অস্ট্রেলিয়ার পার্লামেন্টে বোরকাকে অসম্মান করায় দেশটির উগ্রডানপন্থি ‘ওয়ান নেশন’ দলের নেতা ও সিনেটর পলিন হ্যানসনকে সাত কার্যদিবসের জন্য বরখাস্ত করা হয়েছে।
গতকাল সোমবার (২৪ নভেম্বর) জনসমক্ষে বোরকা নিষিদ্ধের দাবি জোরদার করতে সিনেটে বোরকা–নিষিদ্ধকরণ বিল উত্থাপন করতে চেয়েছিলেন হ্যানসন। তবে অনুমতি না দেওয়ার প্রতিবাদে বিকৃতভাবে বোরকা পরে পার্লামেন্টে প্রবেশ করেন তিনি। তার এই আচরণকে ক্ষমতাসীন লেবার সরকারের সিনেটরসহ মুসলিম আইনপ্রণেতারা ‘বিদ্বেষমূলক’ ও ‘বর্ণবাদী’ বলে নিন্দা জানান।
বিজ্ঞাপন
অস্ট্রেলিয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওয়ং সিনেটে বলেন, ‘সিনেটর হ্যানসনের ঘৃণামূলক ও তুচ্ছ প্রদর্শন আমাদের সামাজিক বন্ধন ছিন্ন করে এবং আমি বিশ্বাস করি তার এ কাজ (বিশ্বব্যাপী) অস্ট্রেলিয়াকে দুর্বল করেছে। তার এ কাজের জন্য অন্যদের খারাপ পরিণতির মধ্যে পড়তে হবে।
তিনি আরও বলেন, ‘সিনেটর হ্যানসন একটি সম্পূর্ণ ধর্মবিশ্বাসকে (ইসলাম) উপহাস ও অপমান করেছেন, যে ধর্মবিশ্বাস প্রায় ১০ লক্ষ অস্ট্রেলিয়ান পালন করেন... আমি কখনও পার্লামেন্টে এতটা অসম্মানজনক আচরণ করতে কাউকে দেখিনি।’
ফলশ্রুতিতে সিনেটে ওয়ান নেশনের এই নেতার বিরুদ্ধে ৫৫-৫ ভোটে একটি নিন্দা প্রস্তাব পাস হয়।
প্রসঙ্গত, ডানপন্থি জাতীয়তাবাদী বক্তব্য ও অভিবাসনবিরোধী অবস্থান নিয়ে ওয়ান নেশন সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সমর্থন বাড়িয়েছে। মে মাসের সাধারণ নির্বাচনে দলটি সিনেটে চারটি আসন পায়। জনমত জরিপেও হ্যানসনের জনপ্রিয়তা বাড়ছে বলে দেখা যায়।
বিজ্ঞাপন
এদিকে হ্যানসন তার কাজের পক্ষে সাফাই গেয়ে সাংবাদিকদের বলেন, বোরকা বিষয়ে নিজের অবস্থান থেকে তিনি সরে আসবেন না। তার বক্তব্য, ‘সংসদে পোশাকবিধি নেই। ব্যাংকে হেলমেট খুলে ফেলতে হয়, কিন্তু বোরকা নিয়ে আলাদা নিয়ম কেন?’ তিনি যুক্তি দেন, ‘আমি আমার অবস্থানে অটল থাকব; জনগণই আমাকে বিচার করবে।’
কুইন্সল্যান্ডের এই সিনেটর ১৯৯০-এর দশকে এশীয় অভিবাসন ও আশ্রয়প্রার্থী বিরোধী বক্তব্যের মাধ্যমে পরিচিতি পান। ইসলামি পোশাকবিরোধী প্রচারণা তিনি বহুদিন ধরে চালিয়ে আসছেন।
সূত্র: রয়টার্স

