ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র সংগঠন হামাসকে আল্টিমেটাম দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
আগামী রোববারের (০৫ অক্টোবর) মধ্যে নিজের ঘোষিত ২০ দফা যুদ্ধবিরতির চুক্তি মেনে না নিলে হামাসের ওপর নরক নেমে আসবে বলে হুমকি দিয়েছেন তিনি।
এছাড়া গাজার মানুষকে নিরাপদস্থানে সরে যেতে বলেছেন ট্রাম্প। কিন্তু তারা কোন নিরাপদ স্থানে যাবে সেটি উল্লেখ করেননি তিনি। খবর টাইমস অব ইসরায়েলের।
শুক্রবার (৩ অক্টোবর) সামাজিকমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এ হুমকি দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। গত সোমবার দখলদার ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহুকে নিয়ে ২০ দফার প্রস্তাব ঘোষণা করেন ট্রাম্প।
সেখানে হামাসকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সব জিম্মিকে মুক্তি দেওয়ার শর্ত দিয়েছেন তিনি। সঙ্গে হামাসকে সব অস্ত্র সমর্পণ করতে হবে বলেও জানিয়েছেন ট্রাম্প।
তবে ট্রাম্পের এ প্রস্তাব প্রথমে প্রত্যাখানের ইঙ্গিত দিয়েছেন হামাসের সশস্ত্র শাখার প্রধান ইজ আল-দ্বীন হাদ্দাদ। কিন্তু কাতারে হামাসের যেসব নেতা আছেন তারা চুক্তিটি শর্তসাপেক্ষে মানার ব্যাপারে আগ্রহ দেখাচ্ছেন।
ট্রাম্প হামাসকে হুমকি দিয়ে বলেছেন, হামাস বহু বছর ধরে মধ্যপ্রাচ্যে একটি নৃশংস ও সহিংস হুমকি হয়ে রয়েছে! তারা অনেক মানুষকে হত্যা করেছে এবং অনেকের জীবনকে অসহনীয় করে তুলেছে। যার চরম পরিণতি হলো ইসরায়েলে ৭ অক্টোবরের গণহত্যা।
এই হামলায় শিশু, নারী, বৃদ্ধ, এবং অসংখ্য তরুণ-তরুণী ও বালক-বালিকাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে, যারা তাদের ভবিষ্যৎ জীবন একসাথে উদযাপন করার প্রস্তুতি নিচ্ছিল।
ইতোমধ্যে ২৫ হাজারের বেশি হামাস যোদ্ধা নিহত হয়েছেন। বাকিদের বেশিরভাগই সামরিকভাবে অবরুদ্ধ এবং চারপাশ থেকে ফাঁদে আটকা পড়েছেন।
তিনি আরও বলেছেন, এখন শুধু আমার “হ্যাঁ” বলার অপেক্ষা, আর মুহূর্তেই হামাসের বাকি যোদ্ধাদের জীবন নিভে যাবে। আর বাকি যারা, আমরা জানি আপনারা কোথায় আছেন এবং কে আপনারা, আপনাদের খুঁজে বের করা হবে এবং হত্যা করা হবে।
নিরপরাধ ফিলিস্তিনিদের আমি অনুরোধ করছি এই মৃত্যু উপত্যকা অবিলম্বে ত্যাগ করে গাজার নিরাপদ অঞ্চলে চলে যান। আপনাদের জন্য যারা অপেক্ষা করছেন তারা আপনাদের ভালো যত্ন নেবেন।
হামাসকে শেষ সুযোগ দেওয়ার হুমকি দিয়ে ট্রাম্প আরও বলেছেন, সৌভাগ্যবশত হামাস একটি শেষ সুযোগ পেতে যাচ্ছে! মধ্যপ্রাচ্যের এবং এর আশেপাশের অঞ্চলের শক্তিশালী, ক্ষমতাধর এবং অত্যন্ত ধনী জাতিগুলো, একসাথে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইসরায়েলের মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে ৩০০০ বছরের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠায় সম্মত হয়েছে।
এই চুক্তিতে হামাসের অবশিষ্ট সব যোদ্ধার জীবনও রক্ষা করা হবে! এই চুক্তির বিবরণ বিশ্বজুড়ে সবার জানা এবং এটি সবার জন্য একটি চমৎকার চুক্তি! আমরা যেকোনো মূল্যে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠা করব। সহিংসতা ও রক্তপাত বন্ধ হবে।
জিম্মিদের মুক্তি দেওয়ার দাবি জানিয়ে ট্রাম্প বলেছেন, এখনই জীবিত ও মৃত সব জিম্মিকে মুক্তি দিন। ওয়াশিংটন সময় রোববার সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে হামাসকে অবশ্যই যুদ্ধবিরতির চুক্তি সম্পন্ন করতে হবে। প্রতিটি দেশ এতে স্বাক্ষর করেছে!
এই শেষ সুযোগের চুক্তি যদি না হয়, তাহলে হামাসের বিরুদ্ধে এমন ভয়াবহ নরক নেমে আসবে যা কেউ আগে দেখেনি। যেকোনো মূল্যেই হোক, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি আসবেই।
-এমএমএস




