শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

ট্রাম্প-পুতিনের পরবর্তী বৈঠক হবে হাঙ্গেরির বুদাপেস্টে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৭ অক্টোবর ২০২৫, ১১:০৪ এএম

শেয়ার করুন:

ট্রাম্প-পুতিনের পরবর্তী বৈঠক হবে হাঙ্গেরির বুদাপেস্টে

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র ইস্যুতে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তিনি বলেছেন, ইউক্রেনকে দীর্ঘপাল্লার এই ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ করা হলে মস্কো-ওয়াশিংটনের সম্পর্ক গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

দুই নেতার মধ্যে প্রায় আড়াই ঘণ্টার ফোনালাপে এমন হুঁশিয়ারি দেন পুতিন। ফোনালাপে ইউক্রেন যুদ্ধ ও ভবিষ্যৎ শান্তি আলোচনার বিষয়গুলো নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়। 

স্থানীয় সময় গতকাল বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে ট্রাম্প জানান, তার ও পুতিনের মধ্যে দীর্ঘ ও ফলপ্রসূ টেলিফোন আলাপের পর দুই নেতা হাঙ্গেরির রাজধানী বুদাপেস্টে সাক্ষাৎ করবেন। পরে এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, বৈঠকটি সম্ভবত আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে অনুষ্ঠিত হতে পারে।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা খবরে বলা হয়েছে, এই ফোনালাপের এক দিন পরই ওয়াশিংটন ডিসিতে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করবেন। সেখানে জেলেনস্কি আবারও যুক্তরাষ্ট্রের কাছে টোমাহক ক্ষেপণাস্ত্র বিক্রির অনুরোধ জানাবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই অস্ত্র ইউক্রেনকে রাশিয়ার ভেতরের আরও গভীর এলাকায় হামলা চালাতে সক্ষম করবে।

ট্রাম্পের সঙ্গে পুতিনের ফোনালাপ নিয়ে বৃহস্পতিবার মস্কোয় সাংবাদিকদের সঙ্গে ব্রিফিংয়ে রুশ প্রেসিডেন্টের সহকারী ইউরি উশাকভ বলেন, পুতিন পুনরায় তার অবস্থান স্পষ্ট করেছেন যে টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র যুদ্ধক্ষেত্রের বাস্তবতা বদলাতে পারবে না। বরং এই ক্ষেপণাস্ত্র দুই দেশের সম্পর্ক এবং ইউক্রেনে শান্তিপূর্ণ সমাধানের সম্ভাবনাকে বড় ধরনের ক্ষতি করবে।

তিনি আরও বলেন, দুই নেতার মধ্যে প্রায় আড়াই ঘণ্টার ফোনালাপ ছিল “খুবই ফলপ্রসূ, খোলামেলা ও গোপনীয়”। আলোচনায় ইউক্রেন যুদ্ধ ছিল মুখ্য বিষয়। এ ছাড়া ট্রাম্পের সামনে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির একটি বিস্তারিত মূল্যায়নও তুলে ধরেন পুতিন।

এই রুশ কর্মকর্তার ভাষায়, মস্কো ওয়াশিংটনকে জানায়- রুশ বাহিনী এখনও “পুরো ফ্রন্টলাইনে কৌশলগত নিয়ন্ত্রণ” ধরে রেখেছে। অপরদিকে ট্রাম্প বারবার জোর দিয়ে বলেছেন, যুদ্ধ দ্রুত শেষ করা প্রয়োজন।

উশাকভ আরও বলেন,আমেরিকার প্রেসিডেন্টের অন্যতম মূল বক্তব্য ছিল- ইউক্রেন সংঘাতের অবসান ঘটলে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতার বিশাল সুযোগ সৃষ্টি হবে।

আলোচনায় দুই প্রেসিডেন্টের মধ্যে সরাসরি সাক্ষাতের সম্ভাবনাও উত্থাপিত হয়। উভয় পক্ষের কর্মকর্তারা অবিলম্বে ট্রাম্প ও পুতিনের পরবর্তী বৈঠকের প্রস্তুতি শুরু করবেন বলেও তারা সম্মত হয়েছেন। সম্ভাব্য স্থান হিসেবে হাঙ্গেরির রাজধানী বুদাপেস্টের নাম উঠে এসেছে।

পুতিন ও ট্রাম্পের সর্বশেষ মুখোমুখি সাক্ষাৎ হয়েছিল গত আগস্টে আলাস্কায়। তবে সেখানেই শান্তি আলোচনার অগ্রগতি থেমে যায়। এরপর থেকে ট্রাম্প ন্যাটো মিত্রদের সঙ্গে সমন্বয় করে রাশিয়ার ওপর চাপ বাড়ানোর কৌশল নিয়েছেন।

শুক্রবার হোয়াইট হাউসে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠক করবেন ট্রাম্প। এই বৈঠকের মূল আলোচ্য বিষয় হবে ইউক্রেনকে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও দীর্ঘপাল্লার অস্ত্র সরবরাহ করা।

এর আগে চলতি মাসের শুরুতে ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, তিনি ইউক্রেনকে টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র দেওয়ার বিষয়ে “চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কাছাকাছি” আছেন।

এফএ

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর