সিরিয়াতে শরণার্থী বসতি স্থাপন করবে তুরস্ক, বিপাকে আসাদ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ২২ মে ২০২২, ০৬:২৪ পিএম
সিরিয়াতে শরণার্থী বসতি স্থাপন করবে তুরস্ক, বিপাকে আসাদ
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান

সিরিয়ার 'নিরাপদ অঞ্চলে' দশ লাখ সিরীয় শরণার্থীর জন্য বসতি স্থাপন করতে চাইছে তুরস্ক। এমন ঘটনায় বিপাকে পড়েছেন সিরিয়ান প্রেসিডেন্ট বাসার আল - আসাদ। এমন তুর্কি পরিকল্পনার নিন্দা করে তা প্রত্যাখ্যান করেছে আসাদ সরকার।

রোববার মিডল ইস্ট মনিটরের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, এ মাসের শুরুর দিকে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান ঘোষণা করেছিলেন যে তার সরকার দেশটিতে থাকা এক মিলিয়ন (১০ লাখ) সিরীয় শরণার্থীকে তাদের দেশে ফিরে যেতে উত্সাহিত করছে। তাদের জন্য উত্তর সিরিয়ায় তুরস্কের দখলকৃত 'নিরাপদ অঞ্চলে' শরণার্থী বসতি স্থাপন করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

আঙ্কারা গ্যারান্টি দিয়েছে যে স্বেচ্ছায় এমন তুর্কি প্রস্তাব গ্রহণকারী সিরীয় শরণার্থীদের পরিবহন, আশ্রয় ও মানবিক সহায়তা প্রদান করা হবে। ওই অঞ্চলে কয়েক হাজার ইটের ঘর তৈরি করেছে তুর্কি সরকার। এছাড়া সেখানে শত শত স্বাস্থ্য কেন্দ্র ও কয়েক ডজন হাসপাতাল নির্মাণ করা হয়েছে। এ 'নিরাপদ অঞ্চলে' ৫০ হাজার কর্মসংস্থানও সৃষ্টি করা হয়েছে। সেখানে যাওয়ার পর ওই সিরীয় শরণার্থীদের একটি স্বাভাবিক জীবন দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে।

গত কয়েক বছরে উত্তর সিরিয়ায় তুরস্কের একাধিক সামরিক অভিযানের পর এ নিরাপদ অঞ্চল প্রস্তুত করা হয়েছে। ওই অভিযানের মাধ্যমে এ অঞ্চল থেকে কুর্দি উগ্রবাদী গোষ্ঠীগুলোকে বিতাড়িত করা হয়েছে। এ অঞ্চলটি এখন তুরস্ক সমর্থিত ও অনুগত সিরিয়ান গোষ্ঠীগুলো দ্বারা পরিচালিত।

সিরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ সপ্তাহে এরদোয়ানের এমন পরিকল্পনার নিন্দা করেছে বলে জানিয়েছে দেশটির সরকারি বার্তা সংস্থা সানা। তারা এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘এরদোয়ানের এমন সস্তা বিবৃতির মাধ্যমে এটা বোঝা গেছে যে তার সরকার এখন সিরিয়ার বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক পদক্ষেপ নেয়া শুরু করেছে। এটা সিরিয়ান ভূমি ও জনগণের ঐক্য বিরুদ্ধে মারাত্মক আঘাত।’

ওই বিবৃতিতে আরো বলা হয়েছে, সিরিয়ান আরব প্রজাতন্ত্রের সরকার এ ধরনের তুর্কি পদক্ষেপগুলোকে প্রত্যাখ্যান করছে। এ ধরনের পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য হলো ঔপনিবেশিকতা... তথাকথিত নিরাপদ অঞ্চলের নামে (কুর্দিদের) জাতিগত নিধন।

সিরিয়ান কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন দেশগুলোকে তুরস্কের ওই পরিকল্পিত প্রকল্পগুলোতে অর্থায়ন না করার এবং আঙ্কারাকে সামগ্রিকভাবে সমর্থন না করার আহ্বান জানিয়েছে।

এখনও পর্যন্ত সিরিয়ার ওই নিরাপদ অঞ্চলে শরণার্থীদের বসতি স্থাপনের বিষয়ে তুরস্কের পরিকল্পনার তেমন কোনো আন্তর্জাতিক সমর্থন নেই। বিশেষ করে আর্থিকভাবে তেমন কোনো সমর্থন পাচ্ছে না তুরস্ক। তবে জার্মানির সাবেক সরকারের আমলে দেশটির কর্তৃপক্ষ তুরস্ককে এ ব্যাপারে সমর্থন দিয়েছিল।

শরণার্থী ইস্যুতে এরদোয়ানের সরকারের বিরুদ্ধে তুরস্কের বিরোধী দলগুলোর আক্রমণ প্রতিরোধ করার জন্য এমন পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। মূলত, এ প্রকল্পটি শুরু করতে বাধ্য হয়েছেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট। কারণ, দেশটিতে ৪০ লাখের বেশি শরণার্থীর উপস্থিতি তুর্কি সমাজের মধ্যে ক্রমবর্ধমান অসন্তোষ সৃষ্টি করেছে। 

সূত্র : মিডল ইস্ট মনিটর

এমইউ