সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ঢাকা

ডেল্টার চেয়ে দশগুণ বেশি টিকা প্রতিরোধী ওমিক্রন: গবেষণা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ০৬:০৫ পিএম

শেয়ার করুন:

ডেল্টার চেয়ে দশগুণ বেশি টিকা প্রতিরোধী ওমিক্রন: গবেষণা

অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলসের এক দল গবেষক জানিয়েছে, যদিও আপাত দৃষ্টিতে মনে হচ্ছে, ওমিক্রনের ভয়াবহতা তূলনামূলকভাবে কমে গেছে, কিন্তু করোনার এই ধরনটি এর পূর্ববর্তী ‘ডেল্টা’র চেয়ে অনেক বেশি সংক্রামক। গবেষকরা আরও জানিয়েছে, এই ধরনটির ভ্যাকসিনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ বা ‘এন্টিবডি’ তৈরি করার সক্ষমতা ডেল্টার চেয়ে দশগুণ বেশি। গবেষকরা ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন, সামনে আরও খারাপ দিন আসছে। খবর ইয়নের।

গত বছরের নভেম্বরে দক্ষিণ আফ্রিকা ও বতসোয়ানাতে প্রথম ধরা পড়েছিলো করোনার সুপার ‍মিউট্যান্ট ধরন ওমিক্রন। এরপর খুবই অল্প সময়ের মধ্যে কীভাবে এটি সারাবিশ্বে ছড়িয়ে পড়লো সে সম্পর্কেও ধারণা দিয়েছে গবেষক দলটি। এখনো পর্যন্ত করোনার বিধ্বংসী এ ধরনটি বিশ্বের ১২০টি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে।

করোানার এই অতি সংক্রামক ধরনটি সহজেই পৃথিবী থেকে বিলুপ্ত হয়ে যাবে না। আরও বেশ কয়েক বছর এর দাপট থাকবে পৃথিবীতে। বিশেষ করে শীতের সময়ে।

গত বছরের ডিসেম্বরের মাঝামাঝিতে অস্ট্রেলিয়ায় প্রথমবারের মতো ওমিক্রন আঘাত হানার পর থেকেই নিউ সাউথ ওয়েলস বিশ্ববিদ্যালয়ের কিরবি ইন্সটিটিউটের গবেষকরা নিরাপত্তা বলয়ে বেষ্টিত একটি কক্ষে ভাইরাসটি নিয়ে গবেষণা শুরু করে।

গবেষকরা জানায়, দুই বার টিকা গ্রহণকারীদের শরীরেও টিকার বিরুদ্ধে ‘ইমিউনিটি’ তথা প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সক্ষম ওমিক্রন। বিজ্ঞানিরা এও ভবিষ্যদ্বানী করেছেন, করোানার এই অতি সংক্রামক ধরনটি সহজেই পৃথিবী থেকে বিলুপ্ত হয়ে যাবে না। আরও বেশ কয়েক বছর এর দাপট থাকবে পৃথিবীতে। বিশেষ করে শীতের সময়ে।

গবেষকদের প্রকাশিত প্রতিবেদনে ওমিক্রনের নতুন উপধরন ‘বিএ.২’এর কথাও জানানো হয় যা এরই মধ্যে ইউরোপ ও এশিয়া জুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। ওমিক্রনের পূর্ববর্তী ধরন ‘বিএ.১’এর চেয়ে এটি আরও বেশি সংক্রামক।

প্রাথমিক তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে ড্যানিশ স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছে, ‘বিএ.১’ উপধরনের চেয়ে ‘বিএ.২’ উপধরনটি ১.৫ গুণ বেশি সংক্রামক। তবে এটি অতোটা তীব্র অসুস্থতা সৃষ্টি করে না।

গবেষণা প্রতিবেদনটিতে যে ভয়ংকর তথ্য দেওয়া হয়েছে তা হলো, সময়ের সাথে সাথে কোভিড পরিস্থিতি কম বিপদজনক হবে, বিজ্ঞানী ও গবেষক মহলের কাছে এ ধরনের তত্তের স্বপক্ষে কোনো শক্ত বিজ্ঞানসম্মত প্রমাণ নেই।

বিজ্ঞান বিষয়ক সাময়িকী ‘ন্যাচার’কে দেওয়া সাক্ষাতকারে ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের কমপিউটেশনাল বায়োলোজিস্ট ফ্র্যাংকোইস ব্যালোক্স বলেন, যেকোনো ভ্যারিয়েন্ট বেশি সংক্রামক হলে এর ক্ষতিকর প্রভাব কমে যায়, এরকম একটি ধারণা প্রচলিত আছে। তবে আমাদের এ রকম কোনো ধারণা গ্রহণ করা উচিৎ নয়। আত্মতুষ্টিতে না ভুগে আমাদের সামনের দিনগুলোর জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।

সূত্র: ইয়ন

এমএসএ

 

 

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর