ল্যাপটপে সিনেমা বা গান শুনতে গিয়ে হঠাৎ সাউন্ড কমে যাওয়ার অভিজ্ঞতা অনেকেরই রয়েছে। অনেক সময় স্পিকার নষ্ট না হলেও ভুল সেটিংস, নির্দিষ্ট অ্যাপের কম ভলিউম, অডিও এনহ্যান্সমেন্ট বা পুরনো ড্রাইভারের কারণে এই সমস্যা হতে পারে। এ ধরনের সমস্যায় তাৎক্ষণিকভাবে সার্ভিস সেন্টারে না দৌড়ে ঘরে বসেই কিছু সহজ উপায়ে ল্যাপটপের স্পিকারের আওয়াজ বাড়িয়ে নেওয়া সম্ভব।
ভলিউম মিক্সার পরীক্ষা করা: প্রথমেই ল্যাপটপের মূল ভলিউম এবং যে অ্যাপটি ব্যবহার করা হচ্ছে তার ভলিউম পরীক্ষা করতে হবে। উইন্ডোজের (Windows) ক্ষেত্রে Settings-এ গিয়ে System, Sound এবং Volume mixer-এ প্রবেশ করে সিস্টেম ও নির্দিষ্ট অ্যাপ দুটিরই ভলিউম বাড়িয়ে রাখা হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করতে হবে।
অডিও এনহ্যান্সমেন্ট (Audio Enhancements) বন্ধ করা: অনেক সময় অডিও এনহ্যান্সমেন্টের বিশেষ সেটিংসের কারণেও শব্দ স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক কম শোনা যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে Settings-এ গিয়ে সংশ্লিষ্ট আউটপুট ডিভাইস বা স্পিকার নির্বাচন করে Audio enhancements বন্ধ করে পুনরায় সাউন্ড পরীক্ষা করা যেতে পারে।
লাউডনেস ইকুয়ালাইজেশন (Loudness Equalization) ব্যবহার: কিছু উইন্ডোজ ডিভাইসে Loudness Equalization চালু করলে কম ও বেশি শব্দের পার্থক্য কিছুটা কমে আসে এবং সাউন্ড অনেক বেশি স্পষ্ট শোনায়। সাউন্ড প্রপার্টিজের (Sound Properties) Enhancements ট্যাবে এই অপশনটি থাকলে তা চালু করে সুফল পাওয়া সম্ভব।
অডিও ড্রাইভার আপডেট করা: পুরোনো বা ত্রুটিপূর্ণ অডিও ড্রাইভারের কারণেও স্পিকারের আওয়াজ কমে যেতে পারে। এটি সমাধানের জন্য Device Manager-এ গিয়ে Sound, video and game controllers অপশন থেকে অডিও ডিভাইসের ওপর রাইট-ক্লিক করে ‘Update driver’ করতে হবে। প্রয়োজনে ড্রাইভার আনইনস্টল করে ল্যাপটপ রিস্টার্ট করা যেতে পারে।
স্পিকারের গ্রিল পরিষ্কার রাখা: অনেক সময় স্পিকারের জালের বা গ্রিলের ভেতর ধুলো-ময়লা জমে শব্দ আটকে যায়। তাই নরম ব্রাশ দিয়ে খুব সাবধানে স্পিকারের অংশটি পরিষ্কার করা উচিত। তবে পরিষ্কার করার সময় কোনো ধারালো বস্তু বা অতিরিক্ত চাপ প্রয়োগ করা থেকে বিরত থাকতে হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ওপরে উল্লেখিত উপায়গুলো অনুসরণ করার পরও যদি স্পিকারের সমস্যার সমাধান না হয়, তবে বুঝতে হবে এটি হার্ডওয়্যারজনিত কোনো সমস্যা। সে ক্ষেত্রে ল্যাপটপের ব্র্যান্ড ও মডেল অনুযায়ী বিশ্বস্ত কোনো সার্ভিস সেন্টারে বা দোকানে দেখিয়ে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
এজেড




