জ্ঞানবাপী মসজিদের পর কুতুব মিনারকে টার্গেট করল হিন্দুত্ববাদীরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ২২ মে ২০২২, ০৯:৪৫ পিএম
জ্ঞানবাপী মসজিদের পর কুতুব মিনারকে টার্গেট করল হিন্দুত্ববাদীরা
কুতুব মিনার

ভারতে জ্ঞানবাপী মসজিদের পর কুতুব মিনারকে টার্গেট করেছে হিন্দুত্ববাদীরা। তারা দাবি করেছে এ ঐতিহাসিক নিদর্শনটি কুতুবুদ্দিন আইবেক নির্মাণ করেননি। এটা এক ভারতীয় হিন্দু রাজা নির্মাণ করেছেন। এ বিষয়টি পরীক্ষার জন্য তারা ভারতীয় কর্তৃপক্ষকে আহ্বান জানিয়েছেন। শনিবার ওই আবেদনে সাড়াও দিয়েছে তারা।

ভারতীয় গণমাধ্যম আনন্দবাজার পত্রিকার প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, হিন্দু দেবতার বিগ্রহ বা মূর্তি উদ্ধার হওয়ার পর কিছু দিন ধরেই দাবি করা হচ্ছে দিল্লির কুতুব মিনার আসলে হিন্দুরাজা বিক্রমাদিত্য নির্মাণ করেছিলেন। এমন পরিস্থিতিতে ভারতের কেন্দ্রীয় সস্কৃতি মন্ত্রণালয় দেশটির পুরাতাত্ত্বিক সার্ভে বিভাগকে (এএসআই) বিষয়টি সমীক্ষা করে দেখতে খননের নির্দেশ দিয়েছে।

ভারতের সংস্কৃতি সচিব গোবিন্দমোহন শনিবার কুতুব মিনার এলাকা পরিদর্শনের পর এএসআইকে খননের নির্দেশ দেন। তিনি তিন জন ইতিহাসবিদ, এএসআইয়ের চার কর্মকর্তা ও কয়েকজন গবেষককে নিয়ে ওই কুতুব মিনারের চত্বর পরিদর্শন করেন। খনন ও সমীক্ষার পর তার রিপোর্ট মন্ত্রণালয়ে জমা দিতে বলা হয়েছে। মিনারের দক্ষিণ অংশে মসজিদ থেকে ১৫ মিটার দূরে ওই খনন শুরু হতে পারে বলে খবর পাওয়া গেছে। এ এসআইয়ের কর্মকর্তারা জানান, ‘১৯৯১ সালের পর এ কুতুব মিনার চত্বরে কোনো খননকাজ হয়নি।’

এ বিতর্কের সূত্রপাত হয় এএসআইয়ের প্রাক্তন আঞ্চলিক পরিচালক ধর্মবীর শর্মার একটি মন্তব্যকে ঘিরে। তিনি জানিয়েছিলেন, সূর্যের গতিবিধি পর্যবেক্ষণের জন্য ওই কুতুব মিনার নির্মাণ করিয়েছিলেন রাজা বিক্রমাদিত্য। কুতুবুদ্দিন আইবেক এটা নির্মাণ করেননি।

এর আগে বিশ্ব হিন্দু পরিষদের মুখপাত্র বিনোদ বনশল দাবি করেছিলেন, কুতুব মিনারের প্রকৃত নাম বিষ্ণু স্তম্ভ। ওই মিনার তৈরিতে ব্যবহার করা হয়েছিল ২৭টি হিন্দু ও জৈন মন্দিরের ধ্বংসাবশেষ থেকে নেওয়া নির্মাণ সামগ্রী। 

কুতুব মিনারের ভেতর থেকে ১২০০ বছরের পুরনো নৃসিংহ, গণেশ, কৃষ্ণের মূর্তি উদ্ধারের পর, মিনারের নাম পরিবর্তন করে বিষ্ণু স্তম্ভ করার দাবি জানিয়েছে হিন্দুত্ববাদী বিভিন্ন গোষ্ঠী। এ নিয়ে তারা বিক্ষোভও করেছে।

এ ঘটনার আগে উত্তরপ্রদেশের জ্ঞানবাপী মসজিদ অতীতে মন্দির ছিল বলে অনুসন্ধান চালানোর আবেদন জানায় হিন্দুত্ববাদীরা। আদালত সেখানে পর্যবেক্ষণের আদেশ দেয়। পর্যবেক্ষণের সময় অনুসন্ধানকারীরা সেখানে শিবলিঙ্গ পাওয়ার দাবি করেছে। এরপর আদালত মসজিদসহ ওই এলাকা সিলগালা করে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। উত্তরপ্রদেশের বারাণসীর একটি আদালত নির্দেশে এই অনুসন্ধান চালানো হয়। 

পর্যবেক্ষকরা দাবি করেছেন, সমীক্ষার সময় একটি ‘শিবলিঙ্গ’ পাওয়া গিয়েছে মসজিদের একটি জায়গায়। ওই নির্দিষ্ট জায়গা সিল করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বারাণসী আদালত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কৌশল রাজ শর্মাকে ‘এলাকাটি সিল করার এবং এলাকায় কোনো ব্যক্তির প্রবেশ নিষিদ্ধ করার’ নির্দেশ দিয়েছে। 

সূত্র : আনন্দবাজার পত্রিকা, টাইমস অব ইন্ডিয়া

এমইউ