ব্যস্ত সময়ে কিংবা জরুরি কাজের মাঝে অচেনা নম্বর থেকে একের পর এক অপ্রয়োজনীয় কল বা স্প্যাম কলের জ্বালাতন এখন প্রায় প্রতিদিনইকার সমস্যায় পরিণত হয়েছে। লোন ও ক্রেডিট কার্ডের অফার থেকে শুরু করে বিভিন্ন প্রতারণামূলক ফোন সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য মারাত্মক বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অসাবধানতাবশত এসব কলে সাড়া দিলে ব্যক্তিগত তথ্য বা ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খালি হওয়ার মতো বড় ধরনের বিপদের আশঙ্কাও থাকে। তবে একটু সতর্ক থাকা এবং ফোনের সঠিক সেটিংস ব্যবহার করলে এই ধরনের বিরক্তিকর কল অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব।
অচেনা নম্বরে বাড়তি সতর্কতা: অচেনা বা কলার আইডি ছাড়া কোনো নম্বর থেকে ফোন এলে বিশেষ প্রয়োজন না থাকলে তা রিসিভ না করাই শ্রেয়। ভুলবশত ফোন ধরে ফেললেও কোনো বোতাম প্রেস করা থেকে বিরত থাকতে হবে। কল কেটে দেওয়ার পর সেই নম্বরে পুনরায় ব্যাক করা উচিত নয়, কারণ এতে আপনার নম্বরটি ‘অ্যাকটিভ’ হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আরও বেশি স্প্যাম কল আসার সম্ভাবনা তৈরি হয়।
ফোনের স্প্যাম ফিল্টার ও কলার আইডি চালু করা: বর্তমান যুগের প্রায় প্রতিটি স্মার্টফোনেই বিল্ট-ইন ‘Spam Protection’ বা ‘Caller ID’ ফিচার থাকে। ফোনের ডিফল্ট ডায়ালার বা কল সেটিংস অপশনে গিয়ে এই ফিচারগুলো সক্রিয় করে দেওয়া উচিত। এর ফলে সন্দেহজনক বা জালিয়াতিপূর্ণ নম্বরগুলো স্ক্রিনেই আলাদাভাবে চিহ্নিত হয় এবং অনেক ক্ষেত্রে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্লক হয়ে যায়।
তৃতীয় পক্ষের স্প্যাম-ব্লকিং অ্যাপ ব্যবহার: প্রয়োজনে বিশ্বস্ত কোনো স্প্যাম-ব্লকিং অ্যাপ, যেমন— ট্রুকলার (Truecaller) ব্যবহার করা যেতে পারে। এসব অ্যাপ অজানা নম্বর শনাক্ত করতে এবং স্প্যাম কল এড়াতে বেশ কার্যকরী। তবে যেকোনো থার্ড-পার্টি অ্যাপ ইনস্টল করার আগে অবশ্যই সেটির প্রাইভেসি পলিসি এবং অ্যাপটি কী ধরনের তথ্য ও অনুমতির প্রবেশাধিকার চাইছে, তা ভালোভাবে যাচাই করে নেওয়া জরুরি।
ব্যক্তিগত ডেটা ও তথ্য প্রকাশে কড়াকড়ি: অনলাইনে যেকোনো অচেনা ওয়েবসাইট, ফর্ম বা বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার সময় অপ্রয়োজনে নিজের মোবাইল নম্বর দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। বিশেষ করে, অপরিচিত কেউ ফোনে বা মেসেজে ওটিপি (OTP), ব্যাংক অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত তথ্য, পিন (PIN) বা পাসওয়ার্ড চাইলে তা কখনো শেয়ার করা যাবে না।
নম্বর ব্লক ও রিপোর্ট করা: কোনো নির্দিষ্ট নম্বর থেকে বারবার বিরক্ত করা হলে ফোনের কল হিস্ট্রি থেকে সরাসরি ‘Block & Report Spam’ অপশন ব্যবহার করে নম্বরটি স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেওয়া যায়। পাশাপাশি, একই ধরনের স্প্যাম কল নিয়মিত আসতে থাকলে টেলিকম অপারেটরদের কাস্টমার কেয়ার বা তাদের নিজস্ব স্প্যাম রিপোর্টিং ব্যবস্থায় তা জানানো যেতে পারে।
ডিস্টার্ব না করার সুবিধা (DND) ও অন্যান্য সতর্কতা: বিশেষ করে রাতের বেলা বা একান্ত বিশ্রামের সময়ে ফোনের ‘Do Not Disturb’ (DND) মোড চালু রাখা যেতে পারে। অপ্রয়োজনীয় আন্তর্জাতিক বা বিদেশি নম্বর থেকে আসা কলগুলোও সেটিংস থেকে ব্লক করে রাখা সম্ভব। এছাড়া ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বা অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক প্ল্যাটফর্মে কোনো সন্দেহজনক কার্যকলাপ ঘটছে কি না, তা নিয়মিত নজরদারিতে রাখতে হবে।
সাইবার বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, স্প্যাম কল পুরোপুরি চিরতরে বন্ধ করা সবসময় সম্ভব না হলেও, একটু সচেতনতা এবং ফোনের সঠিক সেটিংসের ব্যবহার এই ধরনের হয়রানি থেকে অনেকটাই স্বস্তি দিতে পারে।
এজেড




