শুক্রবার, ২ জানুয়ারি, ২০২৬, ঢাকা

ভারতে মুসলিম জনসংখ্যা বৃদ্ধির পেছনে দায়ী বাংলাদেশ-পাকিস্তান: অমিত শাহ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১১ অক্টোবর ২০২৫, ১০:১০ পিএম

শেয়ার করুন:

ভারতে মুসলিম জনসংখ্যা বৃদ্ধির পেছনে দায়ী বাংলাদেশ-পাকিস্তান: অমিত শাহ

ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ দাবি করেছেন, ভারতের মুসলিম জনসংখ্যা বৃদ্ধির পেছনে পাকিস্তান ও বাংলাদেশ থেকে অনুপ্রবেশ জড়িত, যা দেশটির সংস্কৃতি এবং গণতান্ত্রিক নীতির জন্য হুমকিস্বরূপ। একই সঙ্গে তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তাদের সরকার অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে ‘শনাক্ত, অপসারণ এবং নির্বাসন’ কৌশল অনুসরণ করবে।

শুক্রবার (১০ অক্টোবর) নয়া দিল্লিতে সাহিত্যিক নরেন্দ্র মোহনের স্মৃতিতে ‘অনুপ্রবেশ, জনসংখ্যাগত পরিবর্তন এবং গণতন্ত্র’ শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ দাবি করেন।


বিজ্ঞাপন


১৯৫১ সাল থেকে ২০১১ সালের তথ্য উদ্ধৃত করে জনসংখ্যার ভারসাম্যহীনতাকে 'জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়' হিসেবে বর্ণনা করেন অমিত শাহ। 

তিনি বলেন, ‘১৯৫১ সালের আদমশুমারি অনুসারে, ভারতে হিন্দুদের জনসংখ্যা ছিল ৮৪ শতাংশ, যেখানে মুসলিমদের জনসংখ্যা ছিল ৯ দশমিক ৮ শতাংশ। ১৯৭১ সালে হিন্দুদের জনসংখ্যা ছিল ৮২ শতাংশ এবং মুসলিম জনসংখ্যা ছিল ১১ শতাংশ, যেখানে ১৯৮১ সালে হিন্দুদের জনসংখ্যা ছিল ৮১ শতাংশ এবং মুসলিম সম্প্রদায় ছিল ১২ দশমিক ১২ শতাংশ। ১৯৯১ সালে আমাদের জনসংখ্যা ছিল ৮৯ শতাংশ এবং মুসলিমদের জনসংখ্যা ছিল ১৪.২ শতাংশ। আমি কেবল দুটি ধর্মের জনসংখ্যার কথা বলছি কারণ আমি অনুপ্রবেশ সম্পর্কে কথা বলতে চাই।’

ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘মুসলিম জনসংখ্যা ২৪ দশমিক ৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যেখানে হিন্দু জনসংখ্যা ৪ দশমিক ৫ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। আমি আপনাদের এটা বলছি কারণ এটি প্রজনন হারের কারণে হয়নি। এটি অনুপ্রবেশের কারণে ঘটেছে।’

তিনি আরও দাবি করেন, ‘পাকিস্তান ও বাংলাদেশে হিন্দু জনসংখ্যা হ্রাস পেয়েছে কারণ তাদের অনেকেই পালিয়ে ভারতে আশ্রয় নিয়েছে। কিছু রাজনৈতিক দল অনুপ্রবেশকারীদের ভোট ব্যাংক হিসেবে বিবেচনা করছে। এটি একটি জাতীয় সমস্যা, যা গণতন্ত্রের জন্য হুমকি।’


বিজ্ঞাপন


তিনি প্রশাসনের প্রতি প্রশ্ন তোলেন বলেন, ‘যদি কোনো ব্যক্তি অবৈধভাবে দেশে প্রবেশ করে এবং জেলা প্রশাসন তাদের সনাক্ত করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে কীভাবে অনুপ্রবেশ বন্ধ করা যাবে? যখন কোনো ব্যক্তি শরণার্থী এবং অনুপ্রবেশকারীর মধ্যে পার্থক্য বুঝতে পারে না, তখন তারা নিজের আত্মার সঙ্গে প্রতারণা করছে।’

অমিত শাহ বলেন, ‘আমি দ্বিধা ছাড়াই বলতে চাই যে যতক্ষণ না প্রতিটি ভারতীয় এই তিনটি বিষয় বুঝতে পারে, ততক্ষণ আমরা আমাদের দেশ, এর সংস্কৃতি, ভাষা এবং আমাদের স্বাধীনতার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারি না।’

তিনি বলেন, গুজরাট এবং রাজস্থান সীমান্তবর্তী রাজ্য হওয়া সত্ত্বেও সুরক্ষিত রয়েছে। তবে পশ্চিমবঙ্গ ও আসামে ব্যাপক হারে মুসলিম জনসংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। আসামে ২০১১ সালের আদমশুমারিতে মুসলিম জনসংখ্যার দশকব্যাপী বৃদ্ধির হার ছিল ২৯ দশমিক ৬ শতাংশ। অনুপ্রবেশ ছাড়া এটা সম্ভব নয়। আর পশ্চিমবঙ্গের অনেক জেলায় এই বৃদ্ধির হার ৪০ শতাংশ এবং বেশ কয়েকটি সীমান্তবর্তী এলাকায় এটি ৭০ শতাংশে পৌঁছেছে। 

এছাড়াও ঝাড়খণ্ডে আদিবাসীদের জনসংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাসের পেছনেও বাংলাদেশ থেকে ব্যাপক অনুপ্রবেশ দায়ী বলে দাবি করেন ভারতের এই মন্ত্রী।

হিন্দু, শিখ, খ্রিস্টান এবং বৌদ্ধ শরণার্থীদের নাগরিকত্ব দিতে ‘নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন’কে (সিএএ) প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জাতীয় অঙ্গীকার হিসেবে সমর্থন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বিরোধী দলগুলো সিএএ সম্পর্কে মিথ্যাচার ছড়িয়েছে। এই আইনের মাধ্যমে মোদি কয়েক দশক ধরে শাসনের ত্রুটির প্রায়শ্চিত্ত করেছেন, কারণ স্বাধীনতার পর থেকে পাকিস্তান, আফগানিস্তান এবং বাংলাদেশে ধর্মীয় কারণে নির্যাতিত সংখ্যালঘুরা ভারতে আশ্রয় পাওয়ার যোগ্য।’

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া


এমএইচআর

 

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর