হয়ে দেখা দিয়েছিল। অসমীয়াদের আয়ের প্রধান উৎস ছিল জমি। অভিবাসীদের হাতে অনেক জমি চলে যাওয়ায় তারা বিরক্ত হয়। 

এ বিসয়ে সাবেক কংগ্রেস ও বর্তমানে তৃণমূল সাংসদ সুস্মিতা দেব জানিছেন, তিনি এখনো রিপোর্ট পড়েননি। তবে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, এতদিন পর আসাম বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই রিপোর্ট কেন প্রকাশ করা হলো। অতীতকে কেন খুঁচিয়ে তোলা হচ্ছে?

উল্লেখ্য, ১৯৭৯ থেকে ১৯৮৫ সালের মধ্যে বিদেশি অনুপ্রবেশের বিরুদ্ধে চলা অসম আন্দোলনের সময়, ১৯৮৩ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি নেলিতে এক রাতের মধ্যে ২ হাজার ১০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হন। ওই ঘটনার দায় নির্ধারণে তিওয়ারি কমিশন গড়া হয়। ৫৫১ পাতার রিপোর্টটি ১৯৮৪ সালের মে মাসে হিতেশ্বর শইকিয়ার সরকারকে জমা দেওয়া হলেও তার রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়নি। নেলি হত্যাকাণ্ডের পরে ৬৮৮টি মামলা দায়ের করা হয়। এর মধ্যে ৩১০টিতে চার্জশিট দাখিল করা হয়। কিন্তু ১৯৮৫ সালের অসম চুক্তির পরে অভিযুক্তদের সম্পূর্ণ ছাড় দেওয়া হয়, ফলে এত বড় গণহত্যায় কারও সাজাও হয়নি।

সূত্র: ডয়চে ভেলে 

এমএইচআর 

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর