যুদ্ধের মধ্যেই ইউক্রেনের পার্লামেন্টে পোলিশ প্রেসিডেন্টের ভাষণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ২২ মে ২০২২, ১০:৫৪ পিএম
যুদ্ধের মধ্যেই ইউক্রেনের পার্লামেন্টে পোলিশ প্রেসিডেন্টের ভাষণ
পোলিশ প্রেসিডেন্ট আন্দ্রেজ ডুদা ও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি (ডানে)

ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ শুরুর হওয়ার পর প্রথম বিদেশী নেতা হিসেবে কিয়েভে দেশটির পার্লামেন্টে ভাষণ দিয়েছেন পোলিশ প্রেসিডেন্ট। রোববার তিনি এ ভাষণ দেন। বর্তমানে তিনি ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েছে অবস্থান করছেন। 

পোলিশ রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা পিএপি জানিয়েছে, ইউক্রেনের পার্লামেন্টে ভাষণ দেয়ার আগে দেশটির এমপিরা পোলিশ প্রেসিডেন্ট আন্দ্রেজ ডুদাকে দাঁড়িয়ে স্বাগত জানান। এ সময় পার্লামেন্টে ভাষণ দেয়ার সুযোগ দেয়ায় ওই এমপিদের ধন্যবাদ দেন ডুদা। এ সময় তিনি বলেন, ‘একটি মুক্ত, স্বাধীন ও গণতান্ত্রিক ইউক্রেনের হৃদয় স্পন্দিত হচ্ছে এ পার্লামেন্টে।’

ইউক্রেনের পার্লামেন্ট মূলত ‘ভারখোভনা রাদা’ নামে পরিচিত। এ দেশটির পার্লামেন্টের বিষয়ে পোলিশ প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘মুক্ত বিশ্বকে মূলত ইউক্রেনের (পার্লামেন্টের) মাধ্যমে বোঝা যায়।’

তিনি বলেন, ‘প্রতিদিন রুশদের অনেক ধ্বংসযজ্ঞ ও মারাত্মক অপরাধ ইউক্রেনীয়রা সহ্য করছে। তারপরেও রাশিয়ান হানাদাররা ইউক্রেনীয়দের মনোবল ভাঙতে পারেনি। তারা এটা পারবেও না। বিশ্বাস করেন, তারা এখানে সফল হবে না।’

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি পোলিশ প্রেসিডেন্টের ভাষণকে ‘ঐতিহাসিক মুহূর্ত’ বলে অভিহিত করেছেন। এ সময় জেলেনস্কি বলেন, ’রুশ আগ্রাসনের মাধ্যমে পোল্যান্ড ও ইউক্রেনের মধ্যে শক্তিশালী রক্তের সম্পর্ক গড়ে উঠেছে।’

এর আগে রাশিয়া- ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধ করার জন্য কূটনীতিক পদক্ষেপের ওপর জোর দিয়েছেন জেলেনস্কি। তিনি বলেছেন, ‘একমাত্র কূটনীতিক পদক্ষেপের মাধ্যমে এ যুদ্ধের অবসান হবে।’ কারণ বর্তমানে চলমান এ যুদ্ধে ইউক্রেনে অনেক ক্ষয়-ক্ষতি হচ্ছে। যুদ্ধের কারণে ৬৩ লাখের বেশি উক্রেনীয় অন্য দেশে পালিয়ে গেছেন। অনেক শিশুও এ যুদ্ধে নিহত হয়েছে। এ বিষয়ে ইউক্রেনের প্রসিকিউটর জেনারেলের অফিস থেকে জানানো হয়েছে, ‘ইউক্রেনের বিভিন্ন অঞ্চলে রুশ হামলায় কমপক্ষে ২৩১ শিশু নিহত ও ৪২৭ জন আহত হয়েছে। দোনেৎস্ক, কিয়েভ ও খারকিভ অঞ্চলে চালানো হামলায় বেশিরভাগ শিশু নিহত হয়েছে।’

জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, ইউক্রেনে চলমান যুদ্ধে অন্তত ৩,৮৮৩ জন নিহত এবং ৪ হাজার ৩৫১ জন আহত হয়েছেন। কিন্তু, প্রকৃত হতাহতের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে।

জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা জানিয়েছে, ‘ইউক্রেনে ৭৭ লাখের বেশি মানুষ অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।‘

এদিকে ইউক্রেনীয় সেনাদের শেষ দলটি আত্মসমর্পণ করার পর অবরুদ্ধ মারিউপোল শহরে বিজয় ঘোষণা করেছে রাশিয়া।

শহরটির ইস্পাত কারখানায় লুকিয়ে থাকা ইউক্রেনের যোদ্ধারা কয়েক সপ্তাহ ধরে রাশিয়ার বাহিনীর সঙ্গে লড়াই করেছে। এ সপ্তাহের গোড়ার দিকে অবশ্য ইউক্রেনের কর্মকর্তারা যোদ্ধাদের জীবন রক্ষার জন্য আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেন।

অ্যাজভস্ট্যাল ইস্পাত কারখানা থেকে ঠিক কতজন নিরাপদে বেরিয়ে আসতে পেরেছেন সে সংখ্যা পরিস্কার নয়। তবে রুশ প্রতিরক্ষামন্ত্রীর মতে, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ইউক্রেনের প্রায় ২,০০০ সৈন্য আত্মসমর্পণ করেছে। ইউক্রেনের আজভ রেজিমেন্টের কমান্ডার বলেছেন, যুদ্ধক্ষেত্র থেকে লাশ সরিয়ে নেওয়ার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

এ বিষয়ে রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইউক্রেনীয় যোদ্ধারা চলে যাওয়ার পর ওই শহর ও ইস্পাত কারখানা এখন 'পুরোপুরি মুক্ত' করা হয়েছে।

সূত্র : আল-জাজিরা, বিবিসি

এমইউ