খাদ্য ঘাটতি মেটাতে কৃষিকাজে ঝুঁকছে দক্ষিণ সুদানের যুবকরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ২২ মে ২০২২, ১০:৪৪ এএম
খাদ্য ঘাটতি মেটাতে কৃষিকাজে ঝুঁকছে দক্ষিণ সুদানের যুবকরা
ছবি: সংগৃহীত

বছরের পর বছর ধরে চলা সংঘাত এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে মধ্য আফ্রিকার দেশ দক্ষিণ সুদানে চলছে খাদ্য সংকট। সংকট উত্তরণে এবার কৃষিকাজে মনোনিবেশ করছেন দক্ষিণ সুদানের যুবকরা।

স্থলবেষ্টিত দেশটিতে রয়েছে অগাধ খনিজ সম্পদ। কিন্তু যথেষ্ট পরিমাণে তেলের মজুদ থাকা সত্ত্বেও, প্রায় ৮.৩ মিলিয়ন মানুষের দেশে রয়েছে দুর্ভিক্ষের ঝুঁকি। দেশটি উগান্ডা এবং কেনিয়া থেকে চাহিদার ৮০ শতাংশ খাদ্য সামগ্রী আমদানি করে। এমতাবস্থায় এগিয়ে এসেছে দেশটির তরুণরা, নতুন নতুন কৃষি উদ্যোগ দেশটিকে খাদ্য সংকট উত্তরণের আশা জাগাচ্ছে।

দক্ষিণ সুদানের তরুণ জয় লাডু। উবুন্টু ফার্ম নামক কৃষি উদ্যোগের প্রতিষ্ঠাতা তিনি, একই সাথে ফার্মটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক তিনি। দেশীয় শাক-সবজির উৎপাদন এবং বিপণনের মাধ্যমে দক্ষিণ সুদানের খাদ্য ঘাটতি মোকাবেলার চেষ্টা করছে তার প্রতিষ্ঠান।

SUDAN FARMING
দক্ষিণ সুদানে চাষ হচ্ছে কলাসহ বিভিন্ন ধরণের সহজলভ্য ফল। ছবি: আনাদোলু এজেন্সি।

কৃষি উৎপাদনে অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে তিনি জানান, ‘‘কেনিয়া থেকে খাদ্য সামগ্রী আনতেন ট্রাক চালকদের ধর্মঘটের কারণে গত বছর যখন সীমান্ত বন্ধ করা হয়েছিল, তখন দেশে খাবারের দাম আকাশচুম্বী হয়েছিল। আমি বুঝতে পেরেছিলাম যে অনেক পরিবার খাবার পেতে লড়াই করছে। এটিই আমাকে দক্ষিণ সুদানে খাদ্য উৎপাদনের জন্য আমার খামার স্থাপন করতে বাধ্য করেছে এবং এটি আমাদের জনগণকে আমদানি করা খাবারের জন্য কষ্ট পাওয়া থেকে বিরত থাকতে সাহায্য করবে।’’ খাদ্য আমদানির উপর দেশের অতিরিক্ত নির্ভরতা কমাতে তরুণদের কঠোর পরিশ্রম করার আহ্বান জানান জয়।

তেল সমৃদ্ধ নীল অঞ্চলে কৃষি উৎপাদনে যুক্ত হয়েছেন আরেক সুদানি তরুণ টিওপ পল, তার প্রতিষ্ঠানের নাম গ্রিন ফার্মস। তার ফসল ফলানোর প্রচেষ্টায় অঞ্চলটিতে খাদ্যের প্রাপ্যতা ক্রমশ সহজলভ্য হচ্ছে।

তিনি জানান, ‘‘২০১৯ সালে, আমরা প্রায় ৬ হাজার টন খাদ্য উত্পাদন করতে সক্ষম হয়েছি, যা আমরা স্থানীয় সম্প্রদায়কে সরবরাহ করেছি। রাজনৈতিক সংকটের কারণে আমাদের বাজার গত বছর ব্যাহত হয়েছিল।’’

খাদ্য উৎপাদনকে উৎসাহিত করার জন্য শান্তি ও নিরাপত্তা পুনরুদ্ধার করা গুরুত্বপূর্ণ বলে মত দিয়েছেন দক্ষিণ সুদানের বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী কুওল আথিয়ান মাউয়েন। তিনি বলেন, ‘‘আমাদের দক্ষিণ সুদানে খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার সমস্যা রয়েছে। আমাদের অনেক সম্পদ থাকা সত্ত্বেও দক্ষিণ সুদানে খাদ্যের অভাবের জন্য আমাদের নিজেদেরকেই দায়ী করতে হবে। আমাদের প্রথম যে জিনিসটি স্থাপন করতে হবে তা হল নিরাপত্তা। দ্বিতীয় বিষয় হল একটি ভালো সড়ক নেটওয়ার্ক, কিন্তু গ্রামীণ এলাকাগুলোকে বাজারের সাথে যুক্ত করার জন্য দক্ষিণ সুদানে কোনো সড়ক নেটওয়ার্ক নেই।’’

১৯৯৯ সালে, অবিভক্ত সুদানের সরকার কৃষি উৎপাদন কমিয়ে তেল উত্তোলনের দিকে মনোনিবেশ করে। এরপর তেল উত্তোলন এবং দীর্ঘদিন ধরে চলমান গোষ্ঠীগত সংঘাত দেশটির অবস্থা নাজুক করে তোলে। দেশটিতে ভয়াবহ খাদ্যাভাব বয়ে আনে সংঘাত।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি।

টিএম